দেশে সামুদ্রিক মাছের প্রজাতির সংখ্যা ৭৪০

ঢাকা অফিস ॥ 

সামুদ্রিক মাছের প্রজাতির প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে দেশের মৎস্যবিদ ও মৎস্য বিজ্ঞানীদের মধ্যে মতভেদ দীর্ঘদিনের। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। এমনকি মৎস্য অধিদপ্তর কর্তৃক প্রকাশিত মৎস্য সংকলনেও মৎস্য প্রজাতির সংখ্যা ৪৭৫ উল্লেখ আছে। 
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ, একোয়াকালচার এন্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. কাজী আহসান হাবীবেব নেতৃত্বে একদল গবেষক সামুদ্রিক মাছের প্রজাতির প্রকৃত সংখ্যা নির্নয় করা জন্য হালনাগাদ তালিকা তৈরীর উদ্যোগ নেন। 
হালনাগাদ তালিকা অনুযায়ী গবেষকদল দাবী করছে দেশে সামুদ্রিক মাছের প্রজাতির সংখ্যা ৭৪০। এ মধ্যে ৫০ প্রজাতির মাছ বিপন্ন অবস্থা, ১০ প্রজাতি মহা বিপন্ন, ১৪ প্রজাতি সংকটাপন্ন ও ২৬ প্রজাতি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। 
অধ্যাপক ড. কাজী আহসান হাবীব গবেষণা সহযোগী হিসেবে মোঃ জায়েদুল ইসলামকে সাথে নিয়ে বিগত কয়েক বছরে পরিচালিত গবেষনা থেকে প্রাপ্ত নতুন রেকর্ডকৃত সামুদ্রিক মাছসহ বিগত ৫০ বছরে দেশী-বিদেশী জার্নালে প্রকাশিত বিভিন্ন গবেষনা প্রবন্ধ, বৈজ্ঞানিক বই ও গবেষনা রিপোর্টসমুহ পর্যালোচনা করে সামুদ্রিক মাছের প্রজাতির হালনাগাদ তালিকাটি তৈরি করেন। হালনাগাদ তালিকা তৈরির এই গবেষণায় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসিএ) কর্তৃক পরিচালিত এনএটিপি-২ প্রকল্প এবং বিএআরসিএ প্রকল্প বাস্তবায়ন ইউনিট সার্বিক সহযোগিতা করে। 
এ ব্যাপারে অধ্যাপক ড. কাজী আহসান হাবীব জানান , দীর্ঘ গবেষণা অনুযায়ী দেশে প্রাপ্ত ৭৪০ প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ রয়েছে। যা ৩০ বর্গের অধীন ১৪৫ গোত্র ও ৩৮৯ গণের অন্তর্ভুক্ত। এদের মধ্যে ৮১ প্রজাতির তরুণাস্থিযুক্ত হাঙ্গর ও রে জাতীয় মাছ এবং ৬৫৯ প্রজাতির অস্থিযুক্ত মাছ রয়েছে। তিনি আরও জানান, তালিকাভুক্ত ৭৪০ প্রজাতির মাছের মধ্যে ৩৯৫ প্রজাতি সবসময় সামুদ্রিক লোনা পানিতে থাকে এবং ৩৪৫ প্রজাতি উপকূলীয় ঈষৎ লোনা ও সামুদ্রিক লোনা পানি উভয় জায়গায় পাওয়া যায়। আবার ১২৪ প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ স্বাদু পানির পরিবেশেও প্রবেশ করে। 

অধ্যাপক ড. কাজী আহসান বলেন, সুন্দরবন ম্যানগ্রোভ অঞ্চলে ২৭১ প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। যার আবাসস্থল সামুদ্রিক লোনা ও ঈষৎ লোনা পানি। সেন্টমার্টিন দ্বীপে ২০৪ প্রজাতি মাছ শনাক্ত করা হয়েছে, যা প্রবাল প্রতিবেশে বসবাস করে। সম্প্রতি তালিকাটি 'বাংলাদেশ জার্নাল অব ফিশারিজ' গবেষণা সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। 
অধ্যাপক ড. কাজী আহসান হাবীব আরও জানান, ১৯৭০ সালে বাংলাদেশে সামুদ্রিক মাছের উপর পাঁচ বছর ধরে পরিচালিত এক জরিপের ফলাফলে ৪৭৫ সংখ্যাটি প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ কর্তৃক ২০০৯ সনে প্রকাশিত এন্সাইক্লোপিডিয়া অব ফ্লোরা এন্ড ফোনা ভলিউম-২৪ (সামুদ্রিক মাছ) ৪০২ প্রজাতির মাছ তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ২০২০ সালে মৎস্য অধিদপ্তর মেরিন ফিশারিজ জরিপ রিপোর্টে দেশের গবেষণা জাহাজ আর ভি মীন সন্ধানী কর্তৃক শনাক্তকৃত ৩৪৩ টি সামুদ্রিক মাছের তালিকা প্রকাশ করে। এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনা দুটি ছাড়াও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশেষত ২০১০ থেকে ২০২০ মধ্যে দেশের সামুদ্রিক জলসীমায় নতুন সনাক্ত হওয়া মাছের উপর বেশ কয়েকটি বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ ও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। 

অধ্যাপক ড. কাজী আহসান হাবীব আশা প্রকাশ করেন, এই হালনাগাদ তালিকা সংশ্লিষ্ট গবেষক, শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী ও অন্যন্য সকলের সামুদ্রিক মাছের বৈচিত্র্য সম্বন্ধে ধারনা পেতে সাহায্য করবে। যা আধুনিক জীববৈচিত্র্য ও শ্রেণিতত্ত্ব জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে এবং ডিএনএ বারকোডিং কৌশল ব্যবহার করলে জলসীমায় আরো নতুন নতুন প্রজাতি পাওয়া সম্ভব বলে এ গবেষক মনে করছেন। যা দেশের সামুদ্রিক মাছের তালিকাকে আরো দীর্ঘ করবে। 
 

You May Also Like