শাক সবজির বাজার

রোজা আর লকডাউনকে কেন্দ্র করে এবার সবজির বাজারেও আগুন লেগেছে। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে শাক-সবজির দাম। দ্বিতীয় দফায় লকডাউন শুরু হওয়ায় নি¤œ ও মধ্যবিত্ত মানুষ প্রচন্ড সংকটে রয়েছেন। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি ও আর্থিক দূরাবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে তাদেরকে। রোজা ও লকডাউনের সুযোগে শাক-সবজি ব্যবসায়ীরা এবার অতিরিক্ত মুনাফা লুটে নেওয়ার কাজে সম্পৃক্ত হয়েছেন। শাক-সবজির বাজার তপ্ত হয়ে উঠেছে, এটা দেখার কেউ আছে বলে মনে হয় না। শাক-সবজি বাজার মনিটরিং করার সরকারি দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা কেন নিশ্চুপ হয়ে আছেন, তা রহস্যজনক মনে হচ্ছে। 


লকডাউনে পড়ে নি¤œ, কর্মহীন, শ্রমজীবী মানুষ থেকে শুরু করে মধ্যবিত্তরা পর্যন্ত চরম সংকটে রয়েছেন, এটা যেন সরকারের দায়িত্বশীলদের বোধে ঢুকছে না। যদিও তাদের বোধে বিষয়টি ঢুকতো হাতলে শাক-সবজির বাজার নিয়ন্ত্রণে থাকতো। গত শুক্রবার গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে- চাল, ডাল ও তেলসহ নিত্যপন্যের পর এবার সবজির বাজারে আগুন। রমজানকে কেন্দ্র করে শসা, বেগুন, চিচিঙ্গা ও টমেটোসহ বেশিরভাগ সবজির দাম বেড়েছে। দুই-তিনদিনের ব্যবধানে এসব সবজির দাম কেজি প্রতি পাঁচ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন নি¤œ ও মধ্যআয়ের মানুষ। দাম শোনার পর তারা হতাশ। গত শুক্রবারও রাজধানীর বাড্ডা এলাকার কাঁচাবাজারগুলোতে গিয়ে দেখা গেছে, বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজিতে। একই দরে অর্থাৎ ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে শসা ও চিচিঙ্গা। বরবটি বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা কেজিতে। ঢেঁড়স, টমেটো, করলা ও পটল বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজিতে। আর ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে শজনে, শিম ও ধুন্দল। মাঝারি আকারের লাউ প্রতিটি বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়। তবে এর মধ্যে একটু কম দামে বিক্রি হচ্ছে আলু ও পেঁপে এবং কাঁচামরিচ। বাজারে সাদা আলু বিক্রি হচ্ছে ২২ থেকে ২৫ টাকা কেজিতে। পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকায়। এছাড়া ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে কাঁচামরিচ। ব্যবসায়ীরা বলছেন, লকডাউনের কারণে সবজির দাম একটু বেশি। সঙ্গে যোগ হয়েছে রোজা। তাতে দাম একটু বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে ইফতারে ব্যবহৃত সবজির। বেগুনের দাম প্রতি কেজি ৯০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। পটলের দাম ৬০ টাকা বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। 


এদিকে শাক-সবজির দামের পাল্লা দিয়ে ইফতারে ফলমূলের দাম বাড়াতে শুরু করেছে। রাজধানীতে মওসুমি ফল তরমুজ বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ৩৫ বা ৪০ এমনকি ৪৫ টাকায়ও। যদিও এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি ২৫ টাকায় তরমুজ মিলছিল। দাম বাড়ার তালিকায় সম্প্রতি যোগ হয়েছে আরেকটি ফল মাল্টা। এক সপ্তাহ আগে প্রতিকেজি ১৩০ টাকায় বিক্রি হওয়া আমদানি করা মাল্টা এখন ১৫০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। কেউ কেউ ভালো মানের মাল্টা ১৬০ টাকায়ও বিক্রি করছেন। শাক-সবজি ও ফলমূলের দাম বৃদ্ধির পাশপাাশি রোজা শুরু হওয়ার আগে নিত্য পন্যের প্রতিটি জিনিসের দাম ব্যবসায়ীরা বাড়িয়ে দিয়েছে। চাল, ডাল, চিনি, ভোজ্যতেলসহ প্রতিটি নিত্যদ্রব্যেও বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট রোজার মাসে অযৌক্তিকভাবেই নিত্যদ্রব্যেও দাম বাড়েিয় দেয়। সারা মাসে তারা এই কর্মকা- থেকে নিজের নিবৃত্ত রাখেন না এটা যেমন সত্য, ঠিক রোজার মাস এলে তারা মওকা পেয়ে যায় জিনিসপত্রের দাম বাড়ানোর। এ নিয়ে সরকারের যারা বাজার মনিটরিং করেন তারা শীতঘুরে ডুবে থাকেন।বাজারের নিত্যপণ্যেও উর্ধ্বমুখী অবস্থা তাদের মোটেই বিচোলিত করো না। 


করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার কঠোরভাবে লকডাউন কার্যকরে বন্ধপরিকর। এমতাবস্থায় বহু মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। বেসরকারি বহু অফিসের বেতন অনিয়মিত হয়ে পড়েছে, কর্মচ্যূত হয়ে পড়েছেন অনেকে। মানুষের এই আর্থিক দুর্গতির মধ্যে যদি শাক-সবজির বাজার উত্তপ্ত হয়ে পড়ে তাহলে মানুষজন আরো বিপদাপ্নন হয়ে পড়বে। এটা স্বাভাববিক দৃষ্টিতেই বোঝা যায়। সুতরাং শাক-সবজির বাজার যাতে স্থিতিশীল থাকে সেটাই সবার কাম্য হওয়া উচিত। 
 

You May Also Like