আবাদি জমি রক্ষার দাবিতে দিনাজপুরে কৃষকদের অনশন একজনের মৃত্যু

দিনাজপুর অফিস ॥ 

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জের আশুরার বিলের আবাদি জমিরক্ষা ও বিলে বাঁধ নির্মাণের প্রতিবাদে ৮ দিন ধরে অনশন কর্মসূচি পালন করে চলেছেন কয়েক হাজার ভুক্তভোগী কৃষক পরিবারের নারী-পুরুষ শিশুরা। এদিকে অনশনরত অবস্থায় গোলাপ সরকার নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও অনশনরত আরও ৫ জন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। গত ৭ নভেম্বর সকাল থেকে তারা মাথায় কাফনের কাপড় পড়ে আশুরার বিলে অনশন করছেন। দিনাজপুরের নবাবগঞ্জের আশুড়ার বিলের একাংশে চাষাবাদের সুবিধার্থে বাঁধ নির্মাণ না করার দাবিতে বাঁধ এলাকায় অবস্থান নিয়ে মানববন্ধন করেছেন ওই এলাকার অন্তত ২৫ গ্রামের কয়েক হাজার কৃষক পরিবারের নারী ও পুরুষ। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অনশনরত অবস্থায় গোলাপ সরকার (৭৫) এক বৃদ্ধ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পথে সে মারা যান। সকাল ১০টায় তার জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়েছে। নিহত গোলাপ সরকার নবাবগঞ্জ উপজেলার গোলাপগঞ্জ ইউনিয়নের হরিপুর আদর্শগ্রামের জব্বার সরকারের ছেলে। গত ৩০ অক্টোবর শুক্রবার থেকে আবাদী জমি রক্ষা ও আশুরার বিলে বাধ নির্মাণের প্রতিবাদে কয়েক হাজার নারী-পুরুষ-শিশু অনশন করে আসছেন। এলাকার কৃষক রেজাউল করিম ও আসাদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন থেকে আশুড়ার বিলের একাংশের প্রায় এক হাজার ৯শ’ হেক্টর জমিতে এলাকার ভূমিহীনদের মধ্যে কেউ লিজ নিয়ে আবার কেউ পত্তন নিয়ে ধান চাষাবাদ করে পরিবার পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। এই জমির মধ্যে ব্যক্তি মালিকার জমিও রয়েছে। কিন্তু আশুড়ার বিলের সৌন্দর্য্য বর্ধনের জন্য বিলের পানি প্রবাহ পথ বন্ধ করে বাঁধ নির্মাণ করায় ওইসব জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে গত আমন ও বোরো চাষ মৌসুমে কোন প্রকার চাষাবাদ করতে না পারায় এই জমির চাষাবাদের সঙ্গে জড়িত কৃষক পরিবারগুলো মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এরই মধ্যে গত বন্যার পানি তোড়ে বাঁধের একাংশ ভেঙে যাওয়ায় জমিতে জমে থাকা পানি বের হয়ে যায়। এতে আশায় বুক বেঁধেছেন কৃষকেরা আগের মতোই জমিতে ফসল ফলাতে পারবেন বলে। কিন্তু প্রশাসনের উদ্যোগে আবারও ভেঙে যাওয়া বাঁধ নির্মাণ করার জন্য এক্সকেভেটার মেশিন আনা হলে ওই সময়েই অন্তত পাঁচ শতাধিক নারী ও পুরুষ গ্রামবাসী বাঁধ এলাকায় অবস্থান নিয়ে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন। তখন থেকে এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগী নারী ও পুরুষরা বাঁধ এলাকায় তাঁবু লাগিয়ে অবস্থান করছেন। বাঁধে অবস্থানকারী পীরদহ গ্রামের বৃদ্ধ নজিবর রহমান (৭০) বলেন, অন্তত ৫৫-৬০ বছর ধরে বিলের জমিতে চাষাবাদ করে পরিবার পরিজনের জীবন চালাচ্ছেন। কিন্তু কয়েক বছর পূর্বে হঠাৎ করে জমির পার্শ্বের পানি প্রবাহের মুখে বাঁধ দেয়ায় জমিগুলো পানিতে ডুবে থাকছে। এতে করে চাষাবাদ বন্ধ হয়ে গেছে। কোনভাবেই ভুক্তভোগী এলাকাবাসী পুনরায় বাঁধ নির্মাণ করতে দিবে না। ইতোপূর্বে বাঁধ ভেঙে যাওয়াকে কেন্দ্র করে ২৪ জন গ্রামবাসীর নাম উল্লেখ্যসহ ৩শ’ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির নামে মামলা দেয়া হয়েছে। ওই মামলায় গ্রামবাসীকে এখনও হয়রানি করা হচ্ছে। নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. নাজমুন নাহার মুঠোফোনে বলেন, আগে থেকেই সেখানে বাঁধ ছিল। তখন এলাকাবাসীর চাষাবাদের কোন ক্ষতি হয়নি। হঠাৎ করে ভেঙে যাওয়া বাঁধ বিএডিসি নির্মাণ করার উদ্যোগ নেয়ায় তারা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন। এখন তো জমিতে পানি নেই, এখন তাহলে তারা চাষাবাদ করছেন না কেন? আশুড়ার বিলের পানি ধরে রাখার জন্য বিএডিসির পক্ষ থেকে বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে।

You May Also Like