সম্পাদকীয় প্রসঙ্গঃ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে ধারাবাহিক দূর্নীতির খবর

পত্রিকায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বেশ কয়েকটি ধারাবাহিকভাবে সচিত্র দুর্নীতির খবর প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিটি প্রতিবেদনেই ছিল সত্য এবং নির্ভিক। বিশেষ করে একজন সফল উদ্যোক্তা দেশের একজন রোল মডেল, যিনি মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর নিকট তার কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার গ্রহণ করেছেন। তার কাছ থেকে কিভাবে উৎকোচ গ্রহণের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কর্তৃক। বিষয়টি কখনই হেলাফেলা কিংবা মার্জনীয় নয়। আমাদের স্বরণ আছে সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আব্দুল লতীফ বিশ্বাসের দুর্নীতির একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিলাম। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর দুদক তদন্ত করে সত্যতা প্রমাণ পায় এবং এরপর একুশে টেলিভিশনও আব্দুল লতীফ বিশ্বাসের দুর্নীতির খবর ধারাবাহিকভাবে প্রচার করে এবং প্রতিটি পর্বে সাপ্তাহিক কৃষি ও আমিষের দুর্নীতি বিষয়ক প্রধান শিরোনামটি পদার্য় তুলে ধরে। অথচ এখন একজন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কিংবা প্রকল্প পরিচালকদের দুর্নীতি যেন যায়েজে পরিনত হয়েছে। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত, আমাদের প্রাণিসম্পদ সেক্টরে নানামুখি উন্নয়ন কাজ হচ্ছে, শত শত কোটি টাকা বরাদ্দ হচ্ছে, যা পূর্বে কখনও হয়নি। অথচ কিছু সুযোগ সন্ধানী দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা বরাদ্দকৃত অর্থের একটি অংশ পকেটস্থ করে উন্নয়নের পদকে গতিরোধ করছে। এসব অসৎ কর্মকর্তা হঠাৎই এতগুলো টাকার মুখ দেখে নিজেকে উলঙ্গ করতে দ্বিধবোধ করছে না। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সকল কর্মকর্তা ফেরাস্তার সনদ নিয়ে এখানে কর্মকর্তা তা কিন্তু নয় বরং শয়তানের সনদপত্রের সংখ্যাই এখানে বেশী বহন করছে। একজন পিডি, একজন সহকারী পরিচালক ও একজন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার দুর্নীতি বিষয়ক প্রতিবেদন নিছক কোনো গল্প নয় বা তাদের সাথে সাপ্তাহিক কৃষি ও আমিষের কোনো পারিবারিক শত্রুতায় নেই যে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যে গল্প লিখে প্রতিশোধ নেবার আকাংক্ষায় লিপ্ত হব আমরা। আমরা মনে করি একটি রাষ্ট্রে চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে আমরা আমাদের কাজ করে যাচ্ছি। এখানেও এর বর্তয় ঘটেনি। আমরা আবারও সরকারের কাছে আহ্বান করছি সেক্টরের দুর্নীতির বিষয়গুলো পুংক্ষানুপুংক্ষভাবে খতিয়ে দেখার। একজন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা দুর্নীতি করে পার পেয়ে গেলে জন্ম নেবে আরো কয়েক ডজন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা এর নজির আছে। এই দুর্নীতির কারণে সরকারী বহু প্রতিষ্টান বন্ধ হয়ে গেছে। এখানে বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা না থাকলেও উন্নয়নের ফলাফল হতে পারে শুন্যভাগ। তাই বিষয়গুলো সেক্টরের মন্ত্রী ও সচিব মহোদয়কে গভীর ভাবে পর্যালোচনা করে হস্তক্ষেপ করার জন্য আমরা বিশেষভাবে আহ্বান জানাচ্ছি। মনে রাখতে হবে অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বা আমলারা নীতি-নির্ধারকদের কানে যে মন্ত্র প্রয়োগ করবে সেটাই যে ঠিক তা কিন্তু নয়। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই ভূয়া মন্ত্র পড়ানো হয় নিজেদের স্বার্থরক্ষায়।

You May Also Like