৩৯ বছর পর নিজস্ব ভবন পাচ্ছে কৃষি বিপণন অধিদফতর

কাওসার আজম ॥ 

কৃষি মন্ত্রণালয়ের আলাদা সংস্থা কৃষি বিপণন অধিদফতর। আলাদা অধিদফতর হলেও নেই নিজস্ব ভবন। রাজধানীর খামার বাড়ির কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের ভেতরে একটি ভবনে এর কার্যক্রম চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। পরিদফতর থেকে অধিদফতর হয়েছে ১৯৮২ সালে। কিন্তু এত দিনেও অধিদফতরের নেই কোনো নিজস্ব জমি বা নিজস্ব ভবন। ৩৯ বছর পর অবশেষে নিজস্ব জায়গায় নিজস্ব ভবন পাচ্ছে কৃষি বিপণন অধিদফতর। 
কৃষি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। 
মূলত কৃষক যে ফসল বা শাকসবজি উৎপাদন করে, যাতে তারা ন্যায্য মূল্য পায় এবং একইসাথে ভোক্তাও না ঠকেন; সে লক্ষ্যেই কাজ করে কৃষি বিপণন অধিদফতর। কৃষক যাতে উৎপাদিত পণ্যের মূল্য পায়, ভোক্তা যাতে সঠিক মূল্যে কিনতে পারে অর্থাৎ কৃষক ও ভোক্তা উভয়েরই স্বার্থরক্ষা বা সমন্বয় করা এই অধিদফতরের কাজ। কৃষি পণ্যের বাজারমূল্যও নির্ধারণ করে দেয় এই সংস্থাটি। অধিদফতরের ওয়েবসাইটে উল্লেখ আছে কৃষি পণ্যের চাহিদা ও জোগান নিরূপণ, মজুদ ও মূল্য পরিস্থিতি বিশ্লেষণ পূর্বক অত্যাবশ্যকীয় কৃষিপণ্যের মূল্য ধারার আগাম প্রক্ষেপণ ও এ বিষয়ে তথ্যব্যবস্থাপনা এবং প্রচার করা; বাজার অবকাঠামো জোরদারকরণ এবং কৃষিপণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ বাজার ব্যবস্থা গড়ে তোলা; আধুনিক সুবিধা সম্বলিত বাজার অবকাঠামো নির্মাণ এবং কৃষিপণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থায় সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ বাজারব্যবস্থা গড়ে তোলা; গুরুত্বপূর্ণ কৃষিপণ্যের গুণগত মান পরিবীক্ষণ, মান নির্ধারণ ও বিপণন সেবা প্রদানে সহায়তা করা; কৃষক বিপণন গ্রুপ/দল গঠন এবং উৎপাদক ও বিক্রেতার সাথে ভোক্তার সংযোগ স্থাপনে সহায়তা দান; কৃষি ব্যবসা ও কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে কৃষি ও কৃষিজাত পণ্যের রফতানি বৃদ্ধিতে সহায়তা করা; কৃষক ও ব্যবসায়ীদের কৃষিপণ্যের গ্রেডিং, সর্টিং, প্যাকেজিং, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান এবং ঋণ ও বিপণন সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে কৃষিপণ্যের মূল্য সংযোজন কার্যক্রম অব্যাহত রাখা কৃষি বিপণন অধিদফতরের কাজ। 
পাকিস্তান আমলে পূর্ব পাকিস্তান সরকার কৃষি, সমবায় এবং ত্রাণ অধিদফতরের অধীনে কৃষি বিপণন পরিদফতরের অনুমোদন দেয়। ১৯৮২ সালে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় পুনর্গঠনের পর এই গুরুত্ব বিবেচনায় এটি উন্নত করে কৃষি বিপণন অধিদফতর করা হয়। রাজধানীর ফার্মগেটে অবস্থিত খামারবাড়িতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের (ডিএই) ভেতরে একটি ভবনে কৃষি মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি অধিদফতরের কার্যক্রম চলে আসছে। 
আলাদা ভবন না থাকায় অধিদফতরের কার্যক্রম পরিচালনায় নানা সমস্যা হচ্ছিল কৃষি বিপণন অধিদফতরের। শেষ পর্যন্ত এই অধিদফতরের জন্য জমি বরাদ্দ করেছে সরকার। ওই জমিতে নিজস্ব ভবন পাচ্ছে কৃষি বিপণন অধিদফতর। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো: মেসবাহুল ইসলামের সভাপতিত্বে কৃষি বিপণন অধিদফতরের নিজস্ব ভবন নির্মাণের জন্য জমি বরাদ্দ নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার কার্যবিবরণী সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ের জাতীয় সংসদ ভবনের পাশে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট চত্বর সংলগ্ন স্থান থেকে সাত হাজার আট শ’ বর্গফুট জমি কৃষি বিপণন অধিদফতরের প্রধান কার্যালয় নির্মাণের জন্য বরাদ্দ প্রদানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। একই সাথে ওই জমিতে কৃষি বিপণন অধিদফতরের জন্য যথাশিগগিরই প্রধান কার্যালয় নির্মাণের নিমিত্ত প্রকল্প প্রস্তাব প্রণয়ন পূর্বক কৃষি মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করার জন্যও অধিদফতরের মহাপরিচালককে দায়িত্ব দেয়া হয়। 
একই বৈঠকে কৃষি বিপণন অধিদফতর বাস্তবায়নাধীন ‘কৃষি বিপণন অধিদফতর জোরদারকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় কৃষি তথ্য সার্ভিস কর্তৃক নির্মাণাধীন ময়মনসিংহ আঞ্চলিক কার্যালয়ের দু’টি ফ্লোরে প্রকল্পের অধীন পানি, বিদ্যুৎ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার সংস্থান রেখে ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ময়মনসিংহে কৃষি বিপণন অধিদফরের অফিস কাম ট্রেনিং সেন্টার ঊর্ধ্বমুখী তথা ওই ভবনের ওপরে আরো দু’টি ফ্লোর নির্মাণেরও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। 
এ বিষয়ে কৃষি বিপণন অধিদফতরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, অধিদফতরের নিজস্ব কোনো জায়গা নেই। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের ভবনে আমাদের কার্যক্রম চলছে দীর্ঘদিন ধরে। অধিদফতরের কার্যক্রম-ব্যাপকতা ক্রমেই বাড়ছে। নিজস্ব ভবন না থাকায় নানা সমস্যা হচ্ছে। এতগুলো লোক এখানে চাকরি করছে, নিজস্ব ভবন থাকা দরকার। আমরা সেই চেষ্টাই করছি। সরকার (কৃষি মন্ত্রণালয়) ভবন করার জন্য বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের জায়গা থেকে বরাদ্দ দিয়েছে। তবে জায়গাটা এখনো মৌখিক, কাগজ-কলমে এখনো হয়নি। ভবন নির্মাণের জন্য ডিপিপি নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি। 
 

You May Also Like