দেশে মৎস্য উৎপাদনে ২য় স্থানে যশোর

কৃষি ও আমিষ ডেস্ক ॥ 

মাছ উৎপাদনে যশোর জেলা স্বয়ংসম্পূর্ণ। প্রতিবছর জেলাটিতে মাছ উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। গেল ২০১৯-২০ অর্থবছরে মাছ উৎপাদন হয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৯২ দশমিক ৮৫ মেট্রিক টন। যশোর জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮-২৯ অর্থবছরে উৎপাদন হয়েছিল ২ লাখ ২২ হাজার ১৬৮ মেট্রিক টন এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরে উৎপাদন হয়েছিল ২ লাখ ১৮ হাজার ৬১০ মেট্রিক টন। গেল ২০১৯-২০ অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি মাছ উৎপাদন হয়েছে সদর উপজেলায় ৩৮ হাজার ৮৭৬ দশমিক ৮৫ মেট্রিক টন। আর কম উৎপাদন হয়েছে বাঘারপাড়া উপজেলায় ৯ হাজার ৭০৭ মেট্রিক টন। এছাড়া অভয়নগর উপজেলায় উৎপাদন হয়েছে ২৯ হাজার ৫৭৪ মেট্রিক টন, ঝিকরগাছায় ৩০ হাজার ৯০৯ মেট্রিক টন, মনিরামপুরে ৩৭ হাজার ৭২৫ মেট্রিক টন, কেশবপুরে ৩৩ হাজার ৮২০ মেট্রিক টন, শার্শায় ২৫ হাজার ৫৭৮ মেট্রিক টন এবং চৌগাছা উপজেলায় ১৭ হাজার ৮৪৫ মেট্রিক টন মাছ। যশোর জেলায় ২২ প্রজাতির মাছ চাষ হয়ে থাকে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি রুই মাছ উৎপাদন হয়ে থাকে। গত বছর রুইমাছ উৎপাদন হয় ৪৯ হাজার ৮৭০ দশমিক ৮৭ মেট্রিক টন, কাতল মাছ ১৪ হাজার ৩৯৮ মেট্রিক টন, মৃগেল ২৫ হাজার ৯৯৯ মেট্রিক টন, সিলভার কার্প ৪১ হাজার ৫৫২ মেট্রিক টন, পাঙ্গাস ১১ হাজার ৭৮১ মেট্রিক টন, তেলাপিয়া ২০ হাজার ৭৯৩ মেট্রিক টন এবং অন্যান্য ছোট মাছ ৫ হাজার ৯৯০ মেট্রিক টন। 
জেলার অন্যতম মৎস্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আফিল এ্যাকোয়া ফিশ। ২ হাজার বিঘা জমির ওপর ৮টি ইউনিট চালু রয়েছে তাদের। যেখানে প্রতিদিন ১০ মেট্রিক টন মাছ ও মাছের পোনা উৎপাদন করা হচ্ছে। এখানে ২ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আফিল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও যশোর-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন জানান, ২০০৮ সালে আমি প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবার পর শার্শা উপজেলার মান্দারতলায় জলবদ্ধতা নিয়ে ভাবতে শুরু করি। এরপর মৎস্য বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজেই গড়ে তুলি এ্যাকোয়া ফিশ ফার্ম। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। বর্তমানে আফিল এ্যাকোয়া ফিশে নিবিড় পরিচর্ষার মাধ্যমে বিলুপ্ত প্রায় দেশীয় বিপুল মাছ উৎপাদন করা হচ্ছে। যেখানে মাছের গুণগতমান সঠিক রাখা হয়েছে। এতে করে একদিকে যেমন এলাকার মানুষ জলাবদ্ধতার কবল থেকে মুক্তি পেয়েছে তেমনি মানুষের কর্মসংস্থান করা হয়েছে। আমরা ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে মাছের উৎপাদনে যাব। 

ঝিকরগাছা উপজেলার রঘুনাথনগর গ্রামের মৎস্য চাষি এসএস আহমেদ ফারুক জানান, তিনি ৩২ বছর ধরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ উৎপাদন করে আসছেন। ৫২ বিঘা জমির ওপর তার মৎস্য ঘের রয়েছে। যেখানে বছরে মাছ উৎপাদন হচ্ছে কোটি টাকার। এরমধ্যে পাবদা মাছ বছরে রফতানি করি ৪০ মেট্রিক টন। বর্তমানে আমার ঘেরে পাবদা, টেংরা, রুই ও ভেটকি মাছ আবাদ হচ্ছে। বেনাপোলের ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন অফিসার মাহবুবুর রহমান জানান, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ভারতে মাছ রফতানি হয়েছে ৩২ লাখ ৬৭ হাজার ৪৪ কেজি, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার ৬৩০ কেজি এবং গেল ২০১৯-২০ অর্থবছরে রফতানি হয়েছে ৫২ লাখ ৪৫ হাজার ৮ কেজি। যার রফতানি মূল্য এক কোটি ৩১ লাখ ১২ হাজার ৫২০ ডলার। যশোরের শার্শা উপজেলার সততা ফিশের স্বত্বাধিকারী আবদুল কুদ্দুস জানান, তারা পাবদা, টেংরাসহ অন্যান্য মাছ আবাদ করে থাকেন। বছরে কমপক্ষে ৫০ হাজার মেট্রিক টন মাছ উৎপাদন হচ্ছে। 

এ ব্যাপারে যশোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আনিছুর রহমান জানান, যশোর জেলায় ৭০ হাজার ২৯২ হেক্টর জমিতে মাছের উৎপাদন হচ্ছে। জেলাটি মাছ উৎপাদনে দেশের মধ্যে দ্বিতীয় স্থান দখল করে রেখেছে। প্রথম স্থানে রয়েছে ময়মনসিংহ জেলা। বছরে ৫শ’ কোটি টাকার মাছ উৎপাদন হচ্ছে এ জেলায়। এখানকার মাছ রফতানি হবার পাশাপাশি সারা দেশে বিক্রি হচ্ছে। মাছ উৎপাদনে জড়িতদের সঙ্গে আমরা সর্বক্ষণিক যোগাযোগ করে থাকি। তাদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে। 

--------***********------------- 
 

You May Also Like