মাছ উৎপাদনের রেকর্ড

অর্ণব আহাম্মেদ ॥ 

মাছ উৎপাদন বৃদ্ধির হারে সর্বকালের রেকর্ড ভেঙেছে বাংলাদেশ। করোনাকালে এটা দেশের জন্য একটি ইতিবাচক সংবাদ। করোনাকালে বিভিন্ন খাতের বড় ক্ষতি হলেও মৎস্য খাতের জন্য মোটামুটি ভালো ছিল ২০২০। ইলিশের অব্যাহত উৎপাদন বাড়ায় গেল বছর মৎস্য খাতে জৌলুস বেড়েছে। গত মৌসুমে ইলিশের উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি আকারেও বড় হওয়ায় এ খাতে আশা বেড়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার দ্য স্টেট অব ওয়ার্ল্ড ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকোয়াকালচার ২০২০-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয় আর গত দশ বছরে স্বাদু পানির মাছ উৎপাদন বাড়ার হারে দ্বিতীয় স্থান, বদ্ধ জলাশয়ে চাষ করা মাছ উৎপাদনে পঞ্চম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি বিশ্বে সামুদ্রিক ও উপকূলীয় ক্রাস্টাশিয়ানস ও ফিন ফিশ উৎপাদনে যথাক্রমে অষ্টম ও ১২তম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। ইলিশ উৎপাদনকারী ১১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ প্রথম। ২০১৮-১৯ সালে ইলিশের উৎপাদন ৫.৩৩ লাখ মেট্রিক টন হয়েছে। আসছে মৌসুমে এটি ছয় লাখ মেট্রিক টন পর্যন্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। করোনাকালে যখন সবকিছু প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছিল, তখনো মানুষের খাবার বন্ধ হয়নি। সাধারণ মানুষ যাতে মাছ ও মাংসের জোগান ঠিকমতো পায় সে লক্ষ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়। এর মধ্যে অন্যতম ছিল দেশ জুড়ে ভ্রাম্যমাণ এবং অনলাইন বিক্রয়কেন্দ্র চালু করা। সূত্র জানায়, গত নভেম্বর পর্যন্ত সাত হাজার ২৩৭ দশমিক ১৭ কোটি টাকার মাছ, দুধ, ডিম, মাংস এবং পোল্ট্রি ভ্রাম্যমাণ ও অনলাইন বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়া বিশ্ববাজারে আর্থিক মন্দাবস্থা চলার পরও ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৭০ হাজার ৯৪৫ দশমিক ৩৯ মেট্রিক টন মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করে তিন হাজার ৯৮৫ দশমিক ১৫ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেছে। বর্তমান সাফল্য ধরে রাখতে হবে। পাশাপাশি বিলুপ্তি থেকে রক্ষা করতে হবে দেশি প্রজাতির মাছ। মাছ চাষকে উৎসাহিত করার জন্য সব প্রতিবন্ধকতাকে আমলে নিতে হবে।

You May Also Like