রুহিয়ায় নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও মুরগীর বিষ্ঠায় মাছ চাষ

রুহিয়া (ঠাকুরগাঁও)  থেকে সংবাদদাতা ॥ 

রাতের আঁধারে মাছের খাদ্য হিসেবে পুকুরে মুরগির বিষ্ঠা (লিটার) ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। মৎস অধিদপ্তর হতে পুকুরে মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও আইন মানছে না মাছ চাষিরা। ফলে একদিকে বৃদ্ধি পাচ্ছে বায়ু দূষণ, পানি দূষণ এবং অপর দিকে স্বাস্থঝুকি। গত রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, রুহিয়া থানাধীন ২১নং ঢোলারহাট ঝলঝলী দুর্গামন্দির সংলগ্ন ৩ একরের পুকুরে ভাসছে মুরগির বিষ্ঠার বস্তা। পুকুরে অতিরিক্ত মাত্রায় বিষ্ঠা ব্যবহারের ফলে পানির রঙ স্বাভাবিকের তুলনায় বিষাক্ত আকার ধারণ করেছে ও অগ্রাসোনিয়া গ্যাস বাহির হচ্ছে। ফলে আশেপাশে চলাচল করা অনেক কষ্টকর। এ বিষয়ে পুকুরঘাট সংলগ্ন চা বিক্রেতা,কীটনাশক ব্যবসায়ী দুলাল চন্দ্র রায় বলেন, পুকুরে মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহার করার ফলে অশেপাশে সমস্ত এলাকা দূর্গন্ধে ভরা ফলে আমাদের পক্ষে ব্যবসা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, দূর্গামন্দিরে এই পুকুরটি ২০১৯ সালে নিলামে ডাক উঠে । শরিফুল ইসলাম দু’বছর পূর্বে ৩ বছরের জন্য এই পুকুরটি ইজারা গ্রহণ করেন। এরপর থেকে সে তার নিজের মত করে মাছ চাষ শুরু করে। মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে মুরগীর কাঁচা বিষ্ঠা। এই পুুকুরের বিষাক্ত মাছগুলো মানুষের অজান্তে দুর-দুরান্ত বাজারে গিয়ে বিক্রি করে থাকে। অন্যদিকে পুকুরের বিপরীত পাশে অবস্থিত ঝলঝলী পুকুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অখিল চন্দ্র রায় জানান,পুকুরে মুরগীর বিষ্ঠা ব্যবহারের ফলে ভেসে আসে দুর্গন্ধ ফলে অফিস ঠিকমত করা যাচ্ছেনা। এ বিষয়ে শরিফুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি প্রথম বছরে কিছু মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহার করেছিলাম, গত বছর ব্যবহার করিনি। ইদানিং ২০ টি শুকনা বিষ্ঠার বস্তা ফেলেছি। তবে বিষ্ঠার বস্তাগুলো কেটে পানিতে এখনো ছিটানো হয়নি।  
পুকুর মালিকের পক্ষে বকুল চন্দ্র রায় জানান, পুকুরে বিষ্ঠা ব্যবহার না করার জন্য আমরা ইতিপূর্বে বাধা প্রদান করেছি, কিন্তু সে বাধা মানছে না। পানির দুর্গন্ধ ও জীবানুর কারনে এবার আমরা আমাদের দুর্গামাতাকে অন্য স্থানে ভাসিয়েছি। এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার সুপো আয়শা আক্তারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, মাছ চাষে মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহার যেন না করে সেই পরামর্শ প্রদান করে আসছি। তারপরও যদি কেউ মাছ চাষে এমন কর্মকান্ড করে থাকে আমরা মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবো।  

You May Also Like