লবণসহিষ্ণু উচ্চ ফলনশীল ৩টি সরিষার প্রজাতি উদ্ভাবন করল বাকৃবি গবেষকরা

মো: আরিফুল ইসলাম বাকৃবি ॥ 

ফল ও ফসলের নতুন নতুন প্রজাতি উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের কৃষিকে সমৃদ্ধ করেছে ময়মনসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)। এবার বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য এবং কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসানের তত্ত্বাবধানে লবণসহিষ্ণু, উচ্চ ফলনশীল ও স্বল্প সময়ে উৎপাদন করা যায় এমন তিনটি সরিষার প্রজাতি উদ্ভাবিত হয়েছে। কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে বাকৃবির উদ্ভাবিত তিনটি সরিষার প্রজাতি হলো বাউ সরিষা-১, বাউ সরিষা-২ ও বাউ সরিষা-৩। উদ্ভাবিত প্রজাতিগুলো ১২ ডেসিসিমেন্স পর্যন্ত লবণ সহনশীল। গত ২২ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের সম্মেলন কক্ষে স্বল্প মেয়াদে লবণসহনশীল জাতের সরিষার বিকাশ শীর্ষক এক কর্মশালায় এসব তথ্য জানানো হয়। গবেষকরা জানান, বাকৃবির উদ্ভাবিত এই তিনটি সরিষার প্রজাতি থেকে লবণাক্ত মাটিতে প্রতি হেক্টরে ২ দশমিক ৫ মেট্রিক টন এবং অন্যান্য মাটিতে প্রতি হেক্টরে ৩ মেট্রিক টন ফলন পাওয়া যাবে। এ ছাড়াও এই প্রজাতিগুলো থেকে ৪০-৪১ শতাংশ তেল পাওয়া যাবে। উদ্ভাবিত প্রজাতিগুলো অলবণাক্ত ও লবণাক্ত উভয় এলাকায় চাষ করা যায় বলে দেশে সরিষা উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। উদ্ভাবিত তিনটি প্রজাতি ইতোমধ্যেই জাতীয় বীজ বোর্ড থেকে নিবন্ধিত হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে বাংলাদেশে ভোজ্যতেলের চাহিদা প্রায় ৫১ দশমিক ২৭ লাখ মেট্রিক টন যার মধ্যে ৪৬ দশমিক ২১ লাখ মেট্রিক টন আমদানি করতে হয়। এর মূল্য প্রায় ২৩ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশে সরিষা, তিল ও সূর্যমুখী থেকেই সাধারণত ভোজ্যতেল উৎপাদন করা হয়। দেশের মানুষ গড়ে প্রতিদিন ২০ থেকে ২২ গ্রাম করে তেল খায়। দেশে মোট ৪ দশমিক ৪৪ লাখ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ করা হয়, যা থেকে ৬ দশমিক ৫ লাখ মেট্রিক টন সরিষা এবং এই সরিষা থেকে ২ দশমিক ৫০ লাখ টন তেল উৎপন্ন হয়। জাতীয় কৃষি প্রযুক্তি প্রকল্পের পিএইচডি প্রোগামের আওতায় বাকৃবি এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএআরআই) যৌথভাবে প্রজাতিগুলো উদ্ভাবনে কাজ করেন। গবেষণায় বাকৃবি উপাচার্য এবং কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসানের তত্ত্বাবধানে প্রধান গবেষক হিসেবে ছিলেন বিএআরইয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. ফেরদৌসী বেগম। এ ছাড়াও সহকারী গবেষক হিসেবে ছিলেন বাকৃবির কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: আশরাফুল হক ও কৃষি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: সিরাজুল ইসলাম এবং বিএআরআইয়ের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. রোজিনা আফরোজ। কর্মশালায় কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক শরীফ আর রাফির সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের কার্যনির্বাহী পরিচালক ড. জীবনকৃষ্ণ বিশ্বাস, কৃষি অনুষদীয় ডিন অধ্যাপক ড. আবদুর রহিম, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা কমিটির সহসমন্বয়ক ড. মো: রফিকুল ইসলাম, বাকৃবি রিসার্চ সিস্টেমের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো: আবু হাদী নুর আলী খান।

You May Also Like