গাজীপুরে তিন মাস ধরে ডিমের বাজারে মন্দা

গাজীপুর থেকে সংবাদদাতা  ॥

 প্রতিটি মুরগির ডিম উৎপাদনে খরচ পড়ে ৭ টাকা। কিন্তু বর্তমানে গাজীপুরে খামারি পর্যায়ে এ ডিম বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৬ টাকা ৬৫ পয়সায়। এতে প্রতিটি ডিমে কমপে ৩৫ পয়সা করে লোকসান গুনতে হচ্ছে স্থানীয় খামারিদের।  গত তিন মাস ধরেই ডিমের বাজারে মন্দাভাব বিরাজ করছে গাজীপুরে। রমজান মাস ঘনিয়ে আসায় বাজার নিয়ে আরো দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রমজান মাস বা কোরবানির সময় এলেই ডিমের চাহিদা কমে যায়। এতে খামারি পর্যায়ে ডিমের দাম ৩-৪ টাকায় নেমে আসে। এবার বাজারে আগে থেকেই মন্দা ভাব বিরাজ করায় দাম আরো কমে যেতে পারে। বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা গেছে, দেশে প্রতিদিন ৪ কোটি ২৬ লাখ ডিম উৎপাদন হয়। এর মধ্যে গাজীপুরের সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ৩ হাজার ২০০ খামার থেকে পাওয়া যায় ৪০ থেকে ৪৫ লাখ ডিম, যা দেশের মোট উৎপাদনের প্রায় ১০ শতাংশ। তিন মাস ধরে বাজারে মন্দার কারণে প্রতিটি লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ৬ টাকা ৬৫ পয়সায়। আর সাদা ডিম বিক্রি হচ্ছে ৬ টাকা ৩০ পয়সায়। ডিমের দাম কম থাকায় তিন মাস ধরেই লোকসান হচ্ছে। জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ডিম উৎপাদন হয় শ্রীপুরে। এ উপজেলার আজীরন পোলট্রি ফার্মের মালিক তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ডিমের মূল্য নির্ধারণ করে ঢাকার আড়তদাররা। উপকরণের দাম বাড়লে পণ্যের দামও বাড়ে। কিন্তু ডিমের বেলায় তা হচ্ছে না। বাচ্চা, খাদ্য ও চিকিৎসা ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আড়তদাররা ডিমের দাম নির্ধারণ করেন না। তারা যা নির্ধারণ করে দেন, সে দরেই বিক্রি করতে হয় খামার মালিকদের। তিনি জানান, প্রতি বছর কেবল অক্টোবর ও নভেম্বর এ দুই মাস ডিমের বাজার ভালো থাকে। বছরে বাকি সময়ের মধ্যে পুরো রমজান মাস এবং কোরবানি ঈদের আগে-পরে এক মাস ডিমের চাহিদা থাকে না। তখন দাম কমে ৩-৪ টাকায় নেমে আসে। এবার ডিমের দাম আগে থেকেই কম। এদিকে মাস দেড়েক পরই রমজান শুরু হবে। তাই সামনে বাজার চাঙ্গা হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ও বাংলাদেশ পোলট্রি খামার রা জাতীয় পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মো. মহসিন জানান, ২০১৫, ২০১৬ ও ২০১৭ সাল ছিল পোলট্রি খামারিদের জন্য সবচেয়ে দুর্দশার সময়। দাম না পেয়ে লাখ লাখ ডিম রাস্তায় ভেঙে প্রতিবাদ করেন খামার মালিকরা। ২০১৮ সালের মাঝামাঝিতে এসে বাজার বাড়তে শুরু করে। ২০১৯ পর্যন্ত বাজার খুবই ভালো ছিল। কিন্তু দু-তিন মাস ধরে আবার লোকসান গুনতে হচ্ছে। সামনে রমজান। তখন ডিমের দাম আরো কমে যাবে। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ, শ্রমিক ও খাদ্য বাবদ খরচ বেড়েছে। ডিমের উৎপাদন ব্যয়ের ৭১ শতাংশ মুরগির খাদ্যের জন্য ব্যয় হয়। খাদ্যের দাম কমলে লাভ, বাড়লে লোকসান হয়। ২৫ টাকার খাবার এখন ৩২-৩৬ টাকা। ওষুধ ও টিকার বাজারও স্থিতিশীল নয়। উৎপাদন খরচ বাড়লেও ডিমের দাম বাড়ছে না। এ কারণে খামারিরা লোকসানের মুখে পড়েছেন।  জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা দীপক রঞ্জন রায় বলেন, খামারিদের যেসব সমস্যা আছে, তা জাতীয় পর্যায় ও মন্ত্রণালয়ের ব্যাপার। এ ব্যাপারে আমার কিছু করার নেই। তবে খামারিদের স্থানীয় কোনো সমস্যা থাকলে জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে আমরা সমাধানের চেষ্টা করব। 

You May Also Like