স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াই পশু জবাই করা হচ্ছে যত্রতত্র

রংপুর থেকে সংবাদদাতা ॥

 রংপুররের তারাগঞ্জে হাটবাজারে প্রতিদিন শতাধিক পশু জবাই করা হয়। এসব পশু জবাইয়ের জন্য নির্দিষ্ট কোনো স্থান নেই। সড়ক বা বিদ্যালয়ের পাশে ব্যবসায়ীরা পশু জবাই করছেন। ফলে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। আবার পশু জবাইয়ের আগে রেজিস্টার্ড পশু চিকিৎসক দিয়ে পরিক্ষার নিয়ম থাকলেও তা করা হচ্ছে না। তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোস্তফা জামান বলেন, জবাই করা পশুর রক্ত ও বর্জ্যে মারাক্তকভাবে পরিবেশ দূষিত হয়। এতে নানা সংক্রমক রোগ ছড়াতে পারে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিনুল ইসলাম বলেন, যেসব বাজারে পশু জবাইয়ের নির্দিষ্ট স্থান নেই, পরিকল্পনা করে সে-সব বাজারে জবাইখানা তৈরি করা হবে। আর শিগগিরই মাংসের বাজারগুলোতে অভিযান চালানো হবে। অসুস্থ পশু জবাইয়ের অভিযোগের সত্যতা পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইউএনওর কার্যালয় থেকে জানা গেছে, উপজেলায় পাঁচটি ইউনিয়নে ১৮টি হাটবাজার রয়েছে। প্রতিদিন  এসব হাটবাজারে শতাধিক গরু-ছাগল জবাই করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, অনেক পশু বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত থাকে। বিভিন্ন এলাকা থেকে কম দামে এসব রোগাক্রান্ত পশু কিনে জবাই করে ব্যবসায়ীরা লাভবান হচ্ছেন। উপজেলার সবচেয়ে বড় বাজার তারাগঞ্জ। এখানে গত শুক্রবার  ও সোমবার হাট বসে। প্রতিদিন বসে বাজার। প্রতি হাটে ২০ থেকে ২৫টি গরু, ছাগল জবাই করা হয়। জবাইয়ের আগে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার নিয়ম থাকলেও  এ হাটের ব্যবসায়ীরা তা মানছেন না। পশু জবাইয়ের আগে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের চিকিৎসকদের পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার কথা থাকলেও তাঁরা এ বিষয়েও উদাসীন। ওই হাটে মাংস কিনতে আসা থানাপাড়া গ্রামের ছকমাল হোসেন বলেন, ‘প্রতিদিন এখানকার কসাইদের কেউ না কেউ অসুস্থ গরু-ছাগল জবাই করেন। তাই মাংস কেনার জন্য ভোরে এসে দাঁড়িয়ে থাকি। যে কসাই সুস্থ গরু জবাই করেন, তাঁর ছাদ থেকে মাংস কিনি। কিন্তু কোনো দিনও এখানে পশু জবাইয়ের আগে পশু চিকিৎকসকে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে দেখিনি।’ বাজারের মাংস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘পশু হাসপাতালের চিকিৎসক না এলে হয়েছেটা কী। আমরা সুস্থ পশু কিনে তা জবাই করে মাংস বিক্রি করি। এতে অন্যায় কী আছে? উপজেলা সদর থেকে সাত কিলোমিটার দূরে ইকরচালী বাজার। তারাগঞ্জ বাজারের পর এটিই সবচেয়ে বড় হাট। প্রতিদিন  এ হাটে ১০ থেকে ১২টি পশু জবাই করা হয়। কিন্তু এ হাটে পশু জবাইয়ের নির্দিষ্ট স্থান নেই। ইকরচালী উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে পশু জবাই করা হচ্ছে। এতে দুর্গন্ধে শিক্ষার্থীরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। ওই মাংস শেডের পাশের মুদি দোকানি মনিরুল ইসলাম বলেন, প্রায় দিন ভোরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই মাংস বিক্রেতারা ইকরচালী উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে অসুস্থ গরু-ছাগল জবাই করেন। নিষেধ করলেও তাঁরা শোনেন না। আর অনেক ভোরে গরু জবাই করার কারণে জবাই করা গরু সুস্থ না অসুস্থ, ক্রেতারা তা বুঝতে পারেন না। মাংস ব্যবসায়ী মোফাজ্জাল হোসেন বলেন, ‘হামরা তো পশু ডাক্তারোক আসপারে কই। কিন্তু ওমরা আইসে না। ডাক্তোর না আইলে হামরা কী করমো।’ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, নিয়ম অনুযায়ী উপজেলা পশুসম্পদ বিভাগের ছাড়পত্র নেওয়ার পর পশু জবাই করতে হয়। কিন্তু হাসপাতালের বেশ কয়েকটি পদ শূন্য আছে। মাংস ব্যবসায়ীরা তো হাটের দিন ভোরে পশু জবাই করে। আমার একার পক্ষে একসঙ্গে সব হাট যাওয়া সম্ভব না।’ 

You May Also Like