অভয়াশ্রমে মাছের চলাচল ব্যহত, ঝুঁকিতে তীর

ঠাকুরগাঁও থেকে সংবাদদাতা ॥

 ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় আইন লঙ্ঘন করে টাঙ্গন নদের তলদেশ ও চর থেকে বালু তুলে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে নদের পাড় ভেঙে বিলীন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। একই কারণে বনুয়াপাড়া অভয়াশ্রমে মা মাছের অবাধ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এলাকার লোকজন জানান, দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার সুলতানপুর গ্রাম ও পীরগঞ্জের বনুয়াপাড়া গ্রামের মাঝামাঝি টাঙ্গন নদে জেগে ওঠা চরসহ নদের তলদেশ থেকে বালু কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তিন থেকে চার মাস ধরে বোচাগঞ্জ উপজেলার একাধিক শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিক ও ব্যবসায়ীরা এ কাজ করছেন। দিনে দুই-আড়াই শ বার ট্রাক্টরে করে বালু নিয়ে যাওয়া হয়। পীরগঞ্জের বনুয়াপাড়া গ্রামের কিসমত আলী ও বোচাগঞ্জের বনগাঁও গ্রামের হামিদুর রহমান জানান, টাঙ্গন নদের পারের বালুতে ১০-১২ একর জমিতে ভুট্টার আবাদ ছিল। প্রায় তিন মাস ধরে সেখান থেকে বালু তোলা হচ্ছে। ট্রাক্টরগুলো নদীর পূর্ব পাশে সুলতানপুর বাজারের পাশ দিয়ে বোচাগঞ্জের কয়েকটি ইটের ভাটা ও ব্যবসা কেন্দ্রে বালু নিয়ে যাচ্ছে। বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ৬২-এর ৪-এর ‘গ’ উপধারায় বলা হয়েছে, বালু ও মাটি উত্তোলন বা বিপণনের উদ্দেশ্যে খননের ফলে নদীর তীর ভাঙনের শিকার হতে পারে, এরূপ স্থান থেকে বালু ও মাটি উত্তোলন করা যাবে না। জানতে চাইলে পীরগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ‘এমনিতেই টাঙ্গনের পানি কমে যাওয়ায় কদমতলী মৎস্য অভয়াশ্রমে মা মাছের অবাধ বিচরণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যেভাবে বালু তোলা হচ্ছে, তাতে অভয়াশ্রমসহ এই এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। নদীর পানির গতিপথ পরিবর্তিত হবে এবং মূল প্রবাহের গভীরতা কমে যাবে। যেকোনো মূল্যে বালু তোলা বন্ধ করা দরকার। টাঙ্গন নদ মৎস্য ব্যবস্থাপনা কমিটির (এফএমসি) কয়েকজন মৎস্যজীবী বলেন, টাঙ্গনের সবচেয়ে বড় বনুয়াপাড়ার ‘কদমতলী’ মূল অভয়াশ্রমের মাছের যাতায়াতের পথটি পানি কমে সংকুচিত ও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এই অভয়াশ্রমের দক্ষিণ পাশে টাঙ্গনের পাড় থেকে বালু তোলার কারণে নদের গতিপথ বদলে যেতে পারে।্ এতে অভয়াশ্রমে মা মাছের অবাধ বিচরণ বাধাগ্রস্ত হবে। এই অবস্থায় অভয়াশ্রমটি আরও হুমকির মুখে পড়বে। মৎস্যজীবীরা অভয়াশ্রমটি রক্ষা করতে নদের পাড় থেকে বালু তোলা বন্ধ করার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। গ্রামে বুধবার বিকেলে গিয়ে দেখা যায়, বনুয়াপাড়া গ্রামে কদমতলী অভয়াশ্রমের ভাটিতে টাঙ্গনের প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ মিটার জায়গাজুড়ে চরের বালু কেটে ট্রলিতে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। অনেকগুলো ট্রাক্টর ওই জায়গায় পূর্ব-দক্ষিণের রাস্তা দিয়ে বালু নিয়ে যাচ্ছে। সুলতানপুর কবরস্থানের ওপর তৈরি হওয়া রাস্তাটি এঁকেবেঁকে নদীতে গিয়ে নেমেছে। প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, প্রতি ১৫-১৬ মিনিটেই চর থেকে গড়ে একটি করে ট্রলি বালু নিয়ে চলে যাচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বোচাগঞ্জের তিনজন ট্রাক্টরচালক বলেন, ‘আমাদের মালিকের অনেক বালু দরকার। মালিকের হুকুমেই আমরা এখান থেকে বালু তুলে নিয়ে যাচ্ছি। বালু নিয়ে ফেরার পথে ট্রাক্টর থামিয়ে এক শ করে টাকা চাঁদা নেন কয়েকজন যুবক। চাঁদা না দিলে ট্রাক্টর চরে ঢুকতেই দেন না তাঁরা। বালু নিতে আসা বোচাগঞ্জের জহুরা অটোচালকের কর্মচারী আনিসুর রহমান বলেন, ‘বালুভর্তি ট্রাক্টর ফিরে যাওয়ার সময় ট্রাক্টরপ্রতি এক শ টাকা দিয়ে পার হচ্ছি।’ জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রেজাউল করিম বলেন, নদীর পাড় কেটে বালু তোলা বেআইনি। কাউকে পাওয়া গেলে ছাড় দেওয়া হবে না। এ ব্যাপারে শিগগিরই পদক্ষেপ নেওয়া হবে। 

You May Also Like