ভাসমান খাঁচায় মাছ চাষ

আবুল কাসেম ভূঁইয়া 


অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষের মাধ্যমে দেশের মৎস্যখাত অনেক এগিয়ে গেছে। আমাদের দেশে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির ল্েয মৎস্য বিজ্ঞানীরা নতুন নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করছেন। এসব পদ্ধতির মধ্যে ভাসমান খাঁচায় মাছ চাষ ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। নদী বা জলাশয়ে ভাসমান খাঁচায় মাছ চাষ শুরু হয়েছে। এই পদ্ধতিতে মাছের উৎপাদন বেশি হওয়ার কারণে মৎস্য চাষিরা এই পদ্ধতিতে মাছ চাষে এগিয়ে আসছেন। ভাসমান খাঁচায় মাছ চাষ সম্পর্কে জানা যায় পুকুরে যে পরিমাণ মাছ উৎপাদন হবে খাঁচায় মাছ চাষ করলে তার চেয়ে অন্তত বিশ গুণ বেশি মাছ উৎপন্ন হবে। কারণ পুকুরের পানি বদ্ধ আর নদী বা জলাশয়ের পানি সব সময় প্রবহমান। তাই নদী বা জলাশয়ের পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ বেশি থাকে, যা মাছ বৃদ্ধির জন্য সহায়ক। পুকুরে সরবরাহকৃত খাবারের উচ্ছিষ্ট ও মাছের মল জমে পানি দূষিত হয়। ভাসমান খাঁচায় সেই সুযোগ নেই। পুকুর বদ্ধ হওয়ায় জৈব খাবারের পরিমাণ কম হয়। আর ভাসমান খাঁচায় জৈব খাবারের উৎপাদনের সুযোগ অনেক বেশি থাকে। ভাসমান খাঁচায় মাছ চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে জানা যায় ‘‘খাঁচা যে কোনো মাপের হতে পারে। এক বর্গমিটার (২ হাত) প্রায় ৫ বর্গমিটার, ১০.৫০ বা ১০০.৫০ বর্গমিটার মাপের। এই খাঁচা বড়ো পুকুর বা দীঘিতে বসানো যেতে পারে। তবে সেখানে সমস্ত পুকুরের আয়তনের ৫ ভাগ বা ১০ ভাগ ব্যবহার করা যাবে। প্রতি ঘন মিটারের (২ হাত ২ হাত ২ হাত) প্রায় খাঁচায় চার-পাঁচ মাসে ১০ থেকে ১৫ কেজি মাছ পাওয়া যেতে পারে। ভাসমান খাঁচা বসাতে হবে খরস্রোত পানিতে। যেমন- বর্ষা মৌসুমে যে সমস্ত এলাকা ডুবে যায় সেখানে অথবা নদীর বাঁকে যেখানে স্রোত থাকে খুব কম। খাঁচা বসাতে পানির গভীরতা থাকতে হবে সর্বনিম্ন ১২ মিটার বা ৪৬ ইঞ্চি। তবে সর্বোচ্চ পানির উচ্চতায় কোনো হিসেব নেই। খাঁচা বসাতে খাঁচার মাপের ওপরে একটি বাঁশের ফ্রেম তৈরি করতে হবে এবং চার কোণায় বাঁশ পুঁতে শক্ত করে বেঁধে দিতে হবে। পানি বাড়লে খাঁচা ওপরে তুলে দিতে হবে। পানি কমলে নিচু করে দিতে হবে। খাঁচার ওপরে খোলা এবং পাঁচ দিকে জল এবং পানির ওপরে এক ফুট উঁচু রাখতে হবে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক নোঙ্গর দিয়ে খাঁচাটি পানির নির্দিষ্টস্থানে বসাতে হবে। এেেত্র জিআই পাইপের স্থানে বাঁশও ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে সেেেত্র স্থায়িত্ব কম হয়। খাঁচায় বিভিন্ন ধরনের মাছ চাষ করা যায়। এসব মাছের মধ্যে রয়েছে বিদেশি ঘাওর, নাইলোটিকা, রাজপুঁটি, কার্প প্রজাতি এবং পাঙ্গাস। এসব মাছের গড় উৎপাদন চার-পাঁচ মাসে প্রতি ঘনমিটার ৫-১৫ কেজি। এসব খাঁচায় সব সময়ই বড়ো সাইজের পোনা ছাড়া ভালো। খাঁচায় মাছ চাষ করতে খাদ্য প্রয়োগ নিয়ম অনুযায়ী করতে হবে। সুষম খাদ্য হিসেবে দৈনিক দুই-তিন বার খাবার দিতে হবে। এখানে প্রাণিজ আমিষ যেমন শুঁটকি মাছ, শামুকের মাংস, গরু-ছাগলের রক্ত, মাংসের ছাঁটি বা গরু-ছাগলের নাড়িভুঁড়ি ইত্যাদি। দ্বিতীয়ত যে কোনো খৈল যেমন সরিষা, তিল, নারিকেল, বাদাম, সয়াবিন, তিসি, তুলা ইত্যাদি দেওয়া হয়। এছাড়া প্রচুর ঘাস খায় নাইলোটিকা, গ্রাসকার্প এবং রাজপুঁটি। ঘাসের মধ্যে নরম ঘাস যেমন : রাইদা, ইছাদল, পোটকা ইত্যাদি। সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতি ১০টি খাঁচায় মাছ চাষ করে প্রতি ছয় মাসে কমপে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। খাঁচায় মাছ চাষ ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। 
 

You May Also Like