বিদায়, হে প্রিয় সম্পাদক আতিকউল্লাহ খান মাসুদ

  • Posted on 31-03-2021 13:07:07
  • National

মোয়াজ্জেমুল হক ॥ 

তিনি ছিলেন স্বাধীনচেতা। স্বভাবে ছিলেন অতি রাশভারী। কর্মে ছিলেন সাংঘাতিক পরিশ্রমী। নীতির প্রশ্নে ছিলেন আপোসহীন। ছিলেন একাত্তরের রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বজ্রকণ্ঠের আহ্বানে সাড়া দিয়ে অস্ত্র হাতে সম্মুখসমরে লড়াই করে ছিনিয়ে এনেছেন এদেশের স্বাধীনতা। তাঁর মতো অসংখ্য মুক্তিপাগলের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে এদেশের স্বাধীনতা। জন্ম নিয়েছে পৃথিবীর ভূখন্ডে লাল সবুজের রঙে খচিত পতাকার একটি নতুন দেশ। যার নাম বাংলাদেশ। স্বাধীনতা অর্জনের এ সংগ্রামে জীবনপণকারীদের অন্যতম হলেন আতিকউল্লাহ খান মাসুদ। দৈনিক জনকণ্ঠের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও গ্লোব জনকণ্ঠ শিল্প পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। এক কথায়, এ শিল্পগোষ্ঠীর কর্ণধার। ২২ মার্চ সোমবার সকালে তিনি এই সুন্দর পৃথিবী থেকে আকস্মিক চিরবিদায় নিয়েছেন। 
একাত্তরের এই বীর মুক্তিযোদ্ধা একাত্তর বছর বয়সেই শেষ নিঃশ^াসটি নিলেন। কবির ভাষায়, ‘জন্মিলে মরিতে হয়’ এ অমর বাণী নিয়ে তিনিও মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করলেন। তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় এমন কিছু মিলামিল রয়েছে যা সাধারণত খুব কমই ঘটে। বিদায়! শ্রদ্ধার হে প্রিয় সম্পাদক। অসাধারণ কি সাযুজ্য। এদিন তাঁর প্রিয় পিতা দবির উদ্দিন খানের মৃত্যুবার্ষিকী। আর এদিনটি হলো তাঁরও মৃত্যুদিন। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ ছিল তাঁর জীবনের অবিস্মরণীয় অর্জন। আর ঠিক একাত্তর বছর বয়সে তাঁর মহাপ্রয়াণ। এছাড়া বাঙালীর স্বাধীনতার এই মার্চ মাসে হলো তাঁর জীবনাবসান। যেন অমৃতের মতো স্বাদ নিয়ে তিনি এ জাতি, এদেশ, তাঁর প্রতিষ্ঠিত শিল্পগোষ্ঠী এবং এ গোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িত সাংবাদিক, কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ সকলকে বিদায় জানিয়ে গেলেন। তিনি এখন মহাসিন্ধুর ওপারের বাসিন্দার দলভুক্ত হয়ে গেলেন। 
১৯৯৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তাঁর চিন্তাধারায় প্রসূত হয় দৈনিক জনকণ্ঠ। দেশের সংবাদপত্র জগতে বড় ধরনের ঝাঁকুনি দিয়ে ব্যাপক সাড়া জাগায় জনকণ্ঠ। ১৯৭৫ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলার আকাশ ঢাকা পড়ে যায় কালো মেঘে। মিথ্যার বেসাতিতে প্রকৃত ইতিহাসকে সাগরের অতলে ডুবিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা চলতে থাকে অবিরাম। স্বাধীনতার মূল চেতনার ওপরই আসে আসল আঘাতটি। সে এক সুগভীর ষড়যন্ত্র। পরিস্থিতি এমন হয়ে যায় যে, স্বাধীনতার পক্ষের বিশাল শক্তি নিঃশব্দে শুধু নিঃশ^াসই ফেলেছে। রক্তঝরা বেদনার মতো ছিল ওই নিঃশ^াস। সময় যতই গড়িয়ে যায় বাংলার মীরজাফরদের চেহারা ততই উন্মোচিত হাত থাকে। প্রকৃত ইতিহাস মুছে দেয়ার খেমটানৃত্য এবং খিস্তিখেউর দেশের মানুষ প্রত্যক্ষ করতে থাকে। ’৭৫-এর পর দীর্ঘ আঠারো বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেল মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী ধারায়। রাজনীতির মঞ্চে একের পর এক নতুন নতুন নাটক মঞ্চস্থ হতে থাকল। নতুন প্রজন্ম তাদের আসল শিকড় কী তা-ই ভুলে যেতে বসল। এমনিতর পরিবেশে বীর মুক্তিযোদ্ধা আতিকউল্লাহ খান মাসুদ বৈরী পরিবেশে, দুর্দান্ত সাহসে দৈনিক জনকণ্ঠ প্রকাশ করলেন। অনেকেই ভেবেছিলেন এটিও গতানুগতিক একটি পত্রিকা হবে। কিন্তু তাঁর চিন্তাভাবনা ও নেতৃত্বে দৈনিক জনকণ্ঠ চার রঙের রঙিন চেহারায় দেশের পাঁচ বিভাগীয় শহর থেকে একযোগে প্রকাশিত হতে থাকলে সংবাদপত্রের জগতে সৃষ্টি হয় নতুন ইতিহাস। দেশের মিডিয়া জগতে এটি ছিল একটি মাইলফলক। 
দৈনিক জনকণ্ঠের স্বপ্নদ্রষ্টা আতিকউল্লাহ খান মাসুদ শুরু থেকেই দায়িত্ব নিলেন এ পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে। ব্যতিক্রমধর্মী প্রকাশনা, স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তিকে বলীয়ান করতে ও এগিয়ে নেয়ার প্রয়াসের ফলে জনকণ্ঠ দেশের পাঠক মহলকে ভিন্নভাবে জাগিয়ে তুলতে সক্ষম হয়। এর প্রকাশনা ক্রমাগতভাবে বেড়ে গিয়ে একপর্যায়ে শীর্ষস্থান দখলে নিতে সক্ষম হয়। আহ! কী আনন্দ। কী উন্মাদনা। সম্পাদক আতিকউল্লাহ খান মাসুদ পাঠক মহল এবং স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তিকে নতুন একটি বার্তা দিলেন। আর সেই বার্তার শক্তিতে বলীয়ান হয়ে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তির সরকার প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৬ সালে। এরপর আবার ২০০৯ সাল থেকে অদ্যাবধি। 
বাংলাদেশের মাটিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে জনমত গঠনের ক্ষেত্রেও দৈনিক জনকণ্ঠ ছিল অগ্রণী ভূমিকায়। এই পত্রিকায় প্রকাশিত ‘সেই রাজাকার’ শিরোনামের ধারাবাহিক প্রতিবেদন সারাদেশে ঢেউ তুলেছিল। প্রতিদিনই কোন না কোন রাজাকার নিয়ে প্রকাশিত হতে থাকে রিপোর্ট। পাঠকরাও অধীর অপেক্ষায় থাকতেন পরদিন কোন্ স্বাধীনতাবিরোধীকে নিয়ে প্রতিবেদন আসছে জনকণ্ঠে। পরে ধারাবাহিক প্রতিবেদনগুলো নিয়ে গ্রন্থাকারে বের হয় ‘সেই রাজাকার’ সংকলন, যা পাঠক মহলে ব্যাপক সমাদৃত হয়। 
ক্ষমতা ও অর্থের লোভ তাঁর ছিল না। নিজেকে তৈরি করেছেন নিজেই; তাঁর প্রজ্ঞা, মেধা ও চিন্তাভাবনা দিয়ে। বলা যায় শূন্য থেকে পূর্ণ। সব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তিনিই দিয়ে গেছেন। একেবারে ছোটখাটো ব্যবসা দিয়ে শুরু করে দীর্ঘ সময়ের সংগ্রামী জীবন দিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন গ্লোব-জনকণ্ঠ শিল্প পরিবার। হার না মানা শক্তিতে এবং আপোসহীন মনোভাবে দেশে জঙ্গীবাদ, মৌলবাদ, রাজাকার, স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতসহ সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে নিরলস লড়াই করে আলোচনার পাদপ্রদীপে পৌঁছে যান। দেশের সংবাদপত্র জগতে জনকণ্ঠ একটি নাম, একটি প্রতিষ্ঠান। আর এর শুরু থেকে সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে তিনি বনে গেছেন এর স্বপ্নসারথি। 
গত সোমবার ভোরে তাঁর আকস্মিক প্রয়ান গ্লোব-জনকণ্ঠ শিল্প পরিবারের সকলের জন্য একটি বজ্রাঘাত। বিশেষ করে দৈনিক জনকণ্ঠে কর্মরত সকল সাংবাদিক, কর্মকর্তা, কর্মচারীর জন্য অনাকাংক্ষিত ও অবিশ^াস্য একটি ঘটনাও বটে। মহাসমুদ্রে আকস্মিক দুর্ঘটনায় পতিত জাহাজের কূলহারা নাবিকের মতো। 
নীতির প্রশ্নে আপোসহীনতা জনকণ্ঠের শুধু স্লোগানই নয়। কায়মনোবাক্যে এ নীতিকে উর্ধে রেখে সদ্যপ্রয়াত শ্রদ্ধেয় সম্পাদক আতিকউল্লাহ খান মাসুদ রবিবার রাত ১২টা পর্যন্ত জনকণ্ঠের চালিকাশক্তির নেতৃত্ব দিয়ে গেছেন। শুধু তিনি নন, কেউ ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেননি সোমবার সকালে তিনি মৃত্যুকে আলিঙ্গন করবেন। এখন তিনি আর শুধু জনকণ্ঠ শিল্প পরিবারে নয়, এই পৃথিবীতেই নেই। তবে তিনি গ্লোব-জনকণ্ঠ শিল্প পরিবারে সৃষ্টিশীলতা এবং কর্ম উদ্দীপনার এক মহানায়ক হিসেবে চিরকাল বেঁচেই থাকবেন। 
প্রচারে বিমুখ অনেকটা একরোখা স্বভাবের মানুষ ছিলেন মান্যবর সম্পাদক আতিকউল্লাহ খান মাসুদ। পত্রিকা জগতে তাঁর সৃষ্টিশীলতা এখন অনেকের মাঝে আকর্ষণীয় হয়ে আছে। দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং স্বাধীনতা পরবর্তী নীতিতে তার কোন ব্যত্যয় ঘটেনি। যে কারণে জনকণ্ঠে প্রকাশিত সত্য কিছু ঘটনা প্রকাশের জের হিসেবে তাঁকে জেলও খাটতে হয়েছে। এর পরও তিনি কারও কাছে মাথা নত করেননি। এটাই ছিল মানুষ হিসেবে তাঁর সত্যনিষ্ঠার পক্ষে অসাধারণ একটি উদাহরণ। জীবদ্দশায় তাঁর সকল কর্মকান্ড গোটা বাঙালী জাতিকে অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে গেছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সম্পাদকদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বৈঠকে বলেই দিয়েছিলেন তাঁর দুর্দিনে জনকণ্ঠ ছাড়া আর কেউ ছিল না। এটা ছিল তাঁর জন্য এক মহাপ্রাপ্তি। এ ঘটনাটি তিনি তাঁর অতি কাছের অনেককে জানিয়েছিলেন। এক/এগারোর সরকারের সময় তিনি জেলবন্দী হয়েছিলেন। শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতায় আসার পর তিনি যেদিন জেলমুক্ত হন সেদিনই জননেত্রী শেখ হাসিনা তাকে তাঁর বাস ভবনে ডেকে নিয়ে তাঁর সাহসকে আরও দুর্দমনীয় করে তুলেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে সরকার পরিচালনায় যিনি বা যারাই এসেছেন তাদের তিনি এগিয়ে নিতে সর্বদা সাহস যুগিয়েছেন সত্য প্রকাশের অবিরাম প্রয়াসের মাধ্যমে। 
দেশের অভাবগ্রস্ত অথচ গুণী এমন ব্যক্তিদের মাস মাস নির্ধারিত হারে ভাতা প্রদানের প্রক্রিয়া চালু করে তিনি ইতিহাস সৃষ্টি করে গেছেন। এসব গুণীর কাছে আতিকউল্লাহ খান মাসুদ ছিলেন রীতিমত দেবতুল্য। জনকণ্ঠকে তিনি বড্ড বেশি ভালবাসতেন। যে কারণে তিনি সকাল থেকে সন্ধ্যা এবং সন্ধ্যার পর গভীর রাত অবধি তাঁর চিন্তাচেতনা সর্বদা জনকণ্ঠের ওপর অর্পণ করতেন। যে কারণে জনকণ্ঠের ওপর বহু ঝড়ঝাঁপটা বয়ে গেছে। কিন্তু তাঁর চিন্তাচেতনাকে দমানো যায়নি। জনকণ্ঠের প্রকাশনা স্বাভাবিকভাবে অব্যাহত রাখতে তিনি যে অবিরাম প্রয়াস চালিয়ে গেছেন তা সকলের স্মৃতিতে অম্লান হয়ে থাকবে। স্বাধীনচেতা মান্যবর এ সম্পাদক জনকণ্ঠের সংবাদ কর্মীকে স্বাধীনভাবে কাজ করার যে প্রয়াস দেখিয়ে গেছেন তাও এ পত্রিকার সাবেক ও বর্তমান কর্মীর ক্ষেত্রে বিরল একটি ঘটনা। 
দেশের সংবাদপত্র জগতে আতিকউল্লাহ খান মাসুদের সম্পাদনায় প্রচারে শীর্ষস্থান দখল করে নিয়েছিল। কিন্তু তিনি ছিলেন প্রচারবিমুখ। এ প্রচারবিমুখতা তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের অন্যতম একটি দিক। চলনে-বলনে ছিলেন দারুণ স্মার্ট। গম্ভীর প্রকৃতির হলেও তাঁর শিল্পের সঙ্গে জড়িত সকল সাংবাদিক, কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য ছিল তাঁর আলাদা টান। তবে ব্যতিক্রমীদের জন্য ছিলেন সাংঘাতিক ধরনের। তিনি যা হ্যাঁ বলতেন তা-ই করতেন। যেটা না বলতেন সেটা না-ই হতো। স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির জন্য তিনি সর্বদা হ্যাঁ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে গেছেন। বিশেষ করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নীতি-আদর্শ বাস্তবায়নর সঙ্গে জড়িতদের জন্য তিনি ছিলেন অন্যতম প্রধান একটি শক্তি। 
গত সোমবার তাঁর মৃত্যুর পর দেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পীকার থেকে শুরু করে মন্ত্রীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলরা শোক জানিয়ে তাঁদের বার্তা দিয়েছেন। চট্টগ্রামের জননন্দিত মেয়র চট্টলবীরখ্যাত আলহাজ এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী জনকণ্ঠের সম্পাদককে চট্টগ্রামে নাগরিক সংবর্ধনা দিয়ে সম্মানিত করেছিলন। চট্টলবীরের পুত্র ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বর্তমানে শিক্ষা উপমন্ত্রীর পদে দায়িত্বরত। আতিকউল্লাহ খানের মৃত্যুর পর গত সোমবার এই শিক্ষা উপমন্ত্রী তার ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘২০১০ সালের যে নির্বাচনে আমার বাবা (মহিউদ্দিন চৌধুরী) পরাজিত হলেন তার দুয়েকদিন পরই তিনি গেলেন বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে। অপেক্ষমাণ অবস্থায় হঠাৎ এলেন আতিকউল্লাহ খান মাসুদ। ওয়েটিং রুমে খুবই উৎফুল্ল দু’জনই। নানান ধরনের ভেষজ ওষুধের গুণ নিয়ে আলাপে মত্ত হন তাঁরা। মাঝে দেড় বছর আগে শেষ হওয়া জেল জীবনের নানা স্মৃতির কথা বলছিলেন। আলোচনায় আতিকউল্লাহ খান মাসুদ আমাকে (নওফেল) বললেন, আমি আর তোমার বাবা মহিউদ্দিন চৌধুরী হলাম নেত্রী শেখ হাসিনার মৌলবাদী সমর্থক। কারাগারে ওয়ান-ইলেভেনের কারজাই সরকার অনেক চাপ দিয়েছে। অনেক বাঘা বাঘা নেতা কাবু। কিন্তু আমরা এক মুহূর্তের জন্যও ছাড় দেইনি। জীবনও দেব না। আজ তিনি প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন এতেই আমরা বিজয়ী। দশ বছর উনি ক্ষমতায় থাকলে দেখবে দেশটা একটা শক্ত ভিতের ওপর গিয়ে দাঁড়াবে।’ তিনি (আতিকউল্লাহ খান মাসুদ) আরও বলেছিলেন ‘এ জটিল সমাজ, ভঙ্গুর অর্থনীতি আর রাজনৈতিক মতবিরোধের দেশকে একমাত্র বঙ্গবন্ধুর কন্যার পক্ষেই সম্ভব সবকিছু ম্যানেজ করে একটি অবস্থানে নিয়ে আসা। সেদিনের দু’জনই আজ প্রয়াত। কিন্তু তাঁদের আস্থার সেই মানুষটি নেত্রী শেখ হাসিনা একজন বিশ^নেতা। বাংলাদেশকে তিনি আজ বিশ^বাসীর বিস্ময়ে পরিণত করেছেন। স্বাধীনতার অর্ধশত বছরে, জাতির পিতার জন্মশতবর্ষ উদযাপনের এ সময়ে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তির পক্ষে অবিচল প্রকাশক, মুদ্রাকর, সম্পাদক আতিকউল্লাহ খান মাসুদের চলে যাওয়ায় গভীর শোক প্রকাশ করছি। মহান আল্লাহতায়ালা তাঁকে বেহেশত নসিব করুন।’ 
 

You May Also Like