ফসল চাষ শিখতে বিদেশ যাবেন ৪০ কর্মকর্তা খরচ হবে ২ কোটি টাকা

ঢাকা থেকে সংবাদদাতা ॥ 

তৈলজাতীয় ফসলের চাষ শিখতে ও মৌ মাছি পালনে প্রশিক্ষণ নিতে বিদেশে যাবেন ৪০ কর্মকর্তা। এর মধ্যে তৈলজাতীয় ফসলের চাষ শিখতে শিক্ষা সফরে যাবেন ৩৬ কর্মকর্তা। এই সফরের পেছনে ব্যয় হবে এক কোটি ৮০ লাখ টাকা। এ ছাড়া মৌ মাছি চাষের ওপর বিদেশে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নেবেন আরও চার কর্মকর্তা। এদের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২০ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে ৪০ কর্মকর্তার বিদেশ ভ্রমণ বাবদ খরচ হবে ২ কোটি টাকা। মৌ মাছি চাষে উচ্চতর প্রশিক্ষণে বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে ৩০ জন কর্মকর্তার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। কিন্তু পরিকল্পনা কমিশনের আপত্তির কারণে তা কমিয়ে চারজন করা হয়। সেই সঙ্গে পরামর্শকদের বিদেশে শিক্ষা সফরসহ বিভিন্ন খাতের ব্যয় বাদ দেয়া হয়েছে। ‘তৈলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি’ শীর্ষক প্রকল্পে ঘটেছে এমন ঘটনা। কৃষি মন্ত্রণালয়ের এ প্রকল্পটি গত ১৬ জুলাই অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ২৭৮ কোটি ২৬ লাখ টাকা। একনেকের জন্য তৈরি প্রকল্পের সারসংক্ষেপ পর্যালোচনা করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, এত খুঁটিনাটি বিষয় দেখা আমার পক্ষে সম্ভব হয় না। তবে প্রকল্পটি অনুমোদন হলেও বিষয়টি দেখার সুযোগ আছে। আমি খতিয়ে দেখব। প্রয়োজনে প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলব। এ প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে বর্তমানে রাজস্ব আদায় ব্যাপক হারে কমে গেছে। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থের যথেষ্ট সংকট রয়েছে। সরকার ইতেমধ্যে কৃচ্ছ সাধনের জন্য বিভিন্নভাবে খরচ কমানোর উদ্যোগও নিয়েছে। সেখানে এরকম একটি প্রকল্পে বিদেশ সফরের আয়োজন কেন রাখতে হবে সেটিই বড় প্রশ্ন। তাছাড়া উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বিদেশ ভ্রমণ এখন যেন একটি অপরিহার্য অংশে পরিণত হয়েছে। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সূত্র জানায়, প্রকল্পটির প্রস্তাব পাওয়ার পর গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় বলা হয়, ডিপিপিতে (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) প্রস্তাবিত মৌ মাছি পালনের ওপর কর্মকর্তাদের সার্টিফিকেট কোর্সের সংখ্যা দুই ব্যাচ থেকে যৌক্তিকভাবে বাড়ানো যেতে পারে। তবে এ বিষয়ে বিদেশে উচ্চতর প্রশিক্ষণের সংখ্যা ৩০ জন থেকে কমিয়ে ৪ জন করতে হবে। পরবর্তী সময়ে সেটি মেনে নেয় কৃষি মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া প্রকল্পে প্রস্তাবিত ভিডিও ক্যামেরা, ডিএসএলআর ক্যামেরা, পরামর্শকদের বিদেশে শিক্ষা সফর, আনুষঙ্গিক ব্যয়, প্রতিটি উপজেলায় উপ-পরিচালক কর্তৃক বছর শেষে মেন্টরিং ও ফলোআপ আলোচনা, আঞ্চলিক ও জেলা মনিটরিং টিম গঠন করে ডিএইর কার্যক্রম মনিটরিংয়ের প্রস্তাব বাদ দেয়ার পক্ষে মত দেয় পরিকল্পনা কমিশন। সেই সঙ্গে অর্থ বিভাগের জনবল কমিটির সুপারিশ না থাকায় প্রস্তাবিত ২৫টি যানবাহন ক্রয়ের প্রস্তাবও ডিপিপি থেকে বাদ দিতে বলা হয়। পরিকল্পনা কমিশনের সুপারিশ মেনে মূল প্রকল্প প্রস্তাবে এসব বাদ দিয়ে ডিপিপি সংশোধন করে কৃষি মন্ত্রণালয়। তারপরও মোট ৪০ কর্মকর্তার বিদেশ সফরের আয়োজন রয়েছে। পিইসি সভায় ডিপিপিতে প্রস্তাবিত এলাকা ডিএইর ১৪টি অঞ্চল অপরিবর্তিত রেখে ৬৪টি জেলার ৪৭৬টি উপজেলার পরিবর্তে সম্ভাবনাময় ২৫০টি উপজেলায় বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়। এই পরিপ্রেক্ষিতে ডিপিপিতে প্রস্তাবিত ডেক্সটপ কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মাল্টিমিডিয়া, ফটোকপিয়ার, এয়ারকুলার, ওয়াটার ফিল্টার, ভ্রমণ ব্যয়, স্টেশনারি, সিল ও স্ট্যাম্পস, প্রচার ও বিজ্ঞাপন, অডিও/ভিডিও/ডকুমেন্টেশন এবং মুদ্রিত ও প্রকাশনা বাবদ প্রস্তাবিত ব্যয়সহ যন্ত্রপাতি ও ইকুইপমেন্টের সংখ্যা, মূল্য ও ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে হ্রাস করে নির্ধারণ করতে বলে পরিকল্পনা কমিশন। চলতি বছর থেকে ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের নেতৃত্বে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট, বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন। প্রকল্পের আওতায় প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে, ক্রপিং প্যাটার্নভিত্তিক তৈলজাতীয় ফসল আবাদের জন্য ৪০ হাজারটি প্রদর্শনী ক্ষেত স্থাপন করা হবে। এ ছাড়া প্রদর্শনী বাস্তবায়নের পরবর্তী বছরে অভিযোজনের জন্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রমাণিত উন্নত জাতের ৪ লাখ ২০ হাজার ৭৪৮ কেজি বীজ বিতরণ। তৈলবীজ ফসলের প্রজনন ও মানসম্মত বীজ উৎপাদন ও বিতরণ। জাতীয় উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য বিদ্যমান অবকাঠামোতে গুণগত মানসম্পন্ন ৮৪১ দশমিক ৫৩ টন বোরো, আউশ ধান বীজ ও পাট বীজসহ ২১০ টন মসুর বীজ ও তৈলবীজ উৎপাদন। এ ছাড়া রয়েছে কৃষক প্রশিক্ষণ, কৃষি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, মাঠ দিবস এবং কৃষক উদ্বুদ্ধকরণ।

You May Also Like