করোনা মাঠে কৃষির খেলা

করোনা, প্যানডেমিক, ট্রান্সমিশন, কমিউনিটি ট্রান্সমিশন, কোয়ারেন্টিন, লকডাউন, ব্যান, রেস্ট্রিক্ট, অ্যাভয়েড, স্টক আপ, সিল বর্ডার, শাট, ক্যানসেল, পোস্টপন, লাইভ স্ট্রিম, আনপ্রিসিডেন্টেড ইত্যাদি শব্দ সামাজিক নির্বাহক হিসেবে একটি নতুন ও অভিন্ন বিশ্ব-সমাজ-সংস্কৃতির ইকুইলিব্রিয়াম অবস্থা তৈরি করেছে। 
শব্দগুলো ইংরেজি ভোকাবুলারি হিসেবে আগে সাধারণের মাঝে পরিচিত ছিল না, তবে বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে সীমিত আকারে ব্যবহার হতো। বর্তমানে ওইসব শব্দকেন্দ্রিক পরিস্থিতি আমাদের জীবনব্যবস্থায় ও প্রকৃতির পরিবর্তনে যে বিবর্তন ঘটিয়েছে, তাই এ নিবন্ধে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। 

করোনাকালে সমাজে ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে অদৃশ্য বা দৃশ্যমান ক্ষতির চেয়ে ভীতির দিকটি নেহাত কম নয়। করোনার প্রাদুর্ভাবে সন্তানদের সাবধানতার নামে পিতা-মাতাকে এড়িয়ে চলা; শিশুসন্তানকে পিতা-মাতার আদর-যতেœ ভীতি এবং মৃত ব্যক্তির সৎকার এড়িয়ে চলা ইত্যাদি বিশ্বে ব্যতিক্রমধর্মী সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক ক্রিয়ার সূচনা করেছে। 

এরূপ ঘটবে কিয়ামতের সময়, যা পবিত্র কোরআন-হাদিস থেকে জানা যায়। বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে করোনার উৎপত্তি মুখ্য নয়, মুখ্য এর সঙ্গে আমাদের আন্তঃসম্পর্ক। মানুষ করোনা সৃষ্টি করেনি, এর সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ, মানুষ এর আহ্বানের নৈতিক ও জৈবিকভাবে নতুন নতুন প্রকরণের কারণ। কারণ, বুঝতে দীর্ঘ ব্যর্থতায় এর প্রকট রূপ এসেছে এবং বিশ্বে নতুন নতুন প্রবলতর প্রকরণ আসবে এ ধারা থাকলে। 
বিজ্ঞানের একজন কর্মী হিসেবে এটি আমার কাছে বেশ পরিষ্কার। অধিকন্তু করোনাকালে কৃষির প্রকৃত অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও প্রতিবেদন তৈরিতে ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে মাঠ-ফসল পরিদর্শন ও সরেজমিন গবেষণা কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা আমাকে এ লেখায় আস্থা জুগিয়েছে। আরও পরিষ্কার হয়েছে মিথ্যা ও অনৈতিক কর্ম পরিহার আর পবিত্রতা অর্জনে পরিত্রাণ। 
বিজ্ঞানের সাইকোলজি থাকা দরকার এবং সাহিত্যও বটে। কোভিড বা মহামারীর প্রভাব নিয়ে অভিনবত্ব কিছু মনস্তাত্ত্বিক, সাহিত্য ও সামাজিক রচনা হতে পারে, শিক্ষার পাঠ্যক্রমও তৈরি দরকার, রচনায় যেন নিত্য ও চিরন্তন আবেদনের দিকটি সময়ে সময়ে বিবেচ্য হয়। 

করোনা আরএনএ ও প্রোটিনযুক্ত এক ধরনের সংক্রামক অণু। আরএনএ জীবকোষেরও মৌলিক উপকরণ এবং জীবের কৌলিতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য বহনকারী ডিএনএ ক্রিয়াকৌশলে সংশ্লিষ্ট। আর ভাইরাসের বেলায় সরাসরি কৌলিতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য বহনকারী। বিজ্ঞান বলে- করোনাভাইরাস পোষকের নির্মাণকৌশল ব্যবহার করে নিজেকে কপি করতে পারে; সেলফ রেপ্লিকেটিং বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। 

ভাইরাস দেহে প্রবেশ করলেই রোগ সংক্রমণ ঘটবে, পক্ষান্তরে পোষক স্বয়ংক্রিয়ভাবে নানা প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলবে। এ ব্যবস্থায় ভার্টিক্যাল ও হরাইজন্টাল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বলে কিছু জীবকৌশল আছে। 

এখানে উভয় কৌশলই কাজ করছে বলে মনে হয়। অনেক অণুপ্রকরণ থাকায় একটি পরিবারে অনেক সদস্যের মধ্যে একজন আক্রান্ত হয়েই সুস্থ হচ্ছেন আবার একটি বিশেষ কমিউনিটিতে অনেকে আক্রান্ত হয়ে প্রায় সবাই সুস্থ হচ্ছেন। উদাহরণস্বরূপ, কোভিড-১৯ প্যানডেমিক হওয়া সত্ত্বে¡ও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এর রোগমাত্রা ভিন্ন ভিন্ন। 

একক বা কমিউনিটির ক্ষেত্রে ভার্টিক্যাল ও হরাইজন্টাল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ক্রিয়া করে। পক্ষান্তরে ব্যাখা করা যায় : পরিবারে একজন আক্রান্ত হওয়ার পর শুধু আক্রান্ত ব্যক্তিরই মৃত্যু ঘটে, আবার একটি বিশেষ কমিউনিটিতে অনেকে আক্রান্ত হয়ে অনেকে মৃত্যুবরণ করতে পারে।  
বিজ্ঞানের জগতে আইনস্টাইনের একটি বিখ্যাত উক্তি : ‘আমার আবিষ্কারের থিওরি যদি বাসার কাজের বুয়া বুঝতে না পারে, তাহলে আমি বুঝে নেব আমার থিওরি ভুল।’ যথার্থই বোঝা যায়, বিজ্ঞানের কথাগুলো অনেক সহজ হওয়া উত্তম, না হলে সেখানে প্রশ্ন থেকে যায়। একটি মজার ব্যাপার হল, জন্মগতভাবেই মানুষের দেহের কোষের মধ্যে করোনা জিন আছে। 

কারও কারও দেহে প্রচ্ছন্ন বা কারও কারও দেহে প্রকট জিন। এ পৃথিবীতে যত অণুজীব/সত্তা ঘটিত মানুষের রোগের কারণ সৃষ্টি হয়েছে বা হবে, তাদের সবার জিন বা কৌলিতাত্ত্বিক ঘটনা মানবদেহে বিদ্যমান, সৃষ্টিলগ্ন থেকেই অর্থাৎ এটি ব্যক্তির বংশগত অর্জন। বলা যায়, প্রত্যেক ব্যক্তি কোভিড জিন বহন করছে। এখানে ভীতি নেই- এটাই মানবজীবনের সূত্র। 
আবার ভিন্নভাবে বলা যায়, একজন ব্যক্তিতে বা কোনো একটি বিশেষ এলাকার জনগোষ্ঠীর জীবদ্দশায় যে অনাক্রম্যতার ক্ষমতা তৈরি হয়, ব্যক্তির বেলায় সেটিকে অ্যাকুয়ার্ড অনাক্রম্যতা আর জনগোষ্ঠীর বেলায় হার্ড অনাক্রম্যতা বলে। আবার কোনো ব্যক্তি একজন সক্রিয় অনাক্রম্যতা ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি থেকে অ্যান্টিবডি গ্রহণ করার পর তার দেহে যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠে, তাকে অক্রিয় অনাক্রম্যতা বলে। সেটি কম টেকসই হয়। 
অ্যাকুয়ার্ড, হার্ড বা অক্রিয় অনাক্রম্যতা- সবই পরিবেশগত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। এখানে মনে রাখা ভালো, বংশগত ও পরিবেশগত রোগ সংবেদনশীলতা একত্রে বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। বিপরীতে উভয়ই একত্রে অনাক্রম্যতা ক্রিয়াশীল হলে সুখবর বয়ে আনে দ্রুত। 

মৃত্যু ও জীবন আল্লাহপাকের সৃষ্টি। এখন প্রশ্ন ‘মৃত্যু সৃষ্টি’ আবার কী? বুঝতে বেশ কঠিন মনে হবে। বিষয়টি পবিত্র কোরআনের সুরা মুলকের দ্বিতীয় আয়াতের অংশবিশেষ। মর্মার্থে বলা যায়, ভাইরাসকে এ তত্ত্বে সহজেই বিশ্লেষণ করা যায়। ভাইরাসকে সংক্রামক কণা বলা হয়। অর্থাৎ ভাইরাস নিজে নিজে জড় এবং এভাবেই সৃষ্টি। 

জীবদেহে প্রবেশের পর জীবের মতো ক্রিয়া করে। তাই কেউ ভাইরাসকে জড় বলে, কেউ জীব, কেউবা এ দুয়ের মাঝামাঝি। মাটি কিন্তু মৃত, আকাশ থেকে আল্লাহপাক ভারি বর্ষণ দ্বারা সঞ্জীবিত করেন। মৃত্যু ও জীবন দুটি অবস্থা। এ পৃথিবীতে প্রথম টিএমভি (টব্যাকো মোজাইক ভাইরাস) আবিষ্কৃত হয়। এখনও এ ভাইরাসটি টব্যাকো ও টমেটোয় দেখা যায়, তবে বৈশিষ্ট্যে সামান্য ভিন্ন। 

গড়পড়তা ভাইরাস সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম সংক্রামক সত্তা। নভেল করোনাভাইরাসের গঠন আইসোমেট্রিক, দেখতে যা গোলাকার ধরনের এবং গড়ে প্রায় ১২০ ন্যানোমিটার ব্যাসার্ধবিশিষ্ট (১ মিটার সমান ১০০০০০০০০০ ন্যানোমিটার)। 
ভাইরাস জীবদেহের কোষের নিউক্লিয়াস, রাইবোজম, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ও গলগি বডিস ব্যবহার করে নিজেকে কপি করতে পারে; ঠিক ফটোকপি মেশিনের মতো। সেখানে জৈব মেশিনের ছাঁচ অনুযায়ী কৌলিতাত্ত্বিকভাবে একই রকম বা আদলে সামান্য পরিবর্তন ঘটতে পারে। এভাবে এর দ্রুত সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটে এবং নতুন নতুন স্ট্রেইন তৈরি হয়। এরা নিজে নিজে চলতে পারে না। ভাইরাস কণা সহজেই কোনো বাহকের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং এভাবেই আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে সুস্থ ব্যক্তিতে বিস্তার ঘটায়। রোগ বিস্তারে বায়ু, জলবিন্দু, ধূলিকণা, পুষ্পরেণু বা অন্য কোনো দূষণকণা পরোক্ষভাবে বাহক হিসেবে কাজ করে। তবে খাদ্যদ্রব্য সাধারণত বাহক নয়। 

ভাইরাসের বহিরাবরণে প্রোটিন থাকায় সারফেস টেনসন (পৃষ্ঠটান) কাজ করে অর্থাৎ কোনো কোনো দ্রব্যের পৃষ্ঠতলে জুড়ে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে তিনবার ভালোভাবে ধৌত করলে অণুর সংখ্যা নিরাপদ সংখ্যায় নেমে আসে। 

মনে রাখা দরকার, করোনা অণুর একটি বিশেষ সংখ্যা/ঘনমাত্রা না থাকলে এর সংক্রমণ ঘটবে না। খোলা হাওয়ায় আপেক্ষিকভাবে বায়ুপ্রবাহ থাকায় করোনা অণুর ঘনমাত্রা ক্রমশ কমে যায় বা চারদিকে ছড়িয়ে অণুর ঘনমাত্রা দ্রুত হ্রাস পায়। কোনো জীবাণু বা রোগসত্তা (ভাইরাস) দ্বারা প্রাথমিক রোগ সংক্রমণের নির্ধারিত স্থানে একটি নির্দিষ্ট ইনোকুলাম পটেনশিয়াল মাত্রা লাগে, তা না হলে রোগ তৈরি হয় না। 
এ জন্য বাধাহীন খোলা গ্রামীণ পরিবেশে সুস্থ থাকা সহজ। এ পরিবেশে অ্যাকুয়ার্ড ও হার্ড বা অক্রিয় অনাক্রম্যতা অর্থাৎ পরিবেশগত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি কার্যকর। 
সমভাবে বলা যায়, দু’প্রক্রিয়ায় অর্থাৎ উচ্চ পরিবেশগত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং নিু ঘনমাত্রার করোনা অণুর কারণে রোগ কম হতে পারে। 

এখানে লক্ষণীয়, এ প্রকৃত মতবাদে গ্রামীণ খোলা পরিবেশ তৈরিতে কৃষিই মুখ্য ভূমিকা রাখে। পানি, বায়ু, সূর্যের আলো ও মাটি কৃষির প্রকৃতিগত অত্যাবশ্যকীয় উপকরণ, অন্যগুলো সাধারণ জ্ঞাননির্ভর ও আপেক্ষিক। আমরা কমই খবর রাখি, প্রকৃতিগত উপকরণগুলোর ক্রিয়া আর জ্ঞাননির্ভর ও আপেক্ষিকগুলোর বাহ্যিক কিছুটা জানি। কবি রবীন্দ্রনাথের ভাষায়: সহজ কথা যায় না বলা সহজে। এখানেই যত বিপত্তি! 
মানুষের প্রথম প্রয়োজন কী? কৃষি কী? কারাই বা কৃষিকে জিয়ে রেখেছেন? করোনায় কৃষি কেমন আছে? মনে হবে, উত্তর সহজ। ওই যে বলেছি, সহজ কথা যায় না বলা সহজে। উত্তরদাতাকে অবশ্যই কৃষিবিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অন্তর্নিহিত বিষয়াদি সম্বন্ধে সম্যকভাবে জ্ঞাত হতে হবে। 

কৃষি হল- ‘সব যুগে ঋতু অনুক্রমিকভাবে উপযোগী, অত্যাবশ্যকীয় ও গৌরবান্বিত জুতসই বিচিত্র ফসলের বহুমুখী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সমন্বিত ব্যবস্থাপনা।’ এ ব্যবস্থাপনার একক ধরে যদি প্রশ্ন করা হয়- ‘গম কী’? 

উত্তর হবে- একজন পশুপালকের কাছে গম তৃণ, কৃষিশ্রমিকের কাছে একটি শ্রম, পরিবেশবিদের কাছে পৃথিবীর সবুজ আবরণ, কৃষিতত্ত্ববিদের কাছে ফসল, কৌলিতত্ত্ববিদের ধারণায় জার্মপ্লাজম বা জিনের আধার, জীবাণুতত্ত্ববিদের কাছে জীবাণুর আশ্রম, উদ্ভিদ রোগতত্ত্ববিদের কাছে রোগ-জীবাণুর পোষক, মৃত্তিকা বিজ্ঞানীর ভাবনায় মাটির প্রাণ-জৈব পদার্থের উৎস, ভূতত্ত্ব ও খনিজবিদের কাছে খনিজ পদার্থের উৎস, ব্যবসায়ীর কাছে পণ্য, ভোক্তার কাছে খাদ্য, রসায়নবিদের কাছে শর্করা, ধর্মবিশ্বাসীদের কাছে স্রষ্টাকে চেনার নিদর্শন বা প্রতীক এবং রাজনীতিবিদের কাছে একটি রাষ্ট্রীয় সমস্যা ইত্যাদি। 

সহজ কথায়, কৃষি রাষ্ট্রের সমাধানের বৃহদাংশ, জনগণের দেহের চিকিৎসা ও মনের একাংশ। কথিত আছে, মা হাওয়া (আ.) কিছু গমবীজ নিয়ে স্বর্গ থেকে এ পৃথিবীতে আসেন। তার হাতেই কৃষির সূচনা। অর্থাৎ, কৃষি আছে পৃথিবীর সৃষ্টিলগ্ন থেকেই। ধারাবাহিকতায় বিশ্বে জ্ঞান অন্বেষণে সব শাখার মধ্যে শীর্ষে কৃষি, অন্য অধ্যয়নগুলো নবীন, ক্ষণিক, সংক্ষিপ্ত ও আপেক্ষিক। 
করোনাকালই বিশেষভাবে প্রমাণ করছে- কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থাটি বিশ্বের সব রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার মধ্যে প্রকৃতির সর্বোচ্চ কল্যাণ ও সর্বনিু ক্ষতির মাত্রায় আছে এবং সর্বোপরি এর পরিচালনায় রয়েছে মানুষের সৃষ্টিগত ও উচ্চ প্রকৃতিগত যোগ্যতা। অধিকন্তু কৃষিতে আছে তৃণ ও বৃক্ষ, আছে দু’শর অধিক ফসল, পরস্পরের রয়েছে সুগভীর আন্তঃসম্পর্ক। যদি প্রশ্ন আসে, পরিবেশে একটি বৃক্ষের মূল্য কত? 

এ প্রশ্নের সরাসরি জবাব দিতে পারা যায় কি? তবে ভারতের দেরাদুন রিসার্চ ইন্সটিটিউটের গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, ৫০ বছর বয়স্ক একটি গাছ থেকে ৩০ লাখ টাকার বৃষ্টি ও আর্দ্রতা, ২ দশমিক ৫ লাখ টাকার অক্সিজেন, ৫ লাখ টাকার বায়ুদূষণ রোধ, ২ দশমিক ৫ লাখ টাকার পশুপাখির বাসস্থান, ভূমি ক্ষয়রোধ ও উর্বরতা রক্ষায় ২ দশমিক ৫ লাখ টাকা এবং পশুপাখি ও জীবজন্তুর খাদ্যরূপে ২০ হাজার টাকা অর্থাৎ মূলধন ছাড়াই সর্বমোট ৪২ লাখ ৭০ হাজার টাকার উপকার পাওয়া যায়। 
এ হিসাব মোটামুটি সত্য ধরে নিলে এর সঙ্গে একটি ফলবান বৃক্ষের অবদান ও মানুষের সন্তুষ্টি বাবদ মূল্যও সংযোজন করতে হয়, যা সত্যিই বিস্ময়কর। এ অঙ্কে আছে পৃথিবীর সব ফসলের যোগ। বর্তমানে এর মূল্য শুধু অনুধাবন পর্যায়ে রাখা হল। মূল্য বুঝে রাশিয়ার বিপ্লবে এক বৃদ্ধা সাত সন্তানকে যুদ্ধে হারিয়ে সন্তানের বিকল্প হিসেবে সাতটি বৃক্ষ এ জন্যই রোপণ করেছিলেন এবং তাতে হয়েছিলেন আত্মতৃপ্তিতে মহীয়ান। 


ড. মো. মামুনুর রশীদ : অধ্যাপক, প্ল্যান্ট প্যাথলজি বিভাগ, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুর। 
 

You May Also Like