জোর করে কৃষিজমির মাটি কেটে নেওয়ার অভিযোগ

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি ॥ 

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় সড়ক সম্প্রসারণের কাজে কৃষিজমি থেকে জোর করে মাটি কেটে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রানা বিল্ডার্স নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ কাজ করছে। এ কাজে বাধা দিলে উল্টো কৃষকদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বড়দহ এলাকায় আফসার আলী বলেন, ‘সম্পূর্ণ জোর করে ও ধোঁকা দিয়ে আমাদের জমির মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে। আমাদের একটি টাকাও দেওয়া হয়নি। এলাকার শতাধিক কৃষকের অপূরণীয় তি হয়েছে।’ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গোবিন্দগঞ্জ-নাকাইহাট সড়কের বড়দহ সেতু থেকে ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ সম্প্রতি শুরু হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৩২ কোটি টাকা। রানা বিল্ডার্স নামের কুমিল্লার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়। স্থানীয় কৃষকেরা বলেন, ওই কাজের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি সড়কের দুই ধারের কৃষিজমি থেকে জোর করে মাটি তুলছে। আবাদি জমি থেকে তাঁদের না জানিয়ে খননযন্ত্র দিয়ে মাটি তোলা হচ্ছে। এতে বাধা দিলেও কর্ণপাত করছে না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। বরং তাঁদের হুমকি  দেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় বোরো মৌসুমে ধান রোপণও করা যাচ্ছে না। বড়দহ এলাকার কশেম আলী বলেন, ‘আমাদের কোনো তিপূরণ দেয়নি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি।’ গত সোমবার বড়দহ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেতুর সংযোগ সড়কের দুই পাশে তিন থেকে চার ফুট গর্ত করে মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে। এ এলাকার তাহের মিয়া বলেন, ‘এবার ধানের দাম কম পেয়েছি। এর ওপর জর্মি গর্ত করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। গর্ত পূরণ করতে অনেক টাকার প্রয়োজন। এবার গর্ত পূরণ করতে পারব না। ফলে বোরো মৌসুমে চাষাবাদ করা যাচ্ছে না।’ এ ব্যপারে কথা বলার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক আলম মিয়ার মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি ধরেননি। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি লিটন মিয়া বলেন, ‘আমরা কৃষকদের সঙ্গে সমন্বয় করে মাটি নিয়েছি। তবে দু-একজনের অভিযোগ থাকাটা স্বাভাবিক।’ এ বিষয়ে সওজের গাইবান্ধা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমি বিষয়টি শুনেছি। সরকার সড়কের মাটি ভরাটের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পর্যাপ্ত বরাদ্দ দিয়েছে।’

You May Also Like