চীনের মধ্যাঞ্চলীয় শহর উহানের একটি পশু বাজারে অবৈধভাবে চলা বন্যপ্রাণী ব্যবসা থেকে গত বছরের শেষ দিকে প্রাণঘাাতী এ করোনাভাইরাসটির সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে

আমিষ ডেস্ক ॥ 

নতুন একটি কারোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে এর উৎস বলে বিবেচিত চীনের উহান শহরের গণপরিবহন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে যাচ্ছে নগর কর্তৃপক্ষ। গত শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া নতুন চান্দ্র বর্ষের ছুটির দিনগুলোতে যখন কোটি কোটি চীনা নাগরিক দেশ-বিদেশে ভ্রমণ করবে তখন উহানের এক কোটি ১০ লাখ বাসিন্দাকে শহর না ছাড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, জানিয়েছে, বিবিসি। শ্বাসযন্ত্রে অসুখ সৃষ্টিকারী নতুন এ ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাবে চীনে এ পর্যন্ত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে ও প্রায় ৬০০ লোক আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ‘হাঁচি, কাশির মাধ্যমে’ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকা ও রোগটি চীনের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি সৃদুল  যুক্তরাষ্ট্রসহ  অন্যান্য কয়েকটি দেশেও ছড়িয়েছে ভাইরাসটির বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষেগুলো বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ধারণা করা হয়, চীনের মধ্যাঞ্চলীয় শহর উহানের একটি পশু বাজারে অবৈধভাবে চলা বন্যপ্রাণী (কুকুর, বিড়াল, সাপ) ব্যবসা থেকে গত বছরের শেষ দিকে প্রাণঘাতী এ করোনাভাইরাসটির সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন দেশে বেশ কয়েকজন আক্রান্ত শনাক্ত হওয়ার পর ভাইরাসটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে বলে শঙ্কা তৈরী হয়েছে এ পর্যন্ত মৃত্যুর সব ঘটনা উহান যে প্রদেশে অবস্থিত সেই হুবেইতেই ঘটেছে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া নগরবাসীদের শহর না ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয় সরকার। ২০০২-০৩ সালে সার্স ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে প্রায় ৮০০ লোকের মৃত্যু হয়েছিল। ওই সময় প্রাদুর্ভাবে প্রায় ৮০০ লোকের মৃত্যু হয়েছিল। ওই সময় প্রাদুর্ভাবের বিভিন্ন তথ্য গোপন করেছিল চীনের কমিউনিস্ট সরকার। কিন্তু এবার জনগণের উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে আক্রন্তের সংখ্যার প্রতিদিনের হালনাগাদ দিচ্ছে তারা। গত বৃহস্পতিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রতিবেদনে কর্তৃপক্ষ বুধবার পর্যন্ত ৫৭১ জনের আক্রান্ত হওযার কথা ও ১৭ জনের মৃত্যু হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে। এর পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী আরও আট জনের আক্রান্ত হওয়ার কথা জানা গেছে। ভাইরাসটিকে আক্রান্ত চার জনকে শনাক্ত করার কথা জানিয়েছে থাইল্যান্ড এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের প্রত্যেক একজন করে আক্রান্ত হওয়ার কথা জানিয়েছে।

You May Also Like