প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে পিছিয়ে পড়ছে ভেড়ামারা উপজেলা

মোহাম্মদ নুরুজ্জামান ॥ 

ভেড়ামারা প্রানিসম্পদ কর্মকর্তা ডা : এ কে এম ফজলুল হক, যার বিরুদ্ধে হাজারো অভিযোগ। এক দাম্ভিক, অসৎ, দুর্নীতি পরায়ণ কর্মকর্তা যিনি নিজেকে শক্তিশালী এবং ঢাকার ডিএলএসে খুঁটির জোর আছে বলে নিজেকে জাহির করেন।  
সাপ্তাহিক কৃষি ও আমিষ সহ জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় তার বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পরেও বহাল তবিয়তে শুধুমাত্র দুর্নীতির মাধ্যমে তিন বছরের অধিক সময় অতিবাহিত করছেন এই কর্মকর্তা। 
তিনি যতদিন ভেড়ামারা উপজেলা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন তাতে করে একটিও নতুন উদ্যোক্তা তৈরী হয়নি বরং একজন সফল রাষ্ট্রীয় পদক প্রাপ্ত ও মডেল উদ্যোক্তা শাহীনুর রহমানকে হ্যাস্ত ন্যাস্ত করেছেন প্রতিনিয়ত । প্রকল্পের আওতায় পিকআপ ক্রয় বিষয়ে এই জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত উদ্যোক্তার নিকট ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত উৎকোচ চাওয়া হয়েছিল । এতে করে উদ্যোক্তা অভিমানে পিকআপ নিতে অস্বীকৃতি জানান। 
সরকারী ভ্যাকসিনের নির্ধারিত মুল্যের চেয়ে অধিক মুল্যে ভ্যাকসিন বিক্রয়, বরাদ্দপ্রাপত প্রানি চিকিৎসার ঔষধ রাতারাতি শেষ, অফিস আওয়ারে ব্যক্তিগত চিকিৎসায় অহরহ বাইরে যাওয়া এরুপ নানা হাজারো অভিযোগে অভিযুক্ত  
এই এ কে এম ফজলুল হক। এছাড়াও তিনি ছাগল ক্যাস্ট্রেশন করে অফিসের অফিস সহায়ক হিসেবে ৩০ টাকা করে নিচ্ছেন।   
এ ব্যাপারে একজন খামারী জেলা প্রানিসম্পদ কর্মকর্তার নিকট অভিযোগ করলে বিষয়টি তদন্তে সত্যতা স্বীকার করে জেলা প্রানিসম্পদ কর্মকর্তা বলেন, আমি অভিযোগ পাওয়ার সংগে সংগে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসারকে জানাই এবং জানতে পারি টিটি ইনজেকশন বাবদ তারা কোনো একজনের কাছ থেকে  ৩০ টাকা নিয়েছে। অথচ এই অর্থ দিন মাস বছর পর্যন্ত আদায় করা হত অবৈধ ভাবে।  
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ভেড়ামারা কুষ্টিয়ায় সরকারি কোয়ার্টারে কোন ভাড়া ছাড়া তিন বছর ধরে অবস্থান করছেন ডা. ফজলুল হক (ইউ এল ও), ডা.শাহারিয়া (এন এ টি পি  অফিসার) ও মোঃ রফিকুল ইসলাম (পিওন)।  আরো অন্যান্য অনেক সুযোগ-সুবিধা জোট বেঁধে ভোগ করা হচ্ছে সরকারী নিয়ম নীতি উপেক্ষা করে । প্রশিক্ষনের ভাতা  
প্রশিক্ষণার্থীদের খাওয়ার খরচ সবকিছু কাগজ কলমে ঠিক থাকলেও প্রকল্পের নির্ধারিত অর্থ বা খাওয়া খরচ দেওয়া হচ্ছে না। এ ব্যাপারে প্রশিক্ষানার্থীদের সংগে কথা বলে এর সত্যতা পাওয়া গেছে। 
তার অভিযোগের কথা কেবল কুষ্টিয়া জেলা প্রানিসম্পদ কর্মকর্তা নয় সাবেক  মহাপরিচালক আব্দুল জব্বার সিকদারকেও জানানো হয়েছিল। সম্প্রতি পরিচালক সম্প্রসারনও বিষয়টি অবগত হলে কুষ্টিয়া জেলা প্রানিসম্পদ কর্মকর্তাকে এ বিষয় রাষ্ট্রিয় পুরস্কার প্রাপ্ত সফল ও এলাকার রোল মডেল এবং কেন্দ্রীয় কৃষকলীগ নেতা মো: শাহীনুর রহমানের সাথে আলোচনা করার জন্য নির্দেশ দেন। কিন্ত সে গুড়ে বালি , শেকরের পচন বোধহয় গোটা কুষ্টিয়া জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। ভেড়ামারা উপজেলার খামার মালিকগন প্রানিসম্পদ মন্ত্রী ও সচিব মহোদয়ের নিকট অতিসত্তর জেলা প্রানিসম্পদ কর্মকর্তাসহ ভেড়ামারার দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার অপসারন দাবী করছেন এবং এ বিষয় তড়িৎ ব্যবসা গ্রহন না করলে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর উন্নয়নের ধারা ব্যবহত হবে এ অঞ্চলে। 
 

You May Also Like