প্রানিসম্পদ অধিদপ্তর দুর্নীতি - ২ বাজারে নিষিদ্ধ এন্টিবায়োটিকসহ শত শত অবৈধ ওষুধ

মোহাম্মদ নুরুজজামান ॥ 

(পূর্ব প্রকাশিতের পর) চাচার সুবাদে চুটিয়ে ব্যবসা করছে। অভিযোগ পাওয়া গেছে মিট এন্ড বোনমিল বন্ধ হওয়ার পরপরই আবু সুফিয়ান তার ভাতিজা জেমস সরকার বকুল মুলত বেলজিয়াম থেকেই বাংলাদেশে মিট এন্ড বোনমিলের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে দীর্ঘদিন যাবত। প্রথমে এশিয়ান ফ্যাশন নামে তার একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকলেও পরবর্তিতে আরকে এগরো ইন্টারন্যাশনাল বিভি নামে একটি প্রতিষ্ঠান খুলে বসেন। 
আবু সুফিয়ানের ভাতিজা জেমস সরকার বকুল প্রতিষ্ঠানটির সিইও। কিন্তু এ ব্যাপারে ডা. আবু সুফিয়ানকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন এই নামে তিনি কাউকে চিনেন না এবং কোনোদিন দেখেননি অথচ বেলজিয়ামে সফরত সাবেক মন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ সাবেক সচিব রইসুল আলম মন্ডল এর সাথে জেমস সরকারকেও সমানে ভ্রমন করতে দেখা গেছে। আবু  সুফিয়ান বিষয়টি যতই অস্বিকার করুক না কেন ছবিই সত্যতা প্রকাশ করছে। মিট এন্ড বোনমিল পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার পরেও বিশাল একটি নিষিদ্ধ মিট এন্ড বোন মিলের চালান (কয়েক কন্টেইনার) আবু সুফিয়ানের সহায়তায় দেশে প্রবেশ করে এবং এর ছাড়পত্রের ব্যবস্থাও শেষ হয় পোল্ট্রি মিট হিসেবে। 
আবু সুফিয়ানের ভূমিকা এখানেই শেষ নয়। বিশেষ করে আমদানীকারকদের আমদানিকৃত প্রতিটি পন্যের নাম ও ব্যবহারবিধির সাথে নিবিড় সম্পর্ক আছে এবং অফিসিয়ালী এটাই তার দায়ীত্ব ও কর্তব্য। আমাদের এই সেক্টরে সবাইরই জানা যে কিছু কিছু এন্টিবায়োটিক আছে যা একেবারে ব্যবহার নিষিদ্ধ এবং তা কড়াকড়ি ভাবে সরকার কর্তৃক আরোপকৃত। প্রশ্ন উঠতেই পারে তাহলে এসব নিষিদ্ধ এন্টিবায়োটিক দেশে প্রবেশ করছে কিভাবে ? 
এখন পরিস্কার, এসব নিষিদ্ধ এন্টিবায়োটিকের প্রবেশের পিছনে একটি চক্র বা সিন্ডিকেট কাজ করছে। আর এই চক্রের সাথে জড়িত ডিএলএস এর কিছু লোকজন যেখানে আবু সুফিয়ানকেও বাদ দেওয়া যাবে না। আরো আছে বন্দরসহ আহকাবের কিছু সদস্য, এসব সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সেক্টরের কিলিন ব্যবসায়ীদের। 
শুধু এন্টিবায়োটিক নয় শত শত মানহীন গুরুত্বপূর্ণ মেডিসিন বিক্রি হচ্ছে ডিএলএস এর অনুমোদন ব্যাতিরেকে। আবার অনেকে মিথ্যে  DAR মিথ্যে REGS ব্যাবহার করে সমানে বাজারজাত করছে। এদের আমরা চিনিনা জানিনা বলে কখনই দায় এড়াতে পারে না ডিএলএস বা আহ্কাব কর্তৃপক্ষ। কারন দু একজন Curex কোম্পানির মত আহকাবের  সদস্য না হলেও এদের বেশিরভাগই আহকাবের সদস্য। পাশাপাশি বিশেষ করে আবু সুফিয়ান তো এসব দু নম্বর কোম্পানির ঘনিষ্ট বন্ধু বলে অভিযোগ রয়েছে। গুরুতর অভিযোগ হচ্ছে ডিএলএস এ অর্থ খরচ করলেই পাওয়া যায় নিষিদ্ধ পন্যের সনদ।  
বড় দুক্ষজনক এ ঘটনা। গুটিকয়েক কর্মকর্তার জন্যে আজ গোটা ডিএলএসের পরিবেশ নষ্ট হতে বসেছে এই অভিযোগ ও আক্ষেপ খোদ ডিএলএসের ভিতরেই। নিম্নলিখিত কোম্পানীগুলোকে এক্ষনি শায়েস্থার ব্যবস্থা না করলে অচিরেই প্রাণিসম্পদ উন্নয়নের বদলে মুখ থুবড়ে পড়বে। 
যে সব কোম্পানী বা আমদানীকারকদের অভিযোগ আমরা পেয়েছি তার সামান্য কয়েকটি নাম আমরা উল্লেখ করছি। এসব কোম্পানির একাধিক নিষিদ্ধ এন্টিবায়োটিক ও ওষুধ আছে। সবচাইতে মজার বিষয় হচ্ছে এদের নব্বইভাগ বাংলাদেশের কোনো সুস্পষ্ট ঠিকানা ব্যবহার করে নাই। এদের অধিকাংশই কোরিয়া, ভারত ও কয়েকটি ইউরোপের আমাদানীকারক মাত্র।Curex Pharmaceuticals Ltd. 558 purana paltan Dhaka, Agropharma, Saudi-Bangla Agrovet Ltd, TA NUTRY AGRO LTD, Gazipur, bonafide Agrovet Limited, VISION Agro Pharma, Best Agro Care, Lillian pharmaceuticals Ltd, F.S. Agrovet Industries, Agrovet Pharma, Romel Agrovet, RORAS Agro Pharma,  CHEIL BIO CO. LTD, South Korea, VELlE B.V HOLLAND, Han Sua Trading Co. Ltd, South Korea, SK Hub, Korea, BIOINDST. CO. LTD, South Korea. 
আমরা এই সেক্টরের প্রতি সংবেদনশীল। এই সেক্টরের সাথে আমাদের নিবিড় সম্পর্ক ও ভালোবাসা আছে। সেক্টরের অনেক অনেক কর্মকর্তার সাথে আমাদের হরহামাশয় বন্ধুসুলভ আচরন লক্ষনিয় বিষয়। 
কিন্তু আজ অত্যন্ত ভারাক্রান্ত মনে বলতেই হচ্ছে অধিদপ্তর এবং মন্ত্রনালয়ের গুটি কয়েক অসৎ কর্মকর্তার জন্য সমমান হারাতে বসেছে বিভাগটি। আমরা মনে করি এক্ষনি দেশের প্রতিটি জেলা উপজেলাগুলোতে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অবৈধ ওষুধ ও নিষিদ্ধ এন্টিবায়োটিক এর বাজারজাত, বিক্রয়, ব্যবস্থাপত্র, ব্যবহার ও মজুদ বন্ধ করতে পারলেই আমরা মনে করব মন্ত্রনালয় ও অধিদপ্তরের দুর্নাম ঘুচিয়ে হারানো সম্মান পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি খামার ও খামার মালিক উপকৃত হবে এবং সেক্টরের উন্নয়ন ধাবিত হবে। (চলবে) 
লেখক: সম্পাদক ও প্রকাশক, সাপ্তাহিক কৃষি ও আমিষ । 
 

You May Also Like