কেমন যাবে ২০২০?

দিলরুবা জামান ॥ 

পুরাতনকে ঝেড়ে নতুনকে আলিঙ্গন করে ২০২০ সালকে আমরা বরণ করে নিয়েছি। দেশ জাতি সমাজ এখন স্বপ্নে বিভোর, আশার আলো খুঁজবে নতুন বছরকে ঘিরে। তবে আমরা বিশেষ করে কৃষি, মৎস্য, পোলট্রি, ডেইরী, শিল্প এবং এই শিল্পের উদ্যোক্তা পালনকারী খামার মালিক এদের স্বপ্নকে স্বপ্নের ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য, তাদের স্বপ্নকে বাস্তবায়নের জন্য সচেষ্ট থাকব। নতুন বছরের প্রথম সপ্তাহে পোলট্রি সেক্টরের একটি খবর আমাদের মর্মাহিত করেছে। খবর এসেছে ৭০ টাকার বাচ্চা ২০ টাকায় বিক্রি, লাগামহীন খাদ্য মূল্য, এই শিল্পে বিদেশী বিনিয়োগ কারীদের দৌরাত্ব অসম প্রতিযোগিতার মুখোমুখি স্বল্প পুজির প্রান্তিক খামারীরা। সাথে নতুন করে এই শিল্পের যোগ হয়েছে এ্যাডভান্স ট্যাক্স (অঞ) পদ্ধতি, বন্দরে পরীক্ষা নীরিক্ষার নামে শুল্ক বিভাগের হয়রানী। সব মিলে এই শিল্পে ৩৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ এখন হুমকীর মুখে অবস্থান করছে। বিদায়ী বছর ২০১৯ ছিল এসবকে ঘিরে, কিন্তু নতুন বছরেও একই পুনরাবৃত্তি ঘটবে কেন? সমাধানে সরকার কতটুকু সচেষ্ট হবে? এসব প্রশ্নের উত্তর জানার বা সমাধানের জন্য নতুন বছরের শুরু থেকেই সবারই সমন্বয়ে বের করার চেষ্টা করতে হবে। শিল্পের বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে আরো কঠোর মনোভাব প্রকাশ করতে হবে। অপ্রিয় হলেও সত্য এসব সেক্টরের অধিকাংশ নেতৃবৃন্দ কেন জানি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের বেশি বেশি তোয়াজ তদবির করে চলে। নিজেদের চেষ্টার সাফল্যকে নিজেরাই জলাঞ্জলি দিয়ে থাকে। আর বোধহয় এ জন্যই পদে পদে ধাক্কা সইতে হয় বিশেষ করে পোলট্রি শিল্পে। 
জাতীয় মেধা শক্তি ও পুষ্টি সরবরাহে পোলট্রি শিল্পের উদ্যোক্তরা যে ভূমিকায় আজ অবর্তিন্য হয়েছে। জিডিপি অর্থনৈতিক খাতসহ বেকার সমস্যার সমাধানে পোলট্রি শিল্প আজ দেশের মডেল হিসেবে চিহ্নিত। এখানে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কৃতিত্বের পারসেন্ট কতটুকু তা বলাই বাহুল্য। আমাদের ২৩ বছরের বাস্তব দেখা বা অভিজ্ঞতায় এর পারসেন্ট খুজে পাওয়া যায় না। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যারা এসব শিল্পে কৃতিত্বের অধিকারী সরকারের পক্ষ থেকে তাদেরকে ভেরি ভেরি ইমপর্টেন্ট পারসন (ঠঠও) গণ্য করা হয় থাকে। বেশিদুর নয়, খোঁজ নিলেই জানা যাবে, ভারতে এ শিল্পের লোকজনদের কদর কত বেশি সরকারের কাছে। আর এজন্যই এ শিল্পে তাদের ভর্তুকীসহ স্বল্পঋণে ব্যাংক ঋণের সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয় থাকে। 
২০২০ সাল, আমাদের পরিবর্তন পরিবর্ধন আনতে হবে। মানুষ বেঁচে থাকলে বদলায়, মুহুর্তে মুহুর্তে বদলায়, মরে গেলেও বদলায়। বদলায় না কেবল আমদের কৃষক সমাজ, শরীরে সেই একই রকম মাটির সদাঁ গন্ধ, নেংটি পরা এসব মানুষগুলো কালও যেমন আজও তেমন। ভগ্নাসার শরীরে হাড়ভাংগা পরিশ্রমে আমাদের জন্য উৎপাদন করছে খাদ্য। বিনিময় লোকসান ছাড়া কিছুই জুটছে না তাদের কপালে বা ভাগ্যে। ঘড়ির পেন্ডুলাম এর মত জীবন যাপন করছে আমাদের কৃষক সমাজ। ২০২০ বিশবিশ, কুড়িকুড়ি তে আমাদের কৃষক আমাদের গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি ও মৎসের প্রতি আরো বেশি বেশি যতœবান হতে হবে। সরকার বাধ্য করতে হবে শিল্পের নীতিবাচক দীকগুলোকে দুর করে ইতিবাচক ভূমিকা পালনে। আমরা জানি এবং বলেছি ২০১৯ আমাদের মোটেও ভালে যায় নি। এখন কেমন যাবে ২০২০ তা শিল্পের উদ্যোক্তাদেরই ভাবতে হবে বেশি করে। পাশাপাশি সরকারের কাছে নিজেদের স্বচ্ছ ও নির্ভেজাল উপযুক্ত অধিকার বা দাবী আদায় করে নিতে হবে। দরকার হলে চাপ প্রয়োগে এমনকি আন্দোলনের মাধ্যমে। মনে রাখতে হবে তোয়াজ করে অধিকার আদায় কখনই সম্ভব নয়। 
লেখক: 
প্রধান বার্তা সম্পাদক 
সাপ্তাহিক কৃষি ও আমিষ। 
 

You May Also Like