চাঁপাইনবাবগঞ্জে উৎপাদিত মাছ যাবে ইউরোপের বাজারে

মো. রফিকুল আলম ॥

 চাঁপাইনবাবগঞ্জের নবাব মৎস্য খামারে ইন পন্ড রেসওয়ে সিস্টেম এগ্রিকালচার (আইপিআরএস) হাইটেক পদ্ধতিতে উৎপাদিত মাছ যাবে ইউরোপের বাজারে। এ ধরনের আইপিআরএস প্রকল্প ভারতে তিনটি এবং পাকিস্তানে চারটি রয়েছে। তবে বাংলাদেশে প্রথম এ প্রকল্প হচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় নবাব মৎস্য খামার। যা দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ প্রকল্প। জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে নবাব গ্রুপের স্বত্বাধিকারী আকবর হোসেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের নয়াগোলা বুলনপুর এলাকায় আইপিআরএস পদ্ধতিতে মাছ চাষ শুরু করেছেন। চীনের প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় ৬০ বিঘা আয়তনের জলাশয়ে মাছ চাষের সর্বাধুনিক আইপিআরএস চাষ পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছে। এই প্রযুক্তিতে বর্তমানে ১৩টি ইউনিট বা চ্যানেলের মাধ্যমে প্রতি চ্যানেলে সাড়ে ১২ হাজার থেকে ১৮ হাজার পিস রুই, কাতল, গ্রাসকাপ, পাবদা, মনোসেক্স তেলাপিয়া, মিনার কাপ ও পাঙ্গাশ মাছ চাষ করা হচ্ছে। চাষের আওতায় রয়েছে ৪২টি বড় পুকুর। প্রথমবারের মতো ৬০ বিঘার মৎস্য খামারটি রেসওয়ে পদ্ধতির আওতায় আনা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এ পদ্ধতির আওতায় আরও জমি বাড়ানো হবে বলে জানান মৎস্য খামারের মালিক আকবর হোসেন। তিনি আরও জানান, ২০১৯ সালের শুরুতে চীনের কারিগরি বিশেষজ্ঞ টিম চাঁপাইনবাবগঞ্জে এসে প্রকল্পের সিভিল কাজের ডিজাইন করে দিয়ে যায়। এরপর স্থানীয় ইঞ্জিনিয়ারদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে আইপিআরএস-এর অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শেষ হলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে চীন থেকে যন্ত্রপাতি আসতে সময় লাগে। অবশেষে জুন মাসে এগুলো আসার পর তা স্থাপন করা হয়েছে। আইপিআরএস পদ্ধতিতে জলাশয়ের পুরো জমিকে আরসিসি কাঠামো নির্মাণ করে নদীর মতো বৃত্তাকার চ্যানেল করা হয়েছে। চ্যানেল ভর্তি পানিতে যান্ত্রিক উপায়ে ¯্রােত তৈরি করায় এখানে উৎপাদিত মাছের স্বাদ নদীর মাছের মতোই হবে। কারণ যান্ত্রিক উপায়ে পুকুরের যাবতীয় বর্জ্য অপসারণের ব্যবস্থা থাকায় ক্ষতিকর অ্যামোনিয়া গ্যাস মুক্ত হওয়ায় মাছের রোগব্যাধি হবে না বললেই চলে। এ ছাড়া কৃত্রিম উপায়ে পানিতে অক্সিজেন মেশানোর ব্যবস্থা থাকায় বেশি ঘনত্বে মাছ চাষ করা যাবে। আকবর হোসেন জানান, জেলাবাসীর মাছের চাহিদা পূরণ করে অবশিষ্ট মাছ ইউরোপে রপ্তানি করা হবে। ইতিমধ্যে মাছ রপ্তানির ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ আইপিআরএস অ্যাকুয়াকালচার পদ্ধতির সর্বাধুনিক হাইটেক মৎস্য খামারটি মুজিববর্ষ উপলক্ষে সরকারের একজন মন্ত্রীর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার প্রক্রিয়া চলছে। নবাব মৎস্য খামারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ২০১৭ সালে মৎস্য খাতে বিশেষ অবদান রাখায় জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন।

You May Also Like