গাইবান্ধায় মিললো বিরল প্রাজতির ‘কালা শকুন’

  • Posted on 30-01-2020 18:13:57
  • About

গাইবান্ধা থেকে সংবাদদাতা ॥ 

কালা শকুন । নিকষ কালো পেখম আর তীক্ষè চোখ। পৃথিবীর বিরলতম ভবঘুরে স্বভারের এই পাখি বাংলাদেশের বাসিন্দা নয়। পথ ভুলে অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় এরা বাংলাদেশে আসে। উড়তে না পারলেই ধরা পড়ে। গাইবান্ধার তরফকাল গ্রাম থেকে বিরল প্রজাতির একটি কালা শকুন উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত সোমবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়রে তরফকাল গ্রাম থেকে শকুনটিকে উদ্ধার করা হয়। গত মঙ্গলবার বিকেলে শকুনটিকে দিনাজপুরের সিংরিয়া বন বিভাগের শকুন লালন-পালন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে এক ঝাঁক পাখি উত্তর দিক থেকে দক্ষিণ দিকে যাচ্ছিল। হঠাৎ দল থেকে একটি পাখি মাটিতে পড়ে যায়। ওই গ্রামের ফাঁকা জমিতে বিরল প্রজাতির এই পাখিটিকে দেখে স্থানীয়র। তারা পাখিটি ধরে বেঁধে রাখে। গাইবান্ধা সরকারি কলেজের পরিবেশবাদী সংগঠন ‘তীর’ এর সদস্যরা বিয়য়টি জানতে পেরে পুলিশে খবর দেয়। পরে তাদের সহায়তায় শুকুনটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। গাইবান্ধার সদর থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. শাহরিয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পাখিটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। থানায় পাখিটিকে বেশ কয়েকটি মুরগির মাংস খাওয়ানো হয়। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব ন্যাচারের (আইইউসিএন) ভালচার কন্সালটেন্ট মিজানুর রহমান জানান, ‘শকুনটি বিরল প্রজাতির । এই প্রজাতির শকুন বাংলাদেশে সচরাচর দেখা যায় না। ধারণা করা হচ্ছে মাইগ্রেট করার সময় দীর্ঘযাত্রার ক্লান্তি আর প্রচন্ড শীতের কারণে দুর্বল হয়ে শকুনটি মাটিতে পড়ে যায়। গাইবান্ধা জেলা  বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুছ সবুর হোসেন বলেন, সোমবার উদ্ধার হওয়া ৩ ফুট উচ্চতার আনুমানিক ১৫ কেজি ওজনের শকুনটি অপ্রাপ্তবয়স্ক। শকুনটিকে মঙ্গলবার বিকেলে দিনাজপুরের সিংরিয়া বন বিভাগের শকুন লালন-পালন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ইন্টারন্যাশানাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব ন্যাচার (আইইউসিএন) বাংলাদেশের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার সীমান্ত দিপু এই প্রজাতিটিকে কালা শকুন বলে চিহ্নিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘কালা শকুন শুধু বিরলই নয়, বিরলতম একটি পরিযায়ী পাখি। এরা পাহাড়ের খাদে কিংবা উঁচু গাছে বাসা বাঁধে। বছরে মাত্র একটি ডিম এবং সেটি হতে চলা প্রাণী শকুন। তাই শকুনমাত্রই বিশ্বে ‘মহাবিপন্ন’।বাংলাদেশে শকুনের পরিস্থিতি খুবই খারাপ। আইইউসিএন এর হিসেবে বাংলাদেশে মাত্র ২৬৮টি শকুন রয়েছে। কিন্তু পশু চিকিৎসায় ডাইক্লোফেনাক ও কেটোপ্রোফেনের ব্যবহার, খাদ্য সংকট এবং বাসস্থান সংকটসহ নানা প্রতিকূল পরিবেশের কারণে প্রকৃতির ঝাড়ুদার হিসেবে পরিচিত এই পাখিটি হারিয়ে যাচ্ছে। শকুন বিলুপ্ত হয়ে গেলে সুন্দর একটি পাখি হারানো পাশাপাশি দেশের মানুষ এনথ্রাক্স, জলাতনস্কহ পশু হতে সংক্রামক রোগের ভয়াবহ ঝুঁকিতে পড়বে। বন বিভাগ-সহ আইইউসিএন শকুন রক্ষায় বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পাখিটির প্রতি আমাদের সদয় খুবই প্রয়োজন। 

You May Also Like