মাল্টা চাষে সফল তরুণ

  • Posted on 17-11-2020 17:01:44
  • National

নীলফামারী থেকে সংবাদদাতা ॥ 

উচ্চতর পড়াশোনা শেষ করে সরকারি চাকরি না পেয়ে শুরুর দিকে হতাশ হয়েছিলেন। পরবর্তীতে সেই হতাশা কাটিয়ে জীবনটাকে নতুনভাবে গড়েছেন নীলফামারীর মনিরুজ্জামান রাজু (২৬)। সরকারি চাকরি পেতে ব্যর্থ হলেও নিজ গ্রামে পৈতৃক জমিতে অর্গানিক মাল্টা বাগান করে কৃষিতে ঠিকই সফল হয়েছেন তরুণ ওই উদ্যোক্তা। নিজের ভাগ্যোন্নয়নের পাশাপাশি লক্ষাধিক মানুষকে বিষমুক্ত ফল খাওয়ানোই তার মূল উদ্দেশ্য। মাল্টা ছাড়াও রাজুর বাগানে রয়েছে উন্নত জাতের কমলা, আপেল, সৌদি খেজুর ও ভিয়েতনামি নারিকেলসহ দেশি-বিদেশি অনেক ফলের গাছ। জানা যায়, নীলফামারী সদর উপজেলার পঞ্চপুকুর ইউনিয়নের ঝারপাড়া গ্রামের মোহাব্বত আলীর ছেলে রাজু। ২০১৫ সালে কৃষি ডিপ্লোমা শেষ করে একই বিষয়ে স্নাতক করেন তিনি। শিক্ষাজীবন শেষ করে বিভিন্ন দপ্তরে চাকরি লাভের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন রাজু। এরপর ২০১৮ সালে নিজ গ্রাম পঞ্চপুকুরে পৈতৃক পাঁচ বিঘা জমিতে অর্গানিক মাল্টা বাগান শুরু করেন তিনি। এরপর থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। সুস্বাদু হওয়ায় রং আসার আগেই সরাসরি বাগান থেকে কাঁচা মাল্টা নিয়ে যাচ্ছেন বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ক্রেতারা। অনলাইনেও চলছে মাল্টা সরবরাহ। এতে কাক্সিক্ষত আয়ের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে আত্মবিশ্বাস। মাল্টা বাগানের পরিধি আরও বাড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন তরুণ এই উদ্যোক্তা। রাজু দেশ রূপান্তরকে জানান, রাজশাহীতে বেড়াতে গিয়ে মাল্টা চাষে উদ্বুদ্ধ হন তিনি। এরপর সেখান থেকে চারা নিয়ে আসেন এবং তার বাবার সঙ্গে কথা বলে পাঁচ বিঘা জমিতে মাল্টার বাগান করেন। এ বছর রাজুর বাগানে প্রায় ২০ মণ মাল্টার ফলন হয়েছে। মাল্টার পাশাপাশি কমলা ও কফি চাষ করে নিজে যেমন স্বাবলম্বী হতে চান তেমনি এলাকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করতে চান তিনি। সে ক্ষেত্রে সরকারিভাবে সহযোগিতা পেলে আরও বিস্তৃত আকারে প্রকল্প করা যাবে। বর্তমানে তার বাগানে স্থানীয় ৮০ জন যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামরুল হাসান বলেন, ‘মাল্টা বা কমলা পাহাড়ি ফল হিসেবে পরিচিত হলেও এখন এসব ফল আমাদের দেশেই উৎপাদন হচ্ছে। নীলফামারীতে মাল্টা চাষের মাধ্যমে স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি পুষ্টিসম্মত এই ফল বাইরেও সরবরাহ করা হবে বলেই আশা করছি।’ নীলফামারী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এলিনা আকতার বলেন, ‘তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা মনিরুজ্জামান রাজুর এই উদ্যোগটি বিস্তৃতি পেলে তরুণদের চাকরি-নির্ভরতা কমবে। রাজুর মতো আমাদের সমাজের শিক্ষিত তরুণদেরও উচিত বেকারত্ব দূর করতে উদ্যোক্তা হওয়া। তরুণরা উদ্যোগী হলে দেশের কৃষিতে আরও অনেক উন্নতি ঘটবে।

You May Also Like