বাগদার বিকল্প ভেনামীর উৎপাদন ২০ গুণ বেশি

আমিষ ডেস্ক ॥ 

বাগদা চিংড়ির বিকল্প ভেনামি চিংড়ি। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এই ভেনামি চিংড়ি চাষে ব্যাপক সফলতা এসেছে। যা বাগদার চেয়ে ২০ গুণ বেশি উৎপাদন হচ্ছে। দেশে পরীক্ষামূলকভাবে এ চিংড়ির চাষ শুরু হলেও এখনো বাণিজ্যিকভাবে ভেনামি চাষের অনুমতি মেলেনি। দ্রুত এই অনুমোদন দেয়ার দাবি সংশ্লিষ্টদের। 

বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশনের এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে বাগদা চিংড়ির গড় উৎপাদন হেক্টর প্রতি মাত্র ৩৪১ কেজি। অথচ ভারতে ভেনামি চিংড়ির হেক্টর প্রতি উৎপাদন সাত হাজার ১০২ কেজি। অর্থাৎ বাগদার তুলনায় ভেনামির উৎপাদন হেক্টর প্রতি ছয় হাজার ৭৬১ কেজি, যা ২০ গুণ বেশি। বাংলাদেশের চাষিরাও এ চাষে সফল হবেন বলে মনে করেন দেশের প্রথম পরীক্ষামূলক ভেনামি চিংড়ি চাষি। 

দেশের প্রথম ভেনামি চিংড়ি চাষি শ্যামল দাস বলেন, আমাদের দেশের চাষিরা অনেক ক্ষেত্রে অনেক সফলতা দেখিয়েছেন এটাতেও তারা পারবেন। এ যেন সাদা সোনা, জাল তুললেই ঝিকিমিকি এক আলোর ঝলকানি। প্রথম ভেনামি চিংড়ি চাষেই আগামীর সোনালি দিনের উজ্জ্বল স্বপ্ন দেখছেন চাষিরা। 

উন্নয়নশীল দেশগুলো এ চিংড়ি চাষ করে রফতানি করে অনেক বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। দেশের রপ্তানিকারকরাও তাই এ চিংড়ির বাণিজ্যিক উৎপাদনের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছেন। চিংড়ি রফতানিকারক এমএ হাসান পান্না বলেন, ইউরোপের মার্কেটে এর চাহিদা বেশি। এটার চাষে উৎপাদন খরচটা কম। অন্যান্য দেশ কম দামে রফতানি করতে পারছে। চিংড়ি রফতানিকারক খলিলুল্লাহ বলেন, যতগুলো দেশ ভেনামি চিংড়ি চায় করে, ১৫টার মধ্যে ১৪টা দেশ করে। এমনকি সউদী আরবও করে কিন্তু আমাদের দেশে কি হয়েছে আমরা জানি না। তবে কবে নাগাদ বাণিজ্যিকভাবে চিংড়ি চাষের অনুমোদন মিলবে সেটি সুর্নিদিষ্ট করে বলতে পারেননি মৎস্য অধিদফতরের কর্মকর্তারা। 

এ প্রসঙ্গে খুলনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয়দেব পাল বলেন, বেসরকারিভাবে রফতানি করার কোনো অনুমোদন নেই। এটাতে তো পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যাপার আছে। এটাতে মূলত সরকারি সিদ্ধান্তের ব্যাপার আছে। খুলনার পাইকগাছায় পরীক্ষামূলক ভেনামি চাষে এসেছে সফলতা। বাণিজ্যিকভাবে অনুমোদন মিললে চিংড়ি চাষে ও রফতানি করে খুলনাসহ দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল অর্থনৈতিকভাবে আরো সুদৃঢ় হবে। 
 

You May Also Like