উত্তরবঙ্গে আলুর বাজারে ধস দুশ্চিন্তায় কৃষক-ব্যবসায়ীরা

ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি (উত্তরাঞ্চল) ॥ 

উত্তরাঞ্চলের রংপুর বিভাগে প্রচুর পরিমাণে আলু উৎপাদন করে থাকে কৃষকরা। এসব আলু থেকে অধিক লাভের আশায় বিভাগের প্রায় ১৫০টি হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করেছে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। গত মৌসুমের সংরক্ষিত আলু সম্প্রতি দামে ধস নেমেছে। ফলে কোটি টাকা লোকসানের আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় পড়েছে আলু চাষী ও ব্যবসায়ীরা। 
জানা যায়, গাইবান্ধার ধাপেরহাটের আরভি কোল্ড স্টোরেজ ও রংপুরের বিভিন্ন কোল্ড স্টোরেজে প্রচুর পরিমাণে আলু সংরক্ষণ করেছে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। এরই মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলে বন্যার কারণে মজুদকৃত আলুগুলো রপ্তানি করা সম্ভব হয়নি। ফলে ক্রেতা নেই হিমাগারে। এ কারণে আলুর বস্তা উত্তোলনে আগ্রহ নেই কৃষক-ব্যবসায়ীদের। 
গত বছরে করোনাকালীন সময়ে আলুর ব্যাপক চাহিদা থাকায় বাজার দাম নিয়ন্ত্রণে হিমসিম খেয়েছিল সরকার। এ কারণে ব্যাপক লাভবান হয়েছিলেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। তাই অধিক লাভের আশায় গতবছর রংপুর বিভাগের অন্যান্য জেলার ন্যায় গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় ব্যাপক আলু চাষে ঝুঁকে পড়েছিলেন কৃষকরা। ফলনও হয়েছিল বাম্পার। যার ফলে অল্প দিনেই হিমাগারগুলো আলুতে পরিপূর্ণ হয়। সেই সময়ে অনেক চাষি হিমাগারে আলু না রাখতে পেরে বাড়িতেই সংরক্ষণ করেছেন। বর্তমানে ওইসব আলু মজুদ রয়েছে হিমাগারগুলোতে। কিন্তু নেই ক্রেতা। ফলে ধস নেমেছে আলুর বাজারে। 
সরেজমিনে রোববার গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার একমাত্র হিমাগার ধাপেরহাট আরভি কোল্ড স্টোরেজে গিয়ে জানা যায়, চলতি বছর এ স্টোরে ৬০ কেজি ওজনের ১ লাখ ২৫ হাজার বস্তা আলু মজুদ করেছে ব্যবসায়ী ও কৃষকরা। ব্যবসায়ীরা সংরক্ষণের জন্য ১২ টাকা কেজি দামে আলু কিনেছেন। ৬০ কেজি ওজনের একটি বস্তায় ৭২০ টাকার আলু, স্টোর ভাড়া ২২০ টাকা, খালি বস্তার মূল্য ৮০ টাকাসহ এক বস্তা আলু রাখতে খরচ হয়েছে সর্বমোট এক হাজার ২০ টাকা। আর বর্তমান বাজারে এক বস্তা আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকায়। যা খরচের অর্ধেক প্রায়। 
আলু চাষি ও ব্যবসায়ী আনারুল, হুমায়ুন ও ময়নুলসহ আরও অনেকে জানায়, এ বছর আলুর বাজার ধস নামায় কোটি টাকা লোকসানের আশঙ্কা করা হচ্ছে। বন্যার কারণে দক্ষিণাঞ্চলে ক্রেতা কম। তাই আলুর ট্রাক পাঠাতে পারছেন না। অবিক্রিত অবস্থায় হাজার হাজার বস্তা আলু নিয়ে মহাবিপাকে পরছে তারা। বড় ধরনের লোকসান পুষিয়ে দিতে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত আলু চাষি ও ব্যবসায়ীরা। 
গাইবান্ধার ধাপেরহাট আরভি কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপক হামিদুল ইসলাম জানান, গতবছর এ সময়ে স্টোর থেকে প্রায় মজুদের অর্ধেক আলু ডেলিভারি দিয়েছি। কিন্তু এ বছর আমরা মোট মজুদের ৪ ভাগের এক ভাগ আলুও ডেলিভারি দিতে পারিনি। বাজারে মূল্য কম থাকায় ব্যবসায়ী ও কৃষকরা তাদের মজুদ রাখা আলুর বস্তা বের করছেন না। অনেক ব্যবসায়ী বস্তা প্রতি ৩০০ টাকা করে লোন গ্রহণ করেছেন। যা সুদে-আসলে ৩১৭ টাকা পরিশোধ সাপেক্ষে স্টোর থেকে আলু বের করতে হবে। কিন্তু, বিধিবাম বর্তমান বাজার দরে আলু বিক্রি করে ব্যবসায়ীদের কাক্সিক্ষত মূল্যই আসছে না। তার ওপর ঋণের বোঝা। 
তিনি আরও বলেন, গতবছর এ সময় আলুর বাজার চড়া হওয়ায় আলু মনিটরিং কমিটি গঠন করে সরকার নির্ধারিত মূল্য ২৫ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি হয়েছে। কিন্তু এবারে ১০ টাকা কেজিও বিক্রি হচ্ছে না। 
 

You May Also Like