মাটি-গাছে পোড়া গন্ধ দেখা নেই পশুপাখির

সাভার থেকে সংবাদদাতা ॥ 

দর্শনার্থী কেউ এসে প্রথমেই হোঁচট খাবেন। ভাববেন, ইউরোপের কোনো দেশের কোনো ম্যাপল বাগানে এসে পড়েছেন কিনা। চারদিকে সারি সারি হলুদ রঙের গাছ। গাছের নিচে ঝরে আছে হলুদ পাতা। খানিক পরেই তাদের ভুল ভাঙবে। এ তো ম্যাপল নয়, আগুনে ঝলসে যাওয়া গাছ! এই দৃশ্য দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অন্যতম সুন্দর ক্যাম্পাস জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের। গত ৭ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববৈচিত্র্যের জন্য সংরক্ষিত বনভূমির প্রায় ১৫ একর এলাকা ভয়াবহ আগুনে পুড়ে যায়। ওই দিন দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়টির বিজ্ঞান কারখানা, ওয়াজেদ মিঞা বিজ্ঞানাগার, রসায়ন ভবন ও টিএসসির মধ্যবর্তী এলাকাজুড়ে এ অগ্নিকান্ড ঘটে। 
গত ১১ এপ্রিল ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, সবক'টি ছোট গাছ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বড় গাছের গোড়াতে পোড়া চিহ্ন। গাছে কিছু পাতা থাকলেও তা লালচে হয়ে আছে। মরে পড়ে আছে ব্যাঙ, শামুক, টিকটিকি ও গিরগিটি। পুরো এলাকাজুড়েই পোড়া গন্ধ। কোনো গাছের ডালপালায় পাখির দেখা মেলেনি। আশপাশে নেই ব্যাঙ, শিয়াল, গুইসাপ, কাঠবিড়ালি এমনকি গিরগিটিও। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কামরুল হাসান বলেন, ক্যাম্পাসের ভেতরে প্রায়ই এমন আগুনের ঘটনা ঘটে। এতে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হয়। আমরা দেখেছি, বিগত বছরগুলোতেও শীত শেষে এ ধরনের আগুন লাগতে। শীতের শেষে ঝরা পাতার নিচে টিকটিকি, ব্যাঙ, গিরগিটিসহ ছোট অনেক প্রাণী আশ্রয় নেয়। এ ধরনের আগুনের ঘটনায় সব প্রাণী মারা যায়। এই প্রাণীগুলো ছোট হলেও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় তাদের অনেক অবদান রয়েছে। পরিবেশ বিপর্যয়ের মতো এ কাজগুলো কারা করে- আমরা আদৌ তা জানতে পারিনি। 
পুড়ে যাওয়া এলাকায় পশুপাখি না থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, ওই এলাকায় পশুপাখির খাবার নেই। সব পুড়ে গেছে। ঘাস না জন্মানো পর্যন্ত সেখানে পশুপাখি ফিরবে না। তবে আশার বিষয় হচ্ছে, কয়েকদিন আগে অল্প বৃষ্টি হয়েছে। এতে সেখানে দ্রুত ঘাস জন্মাবে। ঘাস জন্মালে পোকামাকড় আসবে। আর তারা মূলত এগুলোই খায়।  
নেই উদ্যোগ :আগে এমন আগুন লাগলেও এটিই সবচেয়ে বড় ঘটনা। ওই দিনের অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বন্যপ্রাণীর আবাস্থল। একই দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেনের অভ্যন্তরেও আগুন লাগে। এতে অনেক বাঁশ, লতাপাতা, বৃক্ষ ও গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ পুড়ে যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংরক্ষিত বনভূমির ১৫ একর জায়গা ভয়াবহ আগুনে পুড়ে ছাই হলেও এখনও কোনো উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। 
জঙ্গল পরিস্কার না করে আগুন : বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা জঙ্গল কেটে পরিস্কার না করে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ বলেন, এস্টেট অফিস বিভিন্ন সময় জঙ্গল পরিস্কার করতে আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটায়। এর আগেও এমন আগুন লেগেছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের ডেপুটি রেজিস্ট্রার আব্দুর রহমান বলেন, ওই দিনের অগ্নিকান্ডের বিষয়ে আমরা এখনও জানতে পারিনি। বিশ্ববিদ্যালয় চালু হলে হয়তো একটা তদন্ত কমিটি হতে পারে। জঙ্গল না কেটে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে পরিস্কার করার বিষয়ে তিনি বলেন, আগুন দিয়ে জঙ্গল পরিস্কার করার বিষয়ে আমাদের কঠোর নিষেধ রয়েছে। কেউ যদি এমন প্রমাণ দেন, তাহলে আমার ব্যবস্থা নেব।  
 

You May Also Like