বন্ধ ৪০ অস্তিত্বহীন চাল কল থেকেই চাল সংগ্রহ গুদামে

  • Posted on 10-09-2021 11:28:11
  • National

বদরগঞ্জ থেকে সংবাদাতা॥ 

রংপুরের বদরগঞ্জে প্রায় ৪০টি অস্তিত্বহীন ও বন্ধ চালকল থেকেই খাদ্যগুদামে সংগ্রহ করা হলো বোরো চাল। অভিযোগ উঠেছে, চাল নেওয়ার সময় সুযোগ বুঝে এ সব বন্ধ চালকল মালিকদের কাছ থেকে প্রতি বস্তায় ২০ টাকা করে ঘুষ নিয়েছেন খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি এলএসডি) আশরাফুল ইসলাম। 
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় বোরে মৌসুমে ৫৪টি চালকলের বিপরীতে ২ হাজার ১৩ টন চাল বরাদ্দ পাওয়া যায়। এর মধ্যে একমাত্র অয়ন চালকল মালিকের সঙ্গে চুক্তি করা হয়নি। ফলে ওই চালকলের নামে বরাদ্দ ১৩ টন চাল বাতিল করা হয়। এ ছাড়া ৫৩টি চালকলের মালিকের সঙ্গে ৯ মে চুক্তি করে স্থানীয় খাদ্য বিভাগ। ১০ মে ৪০ টাকা কেজি দরে চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়; চলে ৩১ আগষ্ট পর্যন্ত। 
খাদ্যগুদামে চাল সরবরাহের নীতিমালা অনুযায়ী চালকল মালিকদের সঙ্গে চুক্তি করার আগে খাদ্যনিয়ন্ত্রকের দেখার কথা চালকল সচল, আলাদা চাতাল, হাউস, বয়লার ও গুদাম ঘর আছে কিনা। কিন্তু এসব না দেখেই এ উপজেলায় ৫৩টি চালকলের মালিকের সঙ্গে চুক্তি করে চাল সংগ্রহ করা হয়। 

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের একজন কর্মচারী বলেন, পাঁচ মাস আগে অতিরিক্তদায়িত্ব পেয়ে তারাগঞ্জের খাদ্য নিয়ন্ত্রক তরিকুল ইসলাম চালকলগুলো সার্ভে করেন। করুণ অবস্থা দেখে চুক্তির আগেই তিনি দায়িত্ব ছেড়ে দেন। এরপর মিঠাপুরের খাদ্য নিয়ন্ত্রক সোহেল আম্মেদ দায়িত্ব পেয়েই ওই সব চালকলের সঙ্গে চুক্তি করেন। চুক্তির পর তিনি চালকলগুলোর করুন অবস্থা দেখে বন্ধ চালকল থেকে চাল না নিতে গুদাম কর্মকর্তাকে কঠোরভাবে নিষেধ করেন। এ কারণে তাঁর এখানে আর থাকা হয়নি। গত মাসে গঙ্গাচড়ার খাদ্য নিয়ন্ত্রক বিপ্লব কুমার সিংহ রায় এখানে অতিরিক্ত দায়িত্ব নিয়েছেন।  
শাহাপুর গ্রামের হায়দার আলী চার বছর আগে একটি চালকলের পাক্ষিক ছাটাই ক্ষমতা ছিল ৮৫ টন। ছাঁটাই ক্ষমতা আর না বাড়লেও তিনি কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে একটি চাতালকে তিনটি চাতাল দেখিয়ে ৯৮টন চাল বরাদ্দ নেন। চুক্তিও করা হয় তিনটি চালকলের সঙ্গে। চালকলগুলোর নাম সমীক, মোর্শেদা ও শাহানাজ। ৩১ আগষ্টের মধ্যে হায়দার আলী ৯৮ টন চালও সরকারি গুদামে দিয়েছেন। 
রওনক চালকলে ৩৩ টন ৬০০ কেজি ও তছলিমা চালকলে ১৩ টান ৯৫০ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই দুই নামে গুদামে চালও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই চালকল দুটি পাঁচ বছর আগে মুড়ির মিল হিসেবে অন্যের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়। 

বন্যা চালকলে ৩৬ টন, মায়ের দোয়া ২০টন, রশিদে  ১৭ টন, সাগরে ২০ টন, হৃদয়ে ৩৩টন, পারভীনে ৩২ টন, সমিরে ২২টন ও মোরশেদ আলম চালকলে ৩৩ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এসব চাতাল ও হাউসে ঘাস ও জঙ্গলে ঢেকে গেছে। তাঁরা বাইর থেকে চাল কিনে গুদামে দিয়েছেন। 
উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম বলেন আমি চুক্তিবদ্ধ তালিকা অনুযায়ী চাল নিয়েছি। চালকল মালিকেরা কোথায় থেকে চাল এনেছেন তা দেখার দায়িত্ব আমার নয। ঘুস নেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, সুবিধা না পেয়ে দু-একজন নেতা আমার পেছনে লেগে মিথ্যা অভিযোগ করছেন। 
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রাপ্ত) বিপ্লব কুমার সিংহ রায় বলেন, আমি গঙ্গাচড়া খাদ্য নিয়ন্ত্রক। এক মাস আগে সেখানে (বদরগঞ্জ) অতিরিক্ত দায়িত্ব নিয়েছি। এর অনেক আগেই চালকলের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। যদি অনিয়ম হয়ে থাকে তাহলে আগের কর্মকর্তারাই করেছেন। 
তবে চালকলগুলো চুক্তি করেছিলেন মিঠাপুকুরের খাদ্য নিয়ন্ত্রক সোহেল আম্মেদ। তিনি বলেন, আমি সেখানে অতিরিক্ত দায়িত্ব পেয়েই চাল সংগ্রহ শুরু হয়। তাই চালকল ঘুরে দেখার সময় না পেয়েই চুক্তি করি। পরে দেখি চালকগুলোর করুন অবস্থা। বন্ধ চালকল থেকে চাল না নিতে খাদ্যগুদাম কর্মকর্তাকে কঠোরভাবে নিশেধ করি। এ কারণে আমার ওপর অনেকটাই চাপ আসে। তাই অতিরিক্ত দায়িত্ব ছেড়ে দিই। 
গত শনিবার রংপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুল কাদের বলেন “বন্ধ চালকল থেকে চাল নেওয়ার কোন সুযোগ নেই। যদি এমন হয়ে থাকে তাহলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
 

You May Also Like