আট প্রজাতির জীব ছাড়া পৃথিবী অচল

আমিষ ডেস্ক ॥ 

পৃথিবীতে প্রতিটি জীবই বিশেষ কিছু ভূমিকা পালন করে। কিন্তু গ্রহে জীবনে টিকিয়ে রাখতে কিছু প্রজাতির গুরুত্ব অন্যদের চেয়ে বেশি এই তালিকায় প্রথমেই উঠে আসে মৌমাছির নাম। রয়াল জিওগ্রাফিক্যাল সোসাইটি মৌমাছিকে পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রাণী বলে ঘোষণা দিয়েছিল। বাস্তুসংস্থান টিকিয়ে রাখতে ভূমিকা রাখে এ প্রাণী। ফুলে ফুলে ঘুরে ঘুরে পরাগগায়নের মাধ্যমে এবং নতুন জায়গায় বীজ ছড়ানোর মাধ্যমে বিভিন্ন উদ্ভিদ প্রজাতিকে বাঁচিয়ে রেখেছে মৌমাছি। এমনকি আমরা যেসব শস্য খাই, সেগুলোর অনেকটিই মৌমাছির ওপর নির্ভরশীল। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জীব হচ্ছে পিঁপড়া। অনেকসময় আমরা পিঁপড়াকে তিকর বলে বিবেচনা করি। কিন্তু এরা কতোটা গুরুত্বপূর্ণ তা আমরা জানিও না। অ্যান্টার্কটিকা ছাড়া পৃথিবীর সব মহাদেশেই আছে এই প্রাণী মাটিতে পুষ্টি ছড়িয়ে দেওয়া, বীজ ছড়ানো এবং অন্য প্রাণীর মরদেহ খেয়ে পরিবেশ রা করার মতো কাজ করে এ প্রাণী। জলবায়ু পরিবর্তনে পিঁপড়ার বাসস্থানে কী প্রভাব পড়ছে তা নিয়ে গবেষণা করছেন বিজ্ঞানীরা। গুরুত্বপূর্ণ জীবের তালিকায় আছে ছত্রাকের নাম। উদ্ভিদ নাকি প্রাণী, জীবাণু নাকি প্রোটোজেয়া, ছত্রাক নিয়ে প্রায়ই এমন দ্বিধায় ভোগেন বিজ্ঞানীরা। এজন্য একে কখনও কখনও ‘পৃথিবীর জীবনের পঞ্চম বিশ্ব’ হিসেবেও বর্ণনা করা হয়। পানিতে, মাটিতে, এমনকি বাতাসেও এদের উপস্থিতি দেখা যায়। ছত্রাক অনেকটা প্রাকৃতিক পুষ্টি পুনর্ব্যবহারকারী হিসেবে কাজ করে। ছত্রাকের কিছু  প্রজাতি পারদ জাতীয় তিকারক ধাতুও শোষণ করতে পারে, অনেক প্রজাতি এমনকি প্লাস্টিকও হজম করতে পারে। ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটনেরও আছে অনেক গুরুত্ব। এই অণুজীবগুলি পৃথিবীর জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা বোঝানো বেশ সহজ। গ্রহের বায়ুমণ্ডলীয় অক্সিজেনের অর্ধেকের বেশি উৎপাদন করে ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন। সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্রের খাদ্য শৃঙ্খলার ভিত্তিও এই অণুজীব। গুরুত্বপূর্ণ জীব হিসেবে নাম আছে বাদুড়েরও। কলা, বাওবাব গাছ আর টাকিলা- এই তিনটির মধ্যে কোনো মিল খুঁজে পান? এই সবকটিই পরাগায়ন এবং কীটের আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য বাদুড়ের ওপর নির্ভরশীল। একেক প্রজাতির বাদুড় একেকটি ফসলের ফলন অব্যহত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতিবছর পোকা খেয়ে প্রাকৃতিক উপায়ে কীট দমন করে বাদুড়; ফলে বেঁচে যায় কয়েক মিলিয়ন ডলার। শক্তিশালী বাস্তুতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি এই প্রাণী। গুরুত্বপূর্ণ জীবের তালিকায় কেঁচোকে দেখে ঘাবড়ে যেতে পারেন। আসলে এই প্রাণীকে অনেক বাস্তুতন্ত্রের প্রকৌশলী হিসেবেও অভিহিত করেন। মাটি খুঁড়ে চলাচলের মাধ্যমে প্রাকৃতিক হালচাষের কাজ করে এ প্রাণী। তবে সঠিক পরিবেশের অভাবে বর্তমানে বেশ হুমকির মধ্যে আছে  এ প্রাণী। আরেক গুরুত্বপূর্ণ জীব প্রাইমেটের কথা না বললেই নয়। প্রাণীজগতে মানুষের সবচেয়ে নিকট আত্মীয় এই প্রাইমেটরা। গ্রীষ্মমণ্ডলের নানা বনাঞ্চলে নানা উদ্ভিদের বীজ ছড়িয়ে দিয়ে প্রকৃতিক বনায়নে সহায়তা করে প্রাইমেট। প্রবালের গুরুত্ব দিয়ে শেষ হবে এই আলোচনা। এগুলোকে সমুদ্রের রেনফরেস্ট বলে আখ্যা দেওয়া হয়। উপকূল রা, নতুন নতুন ভূমি গড়ে তুলে নতুন বাস্তুসংস্থান তৈরি করা-এমন নানা ভূমিকা পালন করে প্রবাল।

You May Also Like