ভুট্টা থেকে আসতে পারে ৪ হাজার কোটি টাকার তেল

টাঙ্গাইল থেকে সংবাদদাতা ॥ 

উন্নত বিশ্বে ভুট্টা থেকে স্টার্চ, ইথানল, জৈব জ্বালানি, তেল উৎপাদনসহ রয়েছে আরো বহুমুখী ব্যবহার। বর্তমানে পৃথিবীর প্রায় ৫২টি দেশে ভুট্টা থেকে উৎকৃষ্ট মানের ভোজ্যতেল উৎপাদিত ও ব্যবহৃত হয়। দেশে বর্তমানে উৎপাদিত ৫৪ লাখ টন ভুট্টা থেকে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টন ভুট্টা তেল প্রতি বছর আহরণ করা সম্ভব। এর বাজারমূল্য প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। 
গত শনিবার সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নাসির স্টার্চ, অয়েল অ্যান্ড অ্যানিমেল ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড পরিদর্শন শেষে এসব অভিমত ব্যক্ত করেন বক্তারা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আবদুর রাজ্জাক। এ সময় বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. এছরাইল হোসেন, নাসির গ্লাসওয়্যার অ্যান্ড টিউব ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার মো. ফজলুল রহমান, ডিজিএম মো. কাজিমুল বাশার উপস্থিত ছিলেন। 

দেশে বাণিজ্যিকভাবে ভুট্টা থেকে তেল উৎপাদন করতে পারলে ভোজ্যতেলের আমদানি নির্ভরতা অনেক হ্রাস পাবে বলে মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী। একই সঙ্গে ভুট্টাচাষীরা অনেক লাভবান হবেন ও পুষ্টিনিরাপত্তা নিশ্চিতে সহায়ক হবে। উন্নত দেশের মতো বাংলাদেশেও ভুট্টা থেকে তেল উৎপাদনের অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। দেশে শিল্প-কারখানা স্থাপন করে বাণিজ্যিকভাবে ভুট্টার তেল উৎপাদন করতে পারলে একদিকে যেমন বিদেশ থেকে তেল আমদানি হ্রাস পাবে, অন্যদিকে তেলের দেশজ উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। উদ্যোক্তারা এগিয়ে এলে দেশের কৃষক লাভবান হবেন। পাশাপাশি দেশের মানুষের পুষ্টিনিরাপত্তা নিশ্চিতে সহায়ক হবে। কৃষিমন্ত্রী এ সময় উদ্যোক্তাদের ভুট্টার তেল উৎপাদনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান এবং এ ব্যাপারে সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন। 
গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. এছরাইল হোসেন বলেন, দেশে বর্তমানে উৎপাদিত ৫৪ লাখ টন ভুট্টা থেকে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টন ভুট্টা তেল প্রতি বছর আহরণ করা সম্ভব, যার বাজারমূল্য প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। ভুট্টা তেল তৈরির পাশাপাশি ভুট্টা থেকে কর্ন ফ্লেক্স কর্ন চিপস তৈরি করাও সম্ভব। 
বাংলাদেশের মাটি ও জলবায়ু ভুট্টা চাষের অনুকূল। কৃষকদের কাছেও ভুট্টা চাষ জনপ্রিয়তা লাভ করছে। বর্তমানে দেশে ভুট্টা চাষের মোট আবাদি জমি সাড়ে পাঁচ লাখ হেক্টরেরও অধিক। আর উৎপাদন ৫৪ লাখ টন। 
উন্নত দেশে ভুট্টার বহুমুখী ব্যবহার থাকলেও দেশে শুধু প্রাণী, পোলট্রি ও মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। দেশে উৎপাদিত ভুট্টার অধিকাংশই বা প্রায় ৯৫ শতাংশ প্রাণী, হাঁস-মুরগির ফিড ও মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহূত হয়। তবে ইদানীং খই ভুট্টা, মিষ্টি ভুট্টা (৫ শতাংশ) হিসেবেও মানুষের খাদ্য হিসেবে বেশ গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছে। 

গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্যমতে, ভুট্টা তেল স্বাস্থ্যসম্মত ও পুষ্টিসমৃদ্ধ। এতে কোনো আমিষ বা শর্করা নেই, শতকরা ১০০ ভাগই চর্বি বিদ্যমান যার পুষ্টিমান অন্যান্য তেলের চেয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি। ভুট্টা তেলে বিদ্যমান সম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড ও অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড সয়াবিন ও সূর্যমুখী তেলের সমপরিমাণ। ভুট্টা তেলে ভিটামিন-ই (টোকোফেরল)-এর পরিমাণ সূর্যমুখী তেলের চেয়ে বেশি। ভুট্টা তেলে ভিটামিন-কে (১ দশমিক ৯ মাইক্রো গ্রাম) রয়েছে যেখানে সয়াবিন ও সূর্যমুখী তেলে তা অনুপস্থিত। সালাদ, বিস্কুট, চানাচুর, কেক, পাউরুটি, মাখন তৈরিতে ভুট্টা তেল ব্যবহৃত হয়। 
 

You May Also Like