সাগরে ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়ছে রুপালি ইলিশ, মোকামগুলোতে উৎসবের আমেজ

কৃষি ও আমিষ ডেস্ক ॥ 

দেশের সাগর উপকূলীয় জেলাগুলোতে ধুম পড়েছে ইলিশ শিকারের। সাগরে ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়ছে রুপালি ইলিশ। জেলেদের মধ্যে উৎসব আমেজ বিরাজ করছে। মোকাম সয়লাব হয়ে পড়েছে। তবে এর প্রভাব পড়েনি খুচরা বাজারে। দাম এখনও চড়া। জেলেরা জানান, বরফের দাম বৃদ্ধির কারণে ইলিশের মূল্য বেড়েছে। 


বরিশাল থেকে খোকন আহম্মেদ হীরা জানান, গভীর সাগরে গত এক সপ্তাহ থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়ছে রুপালি ইলিশ। প্রতিদিন হাজার হাজার মণ ইলিশ নিয়ে শত শত ট্রলার আসছে বরিশাল, পটুয়াখালী ও বরগুনার মোকামে। ফলে সাগরের ইলিশে সয়লাব হয়ে গেছে দক্ষিণাঞ্চলের মোকামগুলো। 
বরিশাল নগরীর পোর্টরোডের বেসরকারী মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র গিয়ে দেখা গেছে, ইলিশের সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় পূর্বের চেয়ে মোকামে পাইকারি দাম কমতে শুরু করেছে। এছাড়া ইলিশের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় কর্মচাঞ্চল্যতা বেড়ে গেছে জেলে, ব্যবসায়ী, আড়তদারসহ সশি¬ষ্টদের। 
ব্যবসায়ীরা জানান, ইলিশ রফতানির সুবিধা থাকলে মোকামে আমদানি হওয়া ইলিশ সংরক্ষণে বেগ পেতে হতোনা। তাদের মতে, শুধু সাগরের ইলিশেই এখন চাহিদার ওপরে আমদানি হয়েছে। তারা আরও জানান, গত বছর এ সময়ে আটশ’ থেকে এক হাজার মণ ইলিশ মাছ এসেছে নগরীর পোর্টরোডের বেসরকারী মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে। সেখানে গত এক সপ্তাহ থেকে প্রতিদিন গড়ে ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার মণ ইলিশ আসছে এ মোকামে। এর মধ্যে একদিনেই এ মোকামে ছয়শ’ মণ ইলিশ এসেছে। আর এ কারণেই মোকামগুলোতে সাগরের ইলিশের দরপতন হতে শুরু করলেও বরিশালের খুচরা বাজারে তার কোন প্রভাব পড়েনি। 

প্রতিদিন সাগর থেকে জেলেরা ট্রলারভর্তি করে ইলিশ মাছ নিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের ইলিশ মোকামে ফেরার কারণে জেলেদের হাক ডাকে মুখর হয়ে উঠেছে এসব মোকামগুলো। সাগরে প্রচুর ইলিশ ধরা পরায় জেলেদের পাশাপাশি হাসি ফুটেছে ট্রলার মালিক ও আড়তদারদের মুখেও। 
গত বুধবার ভোরে নগরীর পোর্ট রোডের মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, মাছ ধরার ট্রলার ভর্তি ইলিশ নিয়ে পারে ভিড়ছেন জেলেরা। মাছ ভর্তি ট্রলার পাড়ে ভেড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় জেলেদের হাঁকডাক। তারপর চলে বিকিকিনি। ভোজন রসিকরাও ভোরে চলে আসেন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে। খুচরা বাজারে ইলিশের দাম একটু বেশি হলেও পছন্দের মাছটি ক্রয় করে বাড়ি ফিরছেন শৌখিন ক্রেতারা। 
সূত্রমতে, সবেমাত্র রুপালি ইলিশের দেখা শুরু হলেও করোনার চাপে দিশেহারা সাধারণ মানুষ এখনও ইলিশের স্বাদ গ্রহণ করতে পারেননি। পাইকারি মোকামে ইলিশের দাম আগের তুলনায় অনেকটা কম হলেও এখনও খুচরা বাজারে তার কোন প্রভাব পরেনি। অথচ ইতোমধ্যে ইলিশ নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্রে নেমেছে শক্তিশালী একটি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট চক্র। তারা অতিমুনাফার লোভে ইলিশ রফতানির ফন্দি এঁটেছে। ইতোমধ্যে ওই সিন্ডিকেটের সদস্যরা নানা সেক্টরে লবিং ও তদবির শুরু করেছেন। তবে এই মুহূর্তে ইলিশ রফতানির কোন প্রস্তাব দেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে বিভাগীয় মৎস্য অধিদফতরের কর্মকর্তারা। 

সূত্রে আরও জানা গেছে, হঠাৎ ইলিশের আমদানি বেড়ে যাওয়ায় পাইকারি বাজারে দরপতন হতে শুরু করলেও তীব্র বরফ ও জ্বালানি সঙ্কটে পরেছেন আড়তদার ও জেলেরা। ইলিশ সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনের অর্ধেক বরফও পাওয়া যাচ্ছে না। যাওবা পাওয়া যাচ্ছে তা পূর্বের প্রতি ক্যান বরফ ১২০ টাকা দামের স্থলে বর্তমানে ৩৫০ টাকায় ক্রয় করতে হচ্ছে। 

বরিশাল জেলা মৎস্য আড়তদার এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নীরব হোসেন টুটুল বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে নগরীর পোর্ট রোডের মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে এতো পরিমাণ ইলিশ আসছে, যে এখন রাখার জায়গা নেই। দিন যত সামনে এগোচ্ছে তত বেশি ইলিশ আসছে এ মোকামে। 
দক্ষিণাঞ্চলের মোকামগুলোতে গত জুলাই মাসে ইলিশ বেচাকেনার হিসাব অনুযায়ী বিভাগীয় মৎস্য অধিদফতরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ অঞ্চলের নদ-নদী ও সাগরে বিগত চার বছরের জুলাই মাসের তুলনায় চলতি বছরের গত জুলাই মাসে রেকর্ড পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়েছে। সূত্রমতে, দেশে মোট ইলিশের ৬৬ শতাংশ আহরিত হয় বরিশাল তথা দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদী ও সংলগ্ন সাগর থেকে। ২০১৬ ও ২০১৭ সালের ইলিশ মৌসুমে দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদীতে রেকর্ড পরিমাণ ইলিশ পাওয়া গিয়েছিল। ২০১৮ সাল যার পরিমাণ কিছুটা কম হয়। ২০১৯ সালের জুলাই মাসের চেয়ে এবার মৌসুমের প্রথম মাসেই (জুলাই) ৬ হাজার ২৭৯ টন বেশি ইলিশ ধরা পরেছে। 
মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সরকারের নানামুখী উদ্যোগের কারণে দেশে ইলিশের উৎপাদন কয়েক বছর ধরে বৃদ্ধি পেয়েছে। যার ফলে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মোট ইলিশ আহরিত হয়েছে ৫ লাখ ১৭ হাজার ১৮৮ টন। এর মধ্যে বরিশাল থেকেই আহরিত হয়েছে ৩ লাখ ৩২ হাজার ২৫ টন। এর আগের অর্থবছরে (২০১৭-১৮) দেশে আহরিত মোট ইলিশের পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৯৬ হাজার ৪১৭ টন। যার মধ্যে বরিশাল থেকে আহরিত হয়েছে ৩ লাখ ২৪ হাজার ২৯৭ টন। যা দেশে মোট উৎপাদনের প্রায় ৬৬ শতাংশ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে ইলিশ আহরণের পরিমাণ আগের বছরের চেয়ে ৪.১৯ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় বরিশালেও প্রায় ৮ হাজার টন বৃদ্ধি পায়। চলতি অর্থবছরে দেশে ইলিশ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে ৫ লাখ ৩৩ হাজার টন। এর মধ্যে বরিশালে ৩ লাখ ৫০ হাজার টন। যা মোট উৎপাদনের ৬৬ শতাংশ। 

ইলিশের মোকামে বরফ ও জ্বালানি সঙ্কট ॥ 

গভীর সাগরে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ায় প্রতিদিন হাজার হাজার মণ ইলিশ নিয়ে শত শত ট্রলার আসছে বরিশাল, পটুয়াখালী ও বরগুনার মোকামে। হঠাৎ ইলিশের আমদানি বেড়ে যাওয়ায় দরপতনের পাশাপাশি তীব্র বরফ ও জ্বালানি সঙ্কটে পড়েছেন আড়তদার ও জেলেরা। ইলিশ সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনের অর্ধেক বরফও পাওয়া যাচ্ছে না। পূর্বের প্রতি ক্যান ১২০ টাকা দামের বরফ বর্তমানে ৩৫০ টাকায় ক্রয় করতে হচ্ছে। পাশাপাশি ডিজেলের সরবরাহ কম থাকায় সাগর থেকে ফিরে আসা ট্রলারগুলো মোকামে মাছ রেখে ডিজেল সঙ্কটের কারণে পুনরায় ইলিশ শিকারের জন্য সাগরে যেতে পারছে না। 

ফিশিংবোটের ওপর নির্ভর করে দাম ॥ 

মাছ ধরার নৌকা বা ফিশিংবোটের আমদানির ওপর নির্ভর করেই বরিশাল নগরীর পোর্ট রোড মোকামে ইলিশের দাম কমছে ও বাড়ছে। যেদিন ৪০ থেকে ৫০টি বোট ইলিশের মোকামে আসে, সেদিন দাম কমে। আর যেদিন ১৫ থেকে ২০টি বোট ঘাটে ভেড়ে সেদিন দাম বাড়ে। এক সপ্তাহ ধরে ইলিশবাহী ফিশিংবোট বেশি আসায় ইলিশের দাম তুলনামূলকভাবে কমেছে বলে জানিয়েছেন পোর্ট রোডের ইলিশ মোকামে কর্মরত শ্রমিকরা। পোর্ট রোডের আড়তদার জহির সিকদার বলেন, ইলিশ নিধনে সরকারের সময়োপযোগী কঠোর সিদ্ধান্তের কারণে মৌসুমে সাগরে জাল ফেললেই ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছে। 

অতি মুনাফালোভীদের ষড়যন্ত্র ॥ 

ইলিশ বিক্রেতা একাধিক ক্ষুদ্র ব্যসায়ীরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দীর্ঘদিন থেকে কতিপয় প্রভাবশালী মৎস্য ব্যবসায়ীদের একটি সিন্ডিকেট অবৈধপন্থায় পার্শ্ববর্তী দেশে ইলিশ পাচার করে আসছে। এখন তারা অতি মুনাফারলোভে সরকারের কাছে ইলিশ বিদেশে পাঠানোর বৈধতা চায়। এজন্য রফতানি সংশি¬ষ্ট ব্যবসায়ী নেতারা বিভিন্নস্থানে লবিংও শুরু করেছেন। 

আমদানি বাড়ায় দাম কমেছে ইলিশের ॥ 

চাঁদপুর থেকে জালাল চৌধুরী জানান, সাগর উপকূলীয় জেলা থেকে চাঁদপুরে আমদানিকৃত ইলিশ দাম কমেছে তিনদিন ধরে। দেড় কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে মাত্র হাজার টাকায়। যা এক সপ্তাহ পূর্বে বিক্রি হয়েছে এক হাজার ৫শ’ টাকা। সব ধরনের ইলিশই পাইকারি ও খচুরা বিক্রিতে প্রতিমণ ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা হ্রাস পেয়েছে। আমদানি বেড়েছে কয়েকগুণ। প্রতিদিন চাঁদপুর মৎস্য আড়তে সাড়ে ৪ থেকে ৫ হাজার মণ ইলিশ আমদানি হয়। যার ফলে ব্যস্ততা বেড়েছে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের। অর্ধশতাধিক আড়তে সকাল ৮টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত চলছে ক্রয়-বিক্রয়। রফতানি করা হচ্ছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। 
গত বুধবার সকাল ১০টার দিকে চাঁদপুরের প্রধান মৎস্য আড়ত বড় স্টেশন মাছঘাটে গিয়ে দেখা গেছে নদী পথে ট্রলার, পিকআপ ভ্যান ও মিনি ট্রাকে করে আমদানিকৃত ইলিশ নামানো হচ্ছে। এসব ইলিশ আড়তের সামনে স্তূপ করা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা হাঁকডাক দেয়া ইলিশগুলো ক্রয় করছেন। বক্স করে আবার এসব ইলিশ চলে যাচ্ছে ব্যবসায়ীদের গন্তব্যে। 

জেলেদের জালে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ॥ 

বরগুনা থেকে মোস্তফা কাদের জানান, সাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে প্রচুর ইলিশ। কয়েকদিন আগেও জেলেদের মাঝে ছিল হতাশা আর নিরব কান্না; দীর্ঘদিন পর এবার লাভের মুখ দেখছেন মৎস্যজীবীরা। 

দেশের বৃহত্তম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র বিএফডিসিতে দেখা গেছে সারিবদ্ধ ট্রলার। ভরা মৌসুম থাকা সত্ত্বেও যেখানে দুদিন আগেও ট্রলার ছিল না এখন মাছ বিক্রির জন্য ট্রলার নোঙর করে রাখা হয়েছে। জেলেরা বলছেন সাগরে প্রচুর পরিমাণে মাছ ধরা পড়ছে। বিএফডিসি ঘাটে অপেক্ষা করছে মাছবাহী ট্রাক। ইতোমধ্যেই অনেক ট্রাক মাছ নিয়ে চলেও গেছেন। 
সাগর থেকে ফিরে আসা মোঃ কাদের, সগির, রুস্তুমসহ একাধিক জেলে জানিয়েছেন, এখন সাগরে প্রচুর পরিমাণে মাছ ধরা পড়ছে। এভাবে কয়েকটি ট্রিপে ধরা পড়লে হয়তো ছেলেমেয়েদের নিয়ে ডাল-ভাত খেতে পারবে। 

খুশির বন্যা জেলেপল¬ীতে ॥ 

আমতলী থেকে হোসাইন আলী কাজী জানান, সাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে ঝাঁকে ঝাঁকে রুপালি ইলিশ। সরগরম আমতলীর ফকিরহাট মৎস্য আড়ত। খুশির বন্যা বইছে জেলেপল¬ীতে। প্রান্তিক জেলেদের দাবি গত ১০ বছরে এত ইলিশ সাগরে ধরা পড়েনি। 
জানা গেছে, ফকিরহাটের জেলে ও আড়ত মালিকদের দম ফুরানোর ফুরসত নেই। শুধুই কাজ আর কাজ। ফিশিংবোর্ড এবং ছোট ট্রলারগুলো মাছ শিকার করে ফকিরহাট মৎস্য আড়তে নিয়ে আসে। সকাল থেকে গভীর রাত অবদি মাছের আড়তগুলোতে চলে মাছ ক্রয়-বিক্রয়। আড়তে প্রতিমণ বড় ধরনের ইলিশ ২৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা এবং মাঝারি ধরনের ইলিশ ১৭ হাজার থেকে ১৮ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ ধরে গড়ে প্রতিদিন ১০ কোটি টাকার ইলিশ মাছ ফকিরহাট মৎস্য আড়তে বিক্রি হচ্ছে। ওই হিসাবে গত সাতদিনে অন্তত ৭০ কোটি টাকার মাছ বিক্রি হয়েছে বলে জানান মৎস্য আড়ত সমিতির সহ-সভাপতি আবদুস সালাম খান। সাগরে জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ায় খুশির বন্যা বইছে জেলেপল¬ীতে। তারা জানান, গত ১০ বছরে এত পরিমাণ ইলিশ জেলেদের জালে ধরা পড়েনি। এতে বিগত বছরের লোকসান কাটিয়ে লাভের মুখ দেখবেন বলে জানান আড়ত মালিকরা। 

কাজ্ঞিক্ষত ইলিশ মিলছে না, ট্রলার মালিকরা দুশ্চিন্তায় ॥ 

মেজবাহউদ্দিন মাননু জানান, কলাপাড়ার বৃহৎ মোকাম মৎস্য বন্দর মহিপুর-আলীপুরে ইলিশের আমদানি বেড়েছে। কিন্তু জেলেদের কাছে কাজ্ঞিক্ষত পর্যায়ের নয়। জেলে, ট্রলার মালিকদের দাবি গত বছরের তুলনায় এ বছর অর্ধেক ইলিশ পাচ্ছেন তারা। বঙ্গোপসাগরের গভীর এলাকায় এসব জেলে কাজ্ঞিক্ষত ইলিশ না পাওয়ায় হতাশা ব্যক্ত করছেন। তবে লাল জাল দিয়ে মাছ শিকার করা বড় ট্রলারের জেলেরা সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ইলিশ শিকার করতে পারছেন বলে সকল শ্রেণীর জেলের দাবি। এসব অধিকাংশ ট্রলার চিটাগাং এলাকার। আড়ত মালিক ও মহিপুর মৎস্য ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি দিদার উদ্দিন আহমেদ মাসুম জানান, টানা চারদিনে মহিপুরের এই মোকামে দৈনিক ২০-২৫ হাজার মণ ইলিশ বিক্রি হয়েছে। যা এই দুই দিনে কমে চার/পাঁচ হাজার মণে নেমেছে। ইলিশ যেখানে মণ বিক্রি হতো সাইজভেদে ৮ থেকে ১৬ হাজার টাকা। যা বুধবারে বিক্রি হচ্ছে ১২ থেকে ২৪/২৫ হাজার টাকায়। 

ইলিশে সয়লাব বাজার, দামও চড়া ॥ 

মোঃ মোখলেছুর রহমান জানান, পটুয়াখালীর বাজারগুলোতে দুদিনে ইলিশ মাছে সয়লাব। এসব মাছ কলাপাড়া, মহিপুর, গলাচিপার চিকনিকান্দি মাছের আড়তের। তবে দাম কমছে না কোনভাবেই। এছাড়াও পটুয়াখালী শহরে সংগ্লন পায়রা নদীর মিঠা পানির ইলিশ মাছে দুদিন ধরে পটুয়াখালীর বাজারে আসতে শুরু করেছে। শহরের বাইরে আড়ত থেকে আসা মাছ প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শহরের নিউমার্কেট, নতুনবাজার, পুরানবাজার লঞ্চঘাট, কাঠপট্টি ছাড়াও শহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে চলে ইলিশ বেচা-কেনা। বাজারে ইলিশের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলে মাছের দাম কমছে না সে ভাবে। 
জেলা শহরের বাইরের আড়তগুলোতে ১৫ দিন আগে গ্রেডের (এক কেজির) ইলিশের মণ ছিল ৪০ হাজার, তা এখন ২৪ হাজার টাকা মণ কিনেছে আড়তদাররা। ২ নম্বর গ্রেডের (কেজির নিচে) ইলিশের মণ ১৫ দিন আগেও ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ১৫ হাজার টাকায় কিনছেন পাইকাররা। তবে শহর সংশ্লিষ্ট পায়রা নদীর ইলিশের দাম সব থেকে বেশি। কেজির ইলিশের দাম ১২শ’ থেকে ১৫শ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কেজির নিচের ইলিশ হাজার টাকা থেকে ১১শ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। 

তেঁতুলিয়া নদী এখন জেলেদের বিচরণে মুখরিত ॥ 

কামরুজ্জামান বাচ্চু জানান, বাউফলের তেঁতুলিয়া নদীতে ইলিশ শিকারকে কেন্দ্র করে জেলেদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। আগামী এক মাস তারা ইলিশ শিকারে ব্যস্ত থাকবেন। সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ইলিশ শিকারে মৌসুম। বিগত বছরের তুলনায় এ বছর তেঁতুলিয়া নদীতে বেশি ইলিশ মাছ ধরা পড়ছে। প্রতিদিন স্থানীয় আড়তগুলোতে ৮-১০ টন ইলিশ কেনাবেচা হচ্ছে। এর মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি ইলিশ তেঁতুলিয়া নদীর। বাকি ইলিশ সাগর থেকে শিকার করা। বাউফলে আড়তগুলোতে এক কেজির ইলিশ বিক্রি হচ্ছে সাতশ’ টাকায়। এক কেজির নিচে ৭শ’ থেকে ৯শ’ গ্রাম জনের (এলসি) ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৬শ’ টাকা কেজি ধরে, আর ৫শ’ থেকে ৬শ’ গ্রাম (ভেলকা) ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৪শ’ টাকা কেজি দরে। 

************---------------------********************* 
 

You May Also Like