পরিবেশ রক্ষায় বনাঞ্চল

  • Posted on 31-03-2021 13:34:45
  • National

সরকার এবার বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিব শতবার্ষিকীর নানা জাতীয় উৎসব অনুষ্ঠান নিয়ে অতিশয় ব্যস্ত থাকায় গত ২১ মার্চ রবিবার আন্তর্জাতিক বন দিবস পালিত হয়েছে প্রায় নীরবে-নিভৃতে। অন্তত এদিন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের কোন কর্মসূচী তেমন দৃশ্যমান ছিল না। অথচ শুধু একটি বা কয়েকটি দেশ নয়, বরং গোটা বিশ্বের প্রকৃতি, পরিবেশ, আবহাওয়া ও জলবায়ু সুরক্ষায় বনের এবং সেই সঙ্গে জীববৈচিত্র্যের ভূমিকা ও গুরুত্ব অপরিসীম। যে কোন দেশের পরিবেশ সুষ্ঠু, সুস্থ, সুন্দর ও স্বাস্থ্যসম্মত রাখার জন্য ভূখন্ডের আয়তন অনুপাতে ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকা আবশ্যক। অথচ বর্তমানে বাংলাদেশে বনভূমি রয়েছে মাত্র ৭-৮ শতাংশ। পরিবেশ ও জলবায়ুর জন্য রীতিমতো যা হুমকিস্বরূপ। দেশে বর্তমানে বনভূমির আয়তন প্রায় ২৩ লাখ হেক্টর, যা মোট ভূখন্ডের মাত্র ১৫.৫৮ শতাংশ। গত ৫০ বছরে দেশের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বনাঞ্চল ধ্বংস হয়ে গেছে। এভাবে বন উজাড় ও বেদখল হতে থাকলে আগামী পাঁচ বছরে বনভূমির পরিমাণ নেমে আসবে মাত্র পাঁচ শতাংশে। বন বিভাগের হিসাবে দেখা যায়, দেশের প্রায় ২ লাখ ৫৭ হাজার একর বনভূমি রয়েছে অবৈধ দখলে। বনের জায়গা দখল ও উৎখাত করে নির্মাণ হয়েছে শিল্প-কারখানা, ইটভাঁটি, পর্যটন কেন্দ্র, কৃষি জমি ও ঘরবাড়ি। এসব নিয়ে রীতিমতো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। এর পেছনে রয়েছে বন বিভাগের তদারকির অভাব, গাফিলতি, ঘুষ, অনিয়ম ও দুর্নীতিসহ বনখেকোদের যোগসাজশ। 
সুন্দরবন একদিকে যেমন বাংলাদেশের গর্ব অন্যদিকে বিশ্ব ঐতিহ্য বা ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের অংশও বটে। আর তাই বার বার সুন্দরবনে আগুন লাগার বিষয়টি উদ্বেগজনক বৈকি। গত বছর এই বনে অন্তত ২৪ বার আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। একটি চক্র শুকনো মৌসুমে বনে আগুন লাগিয়ে প্রশস্ত করে মাছ চাষের পথ। এর পাশাপাশি বনের জায়গা দখল করাও আরেকটি উদ্দেশ্য। কয়েক বছর ধরে এই অপকর্ম চলে এলেও বন বিভাগ থেকে প্রায় কোন ব্যবস্থাই নেয়া হয়নি। এর পাশাপাশি চোরাশিকারিদের বিষটোপ দিয়ে বা ফাঁদ পেতে বাঘ ও হরিণ শিকার তো চলছেই। তাই জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া অত্যাবশ্যক হয়ে পড়েছে। সুন্দরবনের সার্বিক সুরক্ষার জন্য আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য ও জরুরী হয়ে পড়েছে। মনে রাখতে হবে যে, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এই ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলটি বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সুরক্ষাও বটে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে স্মার্ট প্রযুক্তির আওতায় বনজসম্পদ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সুন্দরবনকে সুরক্ষার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি দেশের অন্যান্য বনাঞ্চলের সুরক্ষাসহ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও অনুরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ বাঞ্ছনীয়। 
 

You May Also Like