লিচুর বাজার নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিনাজপুরের চাষী ও ব্যবসায়ীরা

  • Posted on 27-05-2021 15:25:50
  • National

দিনাজপুর অফিস ॥ 

লিচুর জন্য সারা দেশে পরিচিত দিনাজপুর জেলা। এ জেলার ১৩ উপজেলাতেই চাষ হয় লিচু। দেশের বিভিন্ন জেলায় লিচুর চাষ হলেও দিনাজপুরের লিচুর কদরই আলাদা। দিনাজপুরের লিচু মানেই অন্যরকম মিষ্টি ও রসালো স্বাদ। দিনাজপুরের লিচু জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যায়। অনন্য স্বাদের দেশসেরা দিনাজপুরের লিচু এখন বাজারে। দিনাজপুর গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে অস্থায়ীভাবে বসানো হয়েছে এ লিচুর বাজার। বেচাকেনা শুরু হলেও গণপরিবহন না চলায় আসতে পারছেন না দূর-দূরান্তের ব্যবসায়ীরা। 
এবার দীর্ঘ অনাবৃষ্টির প্রভাবে দিনাজপুরের লিচুর ফলন কম হওয়ায় এবং নভেল করোনাভাইরাসের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ পরিস্থিতিতে চলমান বিধিনিষেধের কারণে বাজার নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন লিচু চাষী ও বাগানিরা। প্রচন্ড তাপদাহে আশানুরূপ ফলন না হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখে লিচু বাগান মালিক ও আগাম বাগান কেনা ব্যবসায়ীরা। এ অবস্থায় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার আশঙ্কাও কৃষি বিভাগের। 
বিশেষ বৈশিষ্ট্য নিয়ে বিভিন্ন জাতের লিচুর মধ্যে বেদানা, বোম্বাই, মাদ্রাজি, চায়না-থি, কাঁঠালী ও দেশী লিচু এখন গাছে গাছে। বৃষ্টির অভাব ও প্রখর রোদে লিচুর রঙ জ্বলে গেছে, পরিপুষ্টতা সেভাবে হচ্ছে না। এর পরও বাজারে মাদ্রাজি লিচু উঠতে শুরু করেছে। যদিও লিচু প্রকৃতভাবে পাকেনি, তার পরও বাজারে কদরের কমতি নেই। সময়ের আগে বাজারে আসা লিচুর স্বাদ তেমন পাওয়া না গেলেও চাহিদা কম নেই। দিনাজপুর সদর, বিরল, বীরগঞ্জ, চিরিরবন্দর, পার্বতীপুরের অধিকাংশ গাছে এবার ফলন কম। বেদানা ও বোম্বাই লিচুর ফলন একদম নেই বললেই চলে। 
বাগান মালিকরা জানান, এবার সময়মতো বৃষ্টি না হওয়ার কারণে ফলন কম। এ অবস্থায় ভালো ফলনের আশায় গাছে সেচ এবং ফলন বেশি হওয়ার জন্য গাছে ভিটামিন স্প্রে করছে বাগান মালিক-কৃষকরা। 
দিনাজপুর গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানের অস্থায়ী লিচু বাজার। এ বাজারের সততা আড়তের স্বত্বাধিকারী মো. রোস্তম আলী জানান, বর্তমানে বাজারে মাদ্রাজি জাতের লিচুর আমদানি রয়েছে বেশি। বেদানা, কাঁঠালী, চায়না থ্রি ও বোম্বাই লিচু বাজারে আসতে আরো সাত থেকে ১০ দিন সময় লাগবে। বর্তমানে ১০০ মাদ্রাজি লিচু পাইকারি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ২৫০ টাকা দরে। এছাড়া বেদানা ১০০ লিচু আকার অনুযায়ী পাইকারি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং খুচরা ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। 
ঢাকা মিরপুর-১১ থেকে দিনাজপুরের লিচু পাইকারি কিনতে এসেছেন মো. মাসুদ। তিনি জানালেন, এ বছরে লিচুর আমদানি অনেক কম। তিনি শুধু মাদ্রাজি লিচু কিনেছেন। লিচুর আমদানি কম থাকায় তাদের লিচুর বাগান থেকে সরাসরি লিচু সংগ্রহ করতে হচ্ছে। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় তাকে ট্রাকে করে আসতে হয়েছে। এছাড়া ট্রাকের পরিবহন ভাড়াও তুলনামূলক গতবারের চেয়ে বেশি। 
দিনাজপুরের সদর উপজেলার লিচু পল্লী বলে খ্যাত উলিপুরের খায়রুল ইসলামসহ লিচু চাষীরা জানান, আগামী সপ্তাহে লিচু বাজারে পুরোদমে নামবে। এ বছর লিচুর ফলন কম হয়েছে। গাছে মাদ্রাজি লিচুর ফলন থাকলেও বেদানা, কাঁঠালী, চায়না থ্রি, বোম্বাই লিচুর ফলন তুলনামূলক অনেক কম। বাজারে মাদ্রাজি লিচু নামলেও বেদানা ও চায়না থ্রিসহ অন্যান্য জাতের লিচু নামতে আরো দু-এক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে। 
দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক প্রদীপ কুমার গুহ বলেন, বিগত ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে তাপমাত্রা হঠাৎ কম-বেশির তারতম্যে মুকুলের পরিবর্তে গাছে নতুন পাতা আসায় এবার লিচুর ফলন কম হয়েছে। অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে এবার লিচুর আকার বড় হচ্ছে না এবং ফলের যে বর্ণ সেটাও আসতে দেরি হচ্ছে। তাই প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ৩০ শতাংশ ফলন কম হবে বলে জানান তিনি। জেলায় ৫ হাজার ৬০০ হেক্টর জমির বাগান থেকে লিচু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৪৫ হাজার টন। প্রতি বছর এ জেলায় ৪০০-৪৫০ কোটি টাকার বেশি লিচু বেচাকেনা হয়। দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ জানায়, এবার দিনাজপুর জেলায় ছোট-বড় নিয়ে ৫ হাজার ৬০০ হেক্টর জমির বাগান থেকে লিচু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৪৫ হাজার টন। মৌসুমে রাজধানী থেকে আগত লিচু ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন বাগান থেকে সরাসরি প্রতিদিন ২৫-৩০ লাখ লিচু কিনে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠান। 
 

You May Also Like