হালাল খাবারের গুরুত্ব

চলতি রমজানের পঞ্চম তারাবিতে তিলাওয়াত করা হবে সুরা মায়েদার ৮৩ নম্বর আয়াত থেকে সুরা আরাফের ১১ নম্বর আয়াত পর্যন্ত। এ অংশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো হালাল খাবারের প্রতি গুরুত্ব। এ বিষয়টি পঞ্চম তারাবিতে ছয়বার উচ্চারিত হয়। যথা  

এক. হে মুমিনগণ! আল্লাহ তোমাদের জন্য যেসব উৎকৃষ্ট বস্তু হালাল করেছেন তাকে হারাম সাব্যস্ত করো না এবং সীমালঙ্ঘন করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের ভালোবাসেন না। আল্লাহ তোমাদের যে রিজিক দিয়েছেন, তা থেকে হালাল, উৎকৃষ্ট বস্তু খাও এবং যেই আল্লাহর প্রতি তোমরা ইমান রাখো তাকে ভয় করে চলো। (সুরা মায়েদা : ৮৭-৮৮)  
দুই. হে মুমিনগণ! মদ, জুয়া, প্রতিমার বেদি ও লটারির তীর এসবই অপবিত্র, শয়তানি কাজ। সুতরাং এসব পরিহার করো, যাতে তোমরা সফলতা অর্জন করো। শয়তান তো মদ-জুয়া দ্বারা তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষের বীজ বপন করতে চায় এবং চায় তোমাদের আল্লাহর জিকির ও নামাজ থেকে বিরত রাখতে। সুতরাং বলো, তোমরা কি (ওসব জিনিস থেকে) নিবৃত্ত হবে? (সুরা মায়েদা : ৯০-৯১) 
তিন. সুতরাং এমন সব (হালাল) পশু থেকে খাও, যাতে আল্লাহর নাম নেওয়া হয়েছে, যদি তোমরা সত্যিই তার নিদর্শনাবলিতে ইমান রাখো। (সুরা আনআম : ১১৮) 
চার. তোমাদের জন্য এমন কী বাধা আছে, যা দ্বারা তোমরা যেসব পশুতে আল্লাহর নাম নেওয়া হয়েছে তা থেকে খাও না? অথচ তিনি তোমাদের জন্য (সাধারণ অবস্থায়) যা কিছু হারাম করেছেন তা তিনি তোমাদের বিশদভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, তবে তোমরা যা খেতে বাধ্য হয়ে যাও (তার কথা ভিন্ন, হারাম হওয়া সত্ত্বেও তখন তা খাওয়ার অনুমতি থাকে)। বহু লোক কোনো রকমের জ্ঞান ছাড়া (কেবল) নিজেদের খেয়ালখুশির ভিত্তিতে অন্যদের বিপথগামী করে। নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক সীমালঙ্ঘনকারীদের সম্পর্কে সবিশেষ অবহিত। (সুরা আনআম : ১১৯) 

পাঁচ. যে পশুতে আল্লাহর নাম নেওয়া হয়নি, তা থেকে খেয়ো না। এরূপ করা কঠিন গুনাহ। (হে মুসলিমগণ!) শয়তান তার বন্ধুদের তোমাদের সঙ্গে বিতর্ক করার জন্য প্ররোচনা দিতে থাকে। তোমরা যদি তাদের কথামতো চলো, তবে তোমরা অবশ্যই মুশরিক হয়ে যাবে। (সুরা আনআম : ১২১) 
ছয়. (হে নবী! তাদের) বলো, আমার প্রতি যে অহি নাজিল করা হয়েছে, তাতে আমি এমন কোনো জিনিস পাই না, যা কোনো আহারকারীর জন্য হারাম, যদি না তা মৃত জন্তু বা বহমান রক্ত কিংবা শূকরের গোশত হয়। কেননা তা নাপাক। অথবা যদি হয় এমন গুনাহের পশু, যাকে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নামে জবাই করা হয়েছে। হ্যাঁ যে ব্যক্তি বাধ্য হয়ে যায়, আর তার উদ্দেশ্য মজা নেওয়া নয় এবং প্রয়োজনের সীমালঙ্ঘন করে না, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সুরা আনআম : ১৪৫) 

হালাল খাবার গ্রহণ আর হারাম খাবার বর্জন ইসলামের নির্দেশ। তাই একজন ইমানদারের জন্য হালাল খাবার গ্রহণ ও বর্জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধর্মীয় বিধান। হালাল খাবারকে হারাম সাব্যস্ত করার কয়েকটি পর্যায় আছে। এক. কোনো হালাল খাবারকে হারাম বিশ্বাস করা। দুই. কোনো হালাল খাবার বর্জনের শপথ করা। তিন. কোনো হালাল খাবার বর্জনকে সওয়াবের কাজ মনে করা। যদি কোনো ব্যক্তি কোনো হালাল খাবারকে হারাম বিশ্বাস করে তবে সে ইমানহারা হয়ে যাবে। আর যদি কোনো হালাল খাবার বর্জনের শপথ করে তবে তার জন্য এ শপথ ভঙ্গ করে সেই খাবার খাওয়া ওয়াজিব এবং শপথ ভঙ্গের কাফ্ফারা দেওয়া ওয়াজিব। আর যদি কেউ কোনো হালাল খাবারকে হারাম বিশ্বাস করল না কিন্তু তা বর্জন করাকে উত্তম কাজ মনে করল তবে সে নিকৃষ্টতম বিদআতে লিপ্ত হলো।  
মদ ইসলামে হারাম। জুয়ার উপার্জন হারাম। ভাগ্য যাচাইয়ের নামে কিছু মানুষকে বঞ্চিত করে কিছু মানুষকে বেশি দেওয়ার যত পদ্ধতি আছে তা সবই জুয়া। মুসলমানমাত্রকেই এগুলো থেকে কঠোরভাবে বিরত থাকতে হবে। প্রতিমার বেদিতে যেসব খাবার রাখা হয় সেগুলোও মুসলমানদের জন্য হারাম। অনেক মুসলমানকে দেখা যায়, ভিন ধর্মের পূজার প্রসাদ খেয়ে থাকে। এটা মুসলমানদের জন্য হালাল নয়। 

হালাল পশুর গোশত হালাল হওয়ার জন্য অতিরিক্ত তিনটি শর্ত রয়েছে। যথা : ১. পশু জীবিত থাকতে গলার দিক দিয়ে জবাই করা, ২. আল্লাহর নামে জবাই করা অথবা প্রশিক্ষিত শিকারি পশুকে শিকার ধরার জন্য প্রেরণের সময় আল্লাহর নামে প্রেরণ করা ও ৩. জবাইকারী অথবা শিকারি প্রাণী প্রেরণকারী মুসলমান হওয়া। মুসলমানদের জন্য মৃত পশু হারাম। আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নামে জবাই করা পশুও হারাম। জবাইকারী যদি অমুসলিম হয় তাহলে সেই গোশতও হারাম। মোড়কবদ্ধ আমদানি করা গোশত যারা খাচ্ছেন, বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁ কিংবা অনুষ্ঠানে যারা জবাই করা হয় এমন গোশত খাচ্ছেন; একটু সতর্কতার সঙ্গে তিনটি বিষয় নিশ্চিত হবেন। ১. এটা কীসের গোশত? ২. পশুটা কে জবাই করেছিল? ৩. জবাইয়ের সময় ‘বিসমিল্লাহ’ বলা হয়েছিল কি না? 
হালাল খাবার সম্পর্কে সচেতনতা ও সতর্কতা ইমান সম্পর্কে সচেতন ও সতর্ক থাকার প্রমাণ। অতএব, এ বিষয়ে কোনো অলসতা নয়, কোনো অসচেতনতা নয়। 
 

You May Also Like