গান গাওয়া কুকুর

আমিষ ডেস্ক ॥ 

বিশ্বজোড়া মহামারী পরিস্থিতিতে একের পর এক অবিশ্বাস্য ঘটনার সাক্ষী হচ্ছে গোটা মানবজাতি। করোনা আবহে এবার বিরল প্রজাতির বন্য কুকুরের সন্ধান দিলেন বিজ্ঞানীরা। ইন্দোনেশিয়ার নিউগিনি অঞ্চলে প্রায় ৫০ বছর পর খোঁজ মিলেছে এ বন্য কুকুরের। তবে বন্য কুকুর হলেও এর মাহাত্ম্য কিন্তু অন্য জায়গায়। এরা সুর করে ডাকে। ফলে তাদের এই সুরেলা চিৎকার অনেকটা গানের মতো শোনায়। আর এ বৈশিষ্ট্য দেখেই বিজ্ঞানীরা অন্য কুকুর বা নেকড়ে থেকে এদের পৃথক করেছেন। এ বিষয়ে ইন্দোনেশিয়ার বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ৫০ বছর আগে ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় এ বন্য কুকুরের দেখা মিলত। কালের নিয়মে এ কুকুরগুলো ধীরে ধীরে পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যায়। যদিও এ বন্য কুকুরের সঙ্গে নেকড়ের অনেকটা মিল বা সাদৃশ্য রয়েছে। জানা গেছে, ১৮৯৭ সালে বিজ্ঞানীরা প্রথম এ বুনো কুকুরের সন্ধান দিয়েছিলেন। তিমি মাছের মতো এরাও সুরেলা কণ্ঠে গান গাইতে পারে বলে সে সময় এরা বেশ জনপ্রিয় ছিল। যদিও কালের নিয়মে ১৯৭০ সালের পর থেকে এরা ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যায়। এরপর ২০১৬ সালে ইন্দোনেশিয়ার বিজ্ঞানীরা প্রথম এ বুনো কুকুরের সন্ধান দিয়েছিলেন। পরে ২০১৮ সালে এ বন্য কুকুরের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। এ কুকুরের নাম নিউ গিনি সিঙ্গিং ডগ। এ প্রজাতির কিছু কুকুর অল্প সংখ্যায় বিভিন্ন চিড়িয়াখানা বা সংরক্ষণ কেন্দ্রে থাকলেও বন্য এলাকা থেকে তারা অবলুপ্ত হয়েছে বলেও মনে করা হতো। কিন্তু ইন্দোনেশিয়ার পাপুয়ার অরণ্যে ওই কুকুরের প্রজাতির খোঁজ পাওয়া গেল। বিষয়টি সোমবার প্রকাশিত হয়েছে একটি বিজ্ঞান জার্নালে। সারা বিশ্বের বিভিন্ন চিড়িয়াখানা ও সংরক্ষণ কেন্দ্র মিলিয়ে ২০০টির মতো সুরেলা কুকুর রয়েছে। ১৯৭০-এর পর স্বাভাবিক বাসস্থানে এদের আর দেখা যায়নি।

You May Also Like