বাজেট প্রতিক্রিয়া বিদেশিরা বিনিয়োগে আগ্রহী হবে

এফ এইচ আনসারী 
ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এসিআই মোটরস ও এসিআই অ্যাগ্রোলিংক 


প্রতিবছর কৃষি খাতের জন্য যেসব প্রণোদনা দেওয়া হয়, তা এবারও অব্যাহত আছে। যেমন কৃষিযন্ত্রে ভর্তুকিও বহাল রয়েছে, যা কৃষির জন্য খুবই প্রয়োজন। পাশাপাশি এবার কৃষিযন্ত্র আমদানিতে অগ্রিম কর ও উৎপাদনে ভ্যাট তুলে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এটা খুবই সময়োপযোগী প্রস্তাব। কারণ, কৃষিকাজ করার শ্রমিক মিলছে না। তাই আমরা যন্ত্রপাতিনির্ভর কৃষির দিকে এগোচ্ছি। তবে আমরা চাইলেই হঠাৎ সব ধরনের কৃষিযন্ত্র উৎপাদন করতে পারব না, আবার সব আমদানি করতে গেলেও খরচ বেড়ে যাবে। 
কৃষিযন্ত্র আমদানির ক্ষেত্রে অগ্রিম কর তুলে দেওয়াটা ভালো হয়েছে। কারণ, একবার অগ্রিম কর দেওয়ার পর তা সমন্বয় করার সুযোগ না থাকলে ফেরত পাওয়া কঠিন। আবার সব প্রতিষ্ঠানের পক্ষে অগ্রিম কর দেওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না। অনেক সময় অগ্রিম করের চাপ কৃষকের ওপর গিয়ে পড়ে। কারণ, কোম্পানি পণ্যে দাম বাড়িয়ে দেয়। 
দেশে ব্যবহার্য কৃষিযন্ত্রের বড় অংশই আমদানিনির্ভর। আমদানি যন্ত্রপাতিতে কোনো ভ্যাট দিতে হয় না। কিন্তু স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদন করলে ৪ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদিত যন্ত্রের দাম বেড়ে যায়। এবার ওই ৪ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ফলে স্থানীয়ভাবে অনেকেই কৃষিযন্ত্র উৎপাদনে নজর দেবে। বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোও এ দেশে বিনিয়োগের চিন্তা করবে। 
আমাদের নিজস্ব কারখানায় কৃষিযন্ত্র উৎপাদিত হচ্ছে। ছোট-বড় নানা ধরনের যন্ত্র আমরা দেশেই তৈরি করছি। জাপানের ইয়ানমারের সঙ্গে আমরা যৌথভাবে দেশে কম্বাইন্ড হারভেস্টর তৈরির চিন্তা করছি। ভ্যাট প্রত্যাহার হলে ইয়ানমার আরও আগ্রহী হবে, এ দেশে বিনিয়োগ করবে। 
বর্তমানে দেশে প্রায় তিন হাজার প্রতিষ্ঠান কৃষিযন্ত্র আমদানি ও উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত। তারা বগুড়া, সিলেট, হবিগঞ্জ, কুমিল্লা, বগুড়া, কুষ্টিয়া ও ঢাকার জিনজিরায় ছড়িয়ে রয়েছে। তবে কৃষিযন্ত্রের ব্যবসায়ে আমাদের পাশাপাশি মেটাল, এইচআরসি, অটো ইকুইপমেন্ট, র‌্যাংগসসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বৃহৎ আকারে কাজ করছে। 
প্রস্তাবিত বাজেটে তিনটি খাতে সরকারকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানাব। 
প্রথমত: কৃষি গবেষণা ও উদ্ভাবনে জোর দিতে হবে। সরকারি পর্যায়ে কৃষি গবেষণায় বরাদ্দ বাড়াতে হবে। কৃষিতে যেহেতু বেসরকারি খাত নেতৃত্ব দিচ্ছে, সেহেতু তাদের গবেষণার জন্যও তহবিল গঠন করা দরকার। এ তহবিল থেকে তাদের বিনা সুদে ঋণ নেওয়ার সুযোগ থাকবে। দ্রুত জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে। তাই আমাদের কৃষিতেও নতুনত্ব লাগবে, যা গবেষণা ছাড়া সম্ভব নয়। 
দ্বিতীয়ত: অনেক সময় দেখা যায়, ফসল কাটার পর উৎপাদনকারী ভালো দাম পাচ্ছে না। ফলে অনেকে আগ্রহ হারাচ্ছেন। তাঁদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে সরকারি ও বেসরকারিভাবে উদ্যোগ নিতে হবে। বিশেষ করে সবজি ও ফল উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সহায়তা করতে হবে। অনেক সময় ধান-গম উৎপাদকেরাও কম দামে ফসল বিক্রি করে দিচ্ছেন। এ জন্য সরকারের পক্ষ থেকে হিমাগার তৈরি করে দেওয়া যেতে পারে। সরকার আলাদা তহবিলও গঠন করতে পারে। 
তৃতীয়ত: করোনায় অনেক প্রবাসী দেশে ফেরত এসেছেন। আবার রাজধানী ও বিভাগীয় শহর ছেড়ে অনেকে গ্রামে চলে গেছেন। তাই কর্মসংস্থান সৃষ্টিই এখন মূল লক্ষ্য। কাজ হারানো এমন মানুষেরা কৃষিযন্ত্র ও সার-বীজ বিক্রির সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন। আবার কৃষি উৎপাদন ও পশুপাখি পালনের সঙ্গেও যুক্ত হতে পারেন। আমি মনে করি, কাজ হারানো লোকজনকে ছোট আকারে পুঁজির জোগান দেওয়ার জন্য ‘কৃষি উদ্যোক্তা ফাউন্ডেশন’ গড়ে তোলা প্রয়োজন। 
 

You May Also Like